শ্যামলবাংলা বিনোদন : মৌসুমী। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন। এ পর্যন্ত দুই শতাধিক ছবি দিয়ে তিনি দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন। আজ ৩ নভেম্বর চলচ্চিত্রের বরেণ্য এ অভিনেত্রীর জন্মদিন। কথা বললেন তিনি_ –
প্রথমেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা। কেমন আছেন?
ভালো আছি। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ধন্যবাদ।
জন্মদিনে বিশেষ কোনো আয়োজন থাকছে কি?
বিশেষ কোনো আয়োজন থাকছে না। দিতি আপার অসুস্থতার খবর পেয়ে মন ভালো নেই। তাই কোনো আয়োজন রাখিনি। এর আগের বছরও কাজের ব্যস্ততার কারণে শুটিং স্পটেই জন্মদিনের কেক কাটা হয়েছিল। এবারের জন্মদিনে দিতি আপার সুস্থতা কামনায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করছি। তবে জন্মদিনে ফাইজা, ফারদিন আর ওমর সানির সবসময় একটা সারপ্রাইজ থাকে। এবারের সারপ্রাইজ কী, এখনও জানি না।
ছোটবেলার জন্মদিনের কথা মনে পড়ে?
ছোটবেলার প্রতিটি জন্মদিনই চমৎকার ছিল। আব্বু নানাভাবে সারপ্রাইজড করতেন, আমি মুগ্ধ না হয়ে পারতাম না। আব্বু চলে যাওয়ার পর ঘটা করে জন্মদিন পালন করাটাই বন্ধ করে দিয়েছি। তবে মা মন খারাপ করেন বলে স্বামী, দুই সন্তান ফারদিন ও ফাইজা এখন আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার চেষ্টা করে। তার পরও সে সময়টা বারবার স্মৃতিতে চলে আসে।
চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা কতটুকু স্বস্তির বলে মনে করেন?
চলচ্চিত্রকে আমি সবসময় ইতিবাচক চোখে দেখি। কারণ এ শিল্পমাধ্যমে চড়াই-উতরাই খুব বেশি। এ কারণে চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত যারা, তাদের আরও সচেতন হওয়া উচিত। সবার আগে চলচ্চিত্রকে ভালোবাসা উচিত। আমার কাছে, চলচ্চিত্রের স্থান সবার ওপরে। এ কারণেই আমার বেঁচে থাকাটা এত আনন্দের। কাজের প্রতি ভালোবাসার কারণেই আমি আমার দর্শকদের এ কথা বলতে পারি। সমসাময়িক অনেক ছবি দর্শকদের আবারও হলে নিয়ে আসতে পেরেছে। আমার ধারণা, এ দর্শকের প্রয়োজনেই চলচ্চিত্র আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
প্রযোজনা ও পরিচালনার কাজ কেমন চলছে?
এ দুটো কাজই দায়বোধ থেকে করা। তাই সময় নিয়ে কাজ করি। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম থেকে আমার পরিচালনায় ‘শূন্য হৃদয়’ ছবির কাজও প্রায় শেষ। আর প্রযোজক হিসেবে ‘আমি এতিম হতে চাই’ ছবিটির পাশাপাশি আরও দুটি নিয়ে ভাবছি। এখনও গল্প আর নাম নিয়ে অনেক কিছু ভাবার আছে। তারপর কাজ শুরু করব।
অভিনেত্রী মৌসুমীর দিন কেমন কাটছে?
সারাদিন অভিনয় ও পরিবার নিয়েই ব্যস্ত। সময় যে কখন চলে যায়, টের পাই না। এরই মধ্যে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ‘রাত্রির যাত্রী’ ছবিতে একজন ছিনতাইকারীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। তাছাড়া মুশফিকুর রহমান গুলজারের ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’ ছবির কাজও শুরু করেছি। এতে একজন ব্যারিস্টার চরিত্রে আমাকে দেখা যাবে। কিছুদিন আগে ফেরদৌসের প্রযোজনায় ‘পোস্ট মাস্টার-৭১’ ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। ছবিটি সামনের বছর ২৬ মার্চ মুক্তি পাবে বলে শুনেছি। আশুতোষ সুজনের ‘আমার বাবা’ ছবির কাজও শেষ হয়েছে। এ ছবিটিও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে।




