মো. মোশারফ হোসেন, নকলা (শেরপুর) : সারা দেশের ন্যায় শেরপুরের নকলায় অভিন্ন প্রশ্ন ও সময়ে জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ বছর উপজেলায় জেএসসিতে মোট ২ হাজার ৮৫৮জন পরীক্ষার্থী। তন্মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৩৯১ জন, মেয়ে ১ হাজার ৪৬৭ জন এবং অনুপস্থিত ৪৭ জন। জেডিসিতে মোট পরীক্ষার্থী ৭১২ জন। তন্মধ্যে ছেলে ৩৪১ জন, মেয়ে ৩৭১ জন এবং অনুপস্থিত ২৩ জন। প্রথম পরীক্ষায় শান্তিপূর্ণভাবে জেডিসি’র কোরআন তাজবিদ ও জেএসসি’র বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

অন্য দিকে এক প্রধান শিক্ষকের উদাসীনতায় ২ পরীক্ষার্থী জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের রাজলক্ষ্মী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের অবহেলায় আবেদ আলীর পুত্র মো. সাইফুল ইসলাম, রোল-৯৩ এবং হাসমত আলীর পুত্র হাছিকুল ইসলাম, রোল -১২৯ এর প্রবেশ পত্র না পাওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারে নাই।
সাইফুল জানায়, সে বোর্ড ফি ও কেন্দ্র ফি বাবদ ৭শ এবং রেজি. ফি বাবদ ৫শ টাকা দিয়েছে। টাকা জমার রশিদ চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেছেন, কাউকে রশিদ দেওয়া হয়নি; তোর রশিদ লাগবে কেন?
অভিভাবকরা বলছেন আমার ছেলের জীবন থেকে সোনালী ১টি বছর ধ্বংস করে দিয়ে প্রধান শিক্ষক এখন ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। ক্ষমা তো ব্যাপার না, হারানো বছরটি কি তিনি ফেরত দিতে পারবেন। ছেলে সকল বন্ধুরা তার সিনিয়র হয়ে গেল, ফলে তার মন ভেঙ্গে গেছে। ভবিষ্যতের ফলাফলগুলো ভালো করা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী ফি বাবদ কোন টাকা দেয়নি। বারবার তাগিদ দিয়েও কেন্দ্র ফি ও রেজিঃ বাবদ কোন টাকা পাওয়া যায়নি। তাকে হেয় করার জন্য গুজব রটাচ্ছে মন্তব্য করে বলেন, তার বিরুদ্ধে কিছু অসাধু লোক লেগে থেকে সুবিধা ভোগ করতে চায়।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাজু সাঈদ সিদ্দিকী বলেন, ভুল করা মানুষের স্বভাব, আর মা করা মহত্বের লক্ষণ। প্রধান শিক্ষক অজান্তে ভুল করে ফেলেছেন, তাই ক্ষমা করে দিতে অভিভাবকদের অনুরোধ জানান তিনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, তাদের কাছে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




