শ্যামলবাংলা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিকতর যোগ্য, দক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের উচ্চতর পদে পদোন্নতির দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জেনারেলদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি ২৬ জুলাই রবিবার সেনা সদর দফতরে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৫-এ ভাষণকালে ওই নির্দেশনা দিয়েছেন। খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদেরকে সব কিছুর উর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার বিশ্লেষণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, দেশপ্রেমিক যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে হবে। সেনাবাহিনীতে যারা নেতৃত্ব দিবেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে আপনারা অধীনস্থদের প্রতি যত্নবান হবেন।’
প্রতিরক্ষা সচিব কাজী হাবিবুল আওয়াল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মাদ শফিউল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যাালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী উচ্চ পদে পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং নেতৃত্বের যোগ্যতাকে বিবেচনায় নিতে জেনারেলদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘উপযুক্ত ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমেই যেকোন বিজয় বা সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।’ প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতির জন্য জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাসহ জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকেও মূল্যায়নের পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনীর প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল অবিচল আস্থা, গভীর বিশ্বাস এবং অকৃত্রিম ভালবাসা। এজন্য তিনি নিজ সন্তানদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন।’ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সেনাবাহিনীর উন্নয়নে কাজ করেছে-এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিগত ৬ বছরে তার সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর জন্য যা কাজ হয়েছে ইতোপূর্বে তা আর কোনো সরকারের আমলে হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে তার সরকার সেনাবাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে অনেকগুলো ইউনিট গঠন এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার এবং এনসিও’স একাডেমির মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠা করেছে।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমান সরকার সেনাবাহিনীকে আরও কার্যক্ষম ও যুগোপযোগী করতে অত্যাধুনিক মেইন ব্যাটেল ট্যাংক, সেলফ প্রোপেল্ড গান সিস্টেম, রাডার, এন্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন, মাল্টিপল লঞ্চড রকেট সিস্টেম, আর্মাড পার্সোনেল ক্যারিয়ার, ইউটিলিটি বিমান ছাড়াও সিগন্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি ক্রয় করেছে।’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের ১ বিলিয়ন ডলার সামরিক ঋণ প্রোটোকলের আওতায় ৬টি এম আই-১৭১ হেলিকপ্টার, ৩৩০টি এপিসি এবং ১০টি আর্মাড রিকভারি ভেহিকেল ক্রয় এবং ১৭৪টি টি-৫৯ ট্যাংকের উন্নীতকরণের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেনাবাহিনীর ফায়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে এক ব্যাটারী এমএলআরএস ক্রয় করা হয়েছে এবং আরও দুইটি এমএলআরএস ব্যাটারি ২০১৬ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীতে সংযোজনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ এমএলআরএস রেজিমেন্ট সাভার সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এছাড়া ২০১৭ সালের মধ্যে দুইটি এফএম-৯০, সারফেস টু এয়ার মিসাইল রেজিমেন্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযোজিত হবে। এতে সেনাবাহিনীতে সমর শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তারা আরও পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে পারবে।’
বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভুমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং সেনাবাহিনী আজ দেশে-বিদেশে আস্থা ও শৃঙ্খলার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা এবং ফ্লাইওভার ও সেতুসহ অবকাঠামো নির্মাণে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।




