অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্নস্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাদকদ্রব্য। গাঁজা, ভাং, ফেন্সিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সহজলভ্য হওয়ায় উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। প্রশাসন এ বিষয়ে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন স্পট থেকে অভিযান চালিয়ে মাদকবিক্রেতাদের গ্রেফতার করলেও কয়েকদিন পরেই তারা ছাড়া পেয়ে আবার পুরোদমে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, আগৈলঝাড়ায় গাঁজা, ফেন্সিডিলের পাশাপাশি বর্তমানে যৌণ উত্তেজক ট্যাবলেট ইয়াবাও পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও ড্যান্ডি নামক সগামের ব্যবহার এখন মাদক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। স্বল্পমূল্যে সহজে প্রাপ্তির জন্য এটি এখন মাদকসেবীদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা-পাতিনেতাদের ছত্রছায়ায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে মাদক বিক্রির সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এসব স্থানে উঠতি পাতিনেতারা অবাধে মাদক বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে। এদের অধিকাংশ আবার যথেচ্ছ সেবনের সাথেও জড়িত। মাদক বিক্রি ও সেবনের কয়েকটি চিহ্নিত স্পট হচ্ছে- গৈলা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, গৈলা বাজার, গুচ্ছগ্রামসহ ২-৩টি জায়গা, গৈলা এতিমখানার পাশে মতি সরদারের বাড়ি, উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড, থানার উত্তরপাশের টেম্পোস্ট্যান্ডসহ ২-৩ জায়গা, পয়সারহাটের পূর্ব ও পশ্চিমপাড়ের বাসস্ট্যান্ড, বাগধা, পাকুরিতা স্কুল এলাকা, নওপাড়া গ্রামে হেলান মোল্লার পুত্র শুক্কুর আলী, জোবারপাড়-নাঘিরপাড়ের ব্রিজ ও স্কুল এলাকা, বড়মাগরার উত্তরপাড়, আস্কর বাঁশতলায় আয়নাল ও কবির, কান্দিরপাড়ে সোহাগ মেকার, ছয়গ্রাম বন্দর, মিশ্রিপাড়া হাট ও স্লুইজগেট, কালুরপাড়, সাহেবেরহাট, রাজিহার, রামেরবাজার, রামানন্দেরআঁক, মোল্লাপাড়াসহ আরও কয়েকটি জায়গায় প্রতিনিয়ত মাদকবিক্রি ও সেবন চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, টেকেরহাটে চেকপোস্ট বসার কারণে মাদক পাচারকারীরা আগৈলঝাড়া বা এর আশেপাশে কোন পুলিশী চেকপোস্ট না থাকায় নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে যশোর-খুলনা-গোপালগঞ্জ থেকে মাদকের চালান পয়সারহাট-আগৈলঝাড়া হয়ে বরিশালসহ দণিাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাচার করে। এর নেতৃত্বে রয়েছে আমবৌলা গ্রামের জনৈক তরুণ বিএনপি নেতা। এছাড়াও আগৈলঝাড়ার অপর এক ব্যক্তি পরোভাবে এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে ঘনিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে। মাদকের সাথে অস্ত্র চোরাচালান সিন্ডিকেটও ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে পয়সারহাট বন্দর, আশ্রায়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকা। ফলে এ এলাকায় ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, আগৈলঝাড়ায় বর্তমানে গাঁজা, ফেন্সিডিলের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌণ উত্তেজক ট্যাবলেট ইয়াবাও পাওয়া যাচ্ছে। এরকমই একটি মাদকের অভয়ারণ্য হচ্ছে পূর্ব সুজনকাঠি এতিমখানার পূর্বপাশের মতি সরদারের বাড়ি। মতি অভিনবপন্থায় গাঁজা বিক্রি করে। পূর্বে রিক্সা ও বর্তমানে ইজিবাইক চালানোকে পূঁজি করে মোবাইলের মাধ্যমে স্ত্রী ও মাকে দিয়ে সে এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। মতি মাদকদ্রব্য মামলায় জেলে গেলেও তার স্ত্রী রুবিনা ও মা হাসিনা বেগম এ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। একই গ্রামের জনৈক হাফিজ ঢাকায় হেরোইনের ব্যবসা করে ৩বার গ্রেফতার হয়েছিল। বর্তমানে এলাকায় নিজবাড়িতে বিলাসবহুল জীবনযাপন করলেও আড়ালে পূর্বের ব্যবসা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাপটে এলাকার সাধারণ মানুষ দিশেহারা। সাহেবেরহাট থেকে মন্টুকে একাধিকবার স্থানীয় লোকজন মাদক বিক্রি করতে নিষেধ কররেও সে তা ছাড়তে না পারায় কিছুদিন পূর্বে গণধোলাই খেয়ে বাজারে তার বসবাস নিষেধ করা হয়। পরে সে কতিপয় প্রভাবশালীকে ম্যানেজ করে পুনরায় বসবাস ও গাঁজা বিক্রি শুরু করলে গত ৮ অক্টোবর হাতেনাতে ধরা পরলে মন্টু অভিনব কায়দায় পালিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয় গাঁজা ক্রেতা। গত একবছরে পুলিশের ব্যাপক অভিযানে কেউ কেউ গ্রেফতার হলেও অল্পদিনের মধ্যেই অজানা কারণে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। অনেকেেত্র পুলিশ থানায় আনার পথেই অনৈতিক সুবিধা ভোগ করে কাউকে ছেড়ে দেবার অভিযোগও রয়েছে। ছাড়া পাবার পরই তাদের দাপট ও বিক্রির কৌশল আরও বেড়ে যায়। তাদের বক্তব্য, জায়গামত টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা করছে। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের হাত থেকে যুবসমাজকে রা করতে জনগণ প্রশাসনের সুনিয়ন্ত্রিত হস্তপে কামণা করছে।

আগৈলঝাড়ায় সাবেক মন্ত্রী সুনীল গুপ্ত’র ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী
সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয়পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত সুনীল গুপ্তের ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলে তার নিজ বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বিকেলে উপজেলার গুপ্তেরহাটে প্রয়াত সুনীল গুপ্তের স্মরণে তার অনুসারী কর্মীরা স্মরণ সভার আয়োজন করেছে। এতে রাজনৈতিক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক, সুশীলসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীতে প্রয়াত মন্ত্রীর বাসভবনে অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তার পরিবারসূত্রে জানা গেছে ।




