শাহ্ আলম শাহী,দিনাজপুর : উত্তরের শস্য ভান্ডার দিনাজপুরে সর্বনিন্ম তাপমাত্রা,ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে কোল্ড ইনজুরী ছত্রাকে আক্রান্ত হয়ে বোরো বীজতলা বিনষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে অবরোধ ও হরতালের কারণে পরিবহণ জটিলতায় জ্বালানী তেল ডিজেল,ইউরিয়া সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং কৃষি শ্রমিক সংকট ও শ্রম মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ইরি-বোরো চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। তবে ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহ থেকে বীজতলা বাঁচাতে এবং অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে রোরো চাষাবাদ করার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
জমি চাষ, তৈরি,বোরো বীজ তোলা ও বোনার কাজে এখন ব্যস্ত দিনাজপুরে কৃষক। জেলায় এবার এক লাখ ৭৫ হাজার ৮’শ ৫৯ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের ল্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বোরো বীজ তোলার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৩’শ ১০ হেক্টর জমি। কিন্তু সর্বনিন্ম তাপমাত্রা,ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলা বিনষ্ট হচ্ছে। কোল্ড ইনজুরী ছত্রাকে আক্রান্ত হয়ে হলদে ফ্যাকাতে ধারণ করেছে বোরো বীজতলা। এতে বোরো চাষাবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।
অন্যদিকে অবরোধ ও হরতালের কারণে পরিবহণ জটিলতায় জ্বালানী তেল ডিজেল,ইউরিয়া সার ও কীটনাশক এর দাম বেড়ে গেছে। এছাড়াও কৃষি শ্রমিক সংকট এবং শ্রম মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ইরি-বোরো চাষাবাদে হিমসিম খাচ্ছেন কৃষক। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আমনের ভাল দাম না পাওয়ায় ইরি-বোরো নিয়েও তারা শংকায় পড়েছেন।
তবে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহ থেকে বীজতলা বাঁচাতে এবং অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে রোরো চাষাবাদ করার তারা পরামর্শ দিচ্ছেন। শৈত্য প্রবাহে কোল্ড ইনজুরী ছত্রাকে আক্রান্ত থেকে বীজতোলা বাচাতে শুকনো বীজ তোলা তৈরী করছেন কৃষক। বিকেলে বীজতোলা জমিতে গরম পানি দিয়ে আইন বেধে রেখে সেই পানি আবার সকালে ছেড়ে দিচ্ছেন। এছাড়াও পলিথিন দিয়ে ঢেকে বাখা হচ্ছে বীজতোলা।
এদিকে শুধু প্রচন্ড হাড় কাপানো শীতে ক্ষেতে কাজ করতে পারছে না কৃষি শ্রমিক। ঠান্ডায় কাহিল হয়ে পড়েছে তারা।
প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় চলতি বোরো মৌসুমের বীজতোলা বিনষ্ট হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়েও কোন ফল পাচ্ছে না কৃষক। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে, চলতি বোরো মৌসূম ব্যাহত হওয়ার আশংকাই করছেন, কৃষিবিদরা।




