রেজাউল করিম, শেরপুর : দূর্নীতি অনিয়ম আর অর্থ আত্মাসাতের অভিযোগে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার চেয়ারম্যানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে ৭ টি মামলার চার্জশীট অনুমোদন করেছে দুদক। এর সঙ্গে জড়িত শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সহকারি। এসব দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মসজিদ মাদ্রাসা মেরামতের কাজ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এতে আত্মসাতের অংক দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২১ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৭টি চার্জশিট অনুমোদন করেছে কমিশন। প্রত্যেক চার্জশিটেই আমিনুল ইসলাম (বাদশা) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারি শামসুল হককে আসামি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে একেক চার্জশিটে একেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকেও আসামি করা হয়েছে। একজন ইউপি চেয়ারম্যান এরই মধ্যে মারা যাওয়ায় তাকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দিয়েছে দুদক।
অপর সূত্র জানায়, দুদকের টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হবে। ১৭ নম্বর মামলার অনুমোদন হওয়া চার্জশীট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ৩ নং নলকুঁড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, উপজেলার চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম (বাদশা), অফিস সহকারি শামসুল হক পারস্পরিক যোগসাজশে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে হাফেজিয়া মাদ্রাসা মেরামতের কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের অনুকুলে ১০ মেট্রিকটন গম বরাদ্দ নিয়ে আত্মসাৎ করে। ৪নম্বর মামলার চার্জশীটে আমিনুল ইসলাম (বাদশা) ও শামসুল হক ছাড়াও হাতিবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে। তিনটি প্রকল্পে ৬ দশমিক ২০৯ মেট্রিকটন গম আত্মসাতের অভিযোগে এ চার্জশিট দেয়া হয়। কেরাতুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা মেরামত দেখিয়ে ওইসব গম বরাদ্দ নেয়া হয়েছিল। ওই চার্জশীটে ১লাখ ৫৫ হাজার ৩শ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাঁচ নম্বর মামলার চার্জশিটে অতিরিক্ত আসামি হিসেবে মালিঝিকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলার চার্জশীটে ২লাখ ৫০ হাজার ১শ ২০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২ নম্বর মামলার চার্জশিটে আমিনুল ইসলাম (বাদশা) ও শামসুল হক ছাড়াও ৪নং গৌরীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খোকাকে আসামি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ১লাখ ৫০ হাজার ৭২ টাকার গম আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। দুদক খুব শীঘ্রই ওইসব মামলার চার্জশীট প্রদান করবে বলে সূত্র জানান। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম (বাদশা) একাই ৭ টি মামলার আসামী।




