মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : দূর্ণীতি আর অনিয়মের কারণে আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে স্বপ্নের কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেল চলাচল। অব্যহত লোকসানের কারণে দীর্ঘ দুই দশক পরিত্যক্ত থাকার পর এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে বিগত মেয়াদে আওয়ামীলীগ সরকার ১১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেললাইন পুনঃস্থাপন ও কাশিয়ানী-টুঙ্গিপাড়া নতুন রেললাইন নির্মানের প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে চলতি বছর কালু-খালী ভাটিয়াপাড়া লাইনে রেলচলাচল শুরু হয়। বর্তমানে গোয়লন্দ থেকে ভাটিয়াপাড়া পর্যন্তু একটি আন্তঃনগর মেইল ট্রেন চলাচল করছে। লোকবল ও বেশ কিছু স্টেশনের পুনর্বাসন কাজ শেষ না হওয়ায় এখন পর্যন্তু লোকাল ট্রেন দেওয়া হয় নাই। তবু যাত্রী পরিবহনে চলছে অনিয়ম ও দূর্ণীতির মহোৎসব। পবিত্র ঈদুল আযহার আগে ও পরে যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট প্রতি অতিরিক্ত ৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার, টিটি ও জিআরপির যোগ সাজসে যাত্রীরা টিকিট ক্রয় করতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট না বিক্রি করে লোকজন নিয়ে স্টেশন মাস্টার তার রুমেই টিকিট সরবারহ করে, টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায় তাদের খাবার সেখানে সাজিয়ে রেখেছে। ট্রেন চালু অবস্থায় ঐ সকল যাত্রীদের নিকট থেকে টিটি ও জিআরপি নগদ টাকা আদায় করলেও টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। পরে ঐ টাকা সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার অভিয়োগ পাওয়া গেছে। এদিকে গত দুই তিন যাবত সরজমিনে দেখা যায় প্রত্যেক যাত্রীর নিকট থেকে টিকিট প্রতি ৫ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে। শনিবার মধুখালী রেল স্টেশনে সাংবাকিদের উপস্থিতি টের পেয়ে সাময়ীকভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ রাখা হলে সুযোগ বুঝে অনেক যাত্রীকে অতিরিক্ত টাকা ফেরত আনতে দেখা যায়। যাত্রীদের মধ্যে মোঃ কামরুল ৬ টি টিকিট ক্রয় করেন ভাটিয়াপাড়া যাবেন বলে, তিনি বলেন তাদের নিকট থেকে টিকিটের মূল্য প্রতি টিকিটে ৫ টাকা করে বেশি নিয়েছে এবং আরেক যাত্রী আসাদ তিনি বোয়ালমারি যাবেন তার কাছ থেকে ৩৭ টাকার স্থলে ৪০ টাকা আদায় করা হয়েছে ও এই রকম সকল যাত্রীদের কাছ থেকেই বেশি টাকা নিচেছ। এ ব্যাপারে মধুখালী স্টেশন মাস্টার মোঃ মোসলেম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন উত্তরে বলেন, ভাংতি টাকার অভাবে এবং ঈদ উপলক্ষ্যে দুই এক টাকা বেশী নেওয়া হচ্ছে। ইতোপূর্বে মধূখালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একদল কিশোর ট্রেন ভ্রমনে ভাটিয়াপাড়া গেলে উক্ত স্টেশন মাস্টার তাদের নিকট থেকে যাওয়া এবং আসার ভাড়া জনপ্রতি ৮০ টাকা আদায় করে শুধু যাওয়ার জন্য ৪০ টাকা মূল্যের টিকিট দিয়ে প্রতারনা করেন। ফেরার পথে ট্রেনের টিটি ও জিআরপি তাদের নিকট থেকে পুনরায় ভাড়া আদায় করলে স্কুলপড়–য়া ঐসব কিশোররা স্টেশন মাস্টার এর কাছে টাকা ফেরত চাইলেও তিনি ফেরত দেন নাই বলে জানা গেছে। এদিকে কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার কর্তৃক যাত্রীসাধারণকে টিকিট কিনতে নিরুৎসাহিত করায় অধিকাংশ যাত্রী নগদ টাকায় ট্রেনে চলাচল করছে যা রেলের তহবিলে জমা হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে লোকসানের কারনে আবারও যে কোন মুহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলচলাচল বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছে।




