কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদ-উল-আযহার জামাত। এ জামাতে তিন লক্ষাধিক মুসলি একসঙ্গে ঈদ-উল-আযহার নামাজ আদায় করেন। শোলাকিয়া মাঠের জামাতের প্রতি মুসলিদের আকর্ষন ও অংশগ্রহন ক্রমেই বাড়ছে। ফলে প্রতি বছরই জামাতের কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের সুনাম।
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের আকর্ষনীয় ও বিশাল জামাত গৌরবময় ও ঐতিহ্যবাহী করেছে কিশোরগঞ্জকে। এত সুনাম ও ঐতিহ্য সত্তে¡ও এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো নয়। এ ময়দানটি অনুচ্চ প্রাচীরে ঘেরা। সাধারণ মেহরাব এবং একটি তোরণ ছাড়া তেমন কিছুই নেই। শোলাকিয়া ঈদগাহের জামাত উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত হিসেবে বিবেচিত। হারমাঈন শরীফাঈনের পর শোলাকিয়া ঈদগাহে দেশের বৃহত্তম ও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জামাত প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে এটি অবস্থিত।
মসনদ-ঈ-আলা ঈশা খাঁর ৬ষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হয়বত খানের উত্তরসূরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪.৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহকে ওয়াকফ দেন। এলাকাবাসী তাদের ভূসম্পত্তি ও মহতী কাজের জন্য নামমাত্র মূল্য দেওয়ান মান্নান দাদ খানের কাছে এবং পরবর্তীকালে ঈদগাহ পরিচালনা ও উন্নয়ন কমিটির কাছে হাতবদল করায় এ মাঠের বর্তমান জমির পরিমাণ হয়েছে ৬.৬১ একর।
অবশ্য অজু করার পুকুর, মাঠ ও প্রস্রাবখানা মিলিয়ে এর পরিমান প্রায় ৭ একর। মাঠে প্রবেশের মুল সড়কে একটি তোরণ ও একটি দোতলা মিম্বর রয়েছে। ঈদগাহটি অনুচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত হলেও গেটগুলো অকার্যকর।
শোলাকিয়া কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি বৃহৎ ও পুরনো এলাকা। বর্তমান শোলাকিয়া নামক স্থানটির পূর্ব নাম ছিল রাজাবাড়িয়া। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব-উত্তর কোণে নরসুন্দা নদীর অববাহিকায় শোলাকিয়া নামের এলাকাটির অবস্থান। জনশ্র“তি আছে যে, শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রথমে বড় জামাতে সোয়া লাখ মুসলি অংশগ্রহণ করেছিলেন। অন্য মতে, মুঘল আমলে এখানে অবস্থিত পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়া লাখ টাকা। উচ্চারণের বিবর্তনে সোয়ালাখিয়া থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামে ঈদগাহটি পরিচিতি লাভ করে।
এবারের ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। দূর দূরান্ত থেকে আসা মুসুলিদের অংশগ্রহনের সুবিধার্থে “শোলাকিয়া এক্সপ্রেস” নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে সরকারীভাবে। একটি ট্রেন ভোর পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে এবং অপর ট্রেনটি ভোর সাড়ে ৬টায় ভৈরব থেকে কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া মাঠের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ঈদের দিন মুসুলীদের নিরাপত্তায় ঈদগাহের চারপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে।




