ads

মঙ্গলবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

সিংড়ায় মন্নাফ বাহিনীর হাতে জিম্মি ২০ গ্রামে মানুষ

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৪ ৫:১৪ অপরাহ্ণ
সিংড়ায় মন্নাফ বাহিনীর হাতে জিম্মি ২০ গ্রামে মানুষ

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের সিংড়া উপজেলার মন্নাফ চোর ও তার বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত মন্নাফ আলী ওরফে মামলাবাজ-ভন্ড মন্নাফ চোরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ি ছাড়া এলাকার কয়েক ‘শ’ পরিবার। তার অত্যাচার ও মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Shamol Bangla Ads

এলাকাবাসীরা জানান, উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের মৃত: জোতদার’র ছেলে মন্নাফ আন্তঃজেলা চোর দলের সর্দার। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় গরু চুরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে হাজারও পরিবার আজ নিঃস্ব ও গৃহ ছাড়া। বহুরুপি, ভন্ড মন্নাফ চোর নিজের বউ ও ছেলেকে লুকিয়ে রেখে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দিয়ে এলাকার শত শত নিরীহ পরিবারে আতংক ও ত্রাস সৃষ্টি করেছে। তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে উল্টো নারী নির্যাতন মামলা ঠুকে দেয়া হয়। তার হাতে জিম্মি উপজেলার ধুলাউড়ি, হাড়োবারিয়া, রাণীনগর, তেলীগ্রাম, নিংগইন, শৈলমারী, নতুনপাড়া, পুটিমারী, কুষাবাড়ী, নীলচড়াসহ ২০ গ্রামের মানুষ। এলাকাবাসীর ভাস্য অনুযায়ী তার আনলিমিটেড বউ রয়েছে। তাদেরকে লুকিয়ে রেখে গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দিয়ে চিটিং করে অর্থ উপার্জন করাটা যেন মন্নাফ চোরের পেশায় পরিণিত হয়েছে। আর সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে মোটা অংকের টাকা উপার্জনের ফাঁদ পেতেছে ভন্ড মন্নাফ। সে নিজ বউ বকুলের সাথে মেলামেশা করে তাকে ও তার সন্তান মকুলকে লুকিয়ে রেখে এলাকার সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও দু’টি অপহরণ মামলা দিয়েছে। আর এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তার বড় দুই বউ ও তাদের সন্তানদেরও এই মামলার আসামী করা হয়েছে। তাছাড়া সম্প্রতি উপজেলা আইন শৃংখলা মিটিংয়ে তাকে মামলাবাজ আখ্যায়িত করে থানায় আর কোন মিথ্যা মামলা রেকর্ড না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং স্থানীয় মন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর গণ স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র নাটোর পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট প্রেরণ করা হয়। লিখিত অভিযোগ পত্রে মন্নাফ ও তার স্ত্রী বকুলকে বদ অসৎ ও পেশাধারী চোর-ডাকাত ও ভন্ড, মামলাবাজ আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। উল্লেখ করা হয় তাহারা সব সময় ডি আই জির ভয় দেখাইয়া থাকে। মন্নাফ আলীর স্ত্রী বকুল উক্ত ডি আই জির ধর্ম মেয়ে বলিয়া দাবী করে।
মন্নাফ চোরের ০১৭৭৯-৯৪৯৬৫২ মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আকপটে স্বীকার করেন, এখন তার তিনটি মামলা চলমান রয়েছে একটা ধর্ষণ, একটা শিশু পাচার ও একটা নারী পাচার যেটা ভারতে বেঁচে এসেছে। সব মামলাই মিথ্যা ও সাজানো। মোটা অংকের টাকা দিলে রাতে রাতেই মামলা গুলো রফা করা সম্ভব। তার বউ উলঙ্গ থাকলেও তার ভয়ে তার বউ ও পরিবারের প্রতি কেউ তাকায় না। আগেও অনেক মিথ্যা মামলা দিয়েছে, সব মামলায় সে জিতেছে। মন্নাফ আরো জানায় তার এসব জবান বন্দী পুলিশ ও র‌্যাব রেকর্ড করা পরও তার কোন বাল-ই হয় না বলে বাহবা দেন। এস পি, ডি আই জি সবই নাকি তার বা হাতে ও পকেটে রয়েছে।
ধুলাউড়ি গ্রামের ভ্যান চালক আলম ও নিংগইন গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক বিশুসহ অনেকে মোবাইল ফোনে বলেন, মন্নাফ চোর আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা শিশু পাচার মামলা দিয়েছে। দশ হাজার করে টাকা নিয়ে নিয়ে আদালত থেকে এফিডেভিটও করে দিয়েছে। মিথ্যা মামলায় টাকা দিয়েছেন কেন জানতে চাইলে তারা বলেন, ধরা পরলে তিন মাসের আগে আমার জামিনই হবে না শুনে টুনে টেকা টাই বড় জিনিস না মান ইজ্জতটা বড় জিনিস। যদি ঈদের আগে জেলে ঢুকি তাহলে কি হচ্ছে ? মন্নাফ এলাকার খুবই খারাপ লোক। পুলিশ এসে রাতে ধারানোর কারণে এলাকার অনেক পরিবারে মধ্যে এখন পুলিশি আতংক বিরাজ করছে। মন্নাফ চোর আরো হুমকি দিয়ে বলে, তোরা যে ভক ভক করুছু, খাসির মাংস, গরু-মুরগীর রান, আমার আছে ওই এস পির বাসার ফ্রিজে, তুর কাম করবে। এপর্যন্ত যত কেস করেছে একটাও স্বাক্ষী পর্যন্ত যায়নি সব মামলাই টাকা দিয়ে মিটমাট হয়ে যায়। এলাকায় ব্যবসা শুরু হয়েছে।
মন্নাফ চোর’র সপ্তম নম্বর স্ত্রী মজিরন বেগম মোবাইল (০১৭৩৩-২৫২৮১৯) ফোনে বলেন, মন্নাফ চোর তিনাকে দিয়ে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করাতে না পেরে তার বিরুদ্ধে তার সতীন বকুল ধর্ষণ মামলার আসামী করেছে। এই মিথ্যা মামলায় তিনি তিন রাত জেলও খেটেছেন। তিনার বাবা, ভাই কেউ নেই, দু’সন্তান নিয়ে খুবই বিপদে রয়েছেন বলে জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিনের ০১৭১৮-৭০৯৩০০ মোবাইল ফোনে মন্নাফ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আগে একসময় মন্নাফ ছুরি করে খেত। এখন মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করে, টাকা দিলেই মামলা রফা হয়ে যায়। এসব বিষয়ে সে কথা বলায় তার বিরুদ্ধেও দুটি মামলা দেয়া হয়েছে। মন্নাফ আই জি, ডিআইজি ও বড় বড় কর্মকর্তার ভয় দেখায়। এলাকার বহু লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় ৮নং শেরকোল ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল এই প্রতিবেদককে মোবাইল (০১৭১৮-৯৪৮৭৫৮) ফোনে বলেন, মন্নাফ চোর এলাকা ধ্বংস করো দিলো ভাই। তার বউ ও ছেলে-মেয়েকে লুকিয়ে রেখে ধর্ষণ ও অপহরণ মামলা দিয়ে শত শত এলাকাবাসীর কাছ থেকে চিটিং করে অর্থ উপার্জন করাটা যেন পেশায় পরিণিত হয়েছে। মনে হয় যেন চলনবিলে সুঁতি জাল ফেলেছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ মোবাইল ফোনে বলেন, মন্নাফ চোরের মিথ্যা মামলায় শত শত পরিবার আজ গৃহ ছাড়া। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোর দাবি জানান।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের মোবাইল (০১৭১৩-৩৭৩৮৫৮) ফোনে মামলাবাজ মন্নাফ চোর সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তার সময়ে শিশু অপহরণ একটি মামলা তদন্ত হয়েছে। আদালতে ২২ ধারা জবান বন্দির প্রেক্ষিতে থানা থেকে চার্জসিট দেয়া হয়েছে। তবে মন্নাফ চোরের বিরুদ্ধে আইন শৃংখলা মিটিং ও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসীর গণ স্বাক্ষরিত অভিযোগ দেয়ার কথাও তিনি শুনেছেন।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!