ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : নাশকতার অভিযোগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জামায়াতের ৩৮ জন নারী কর্মীসহ ৪০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ পৌর শহরের ঢাকালে পাড়ার জামায়াত নেতা আব্দুস সবুরের বাড়িতে গোপন বৈঠক করার সময় পুলিশ তাদেরকে আটক করে। এসময় পুলিশ বাড়ির মালিক আব্দুস সবুর সহ সাইফুল ইসলাম নামে আরো এক মাদরাসা শিক্ষককে আটক করে। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে সংগঠনের গঠনতন্ত্র, রেজুলেশন, জিহাদি বই, রেজিষ্টার, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন জিহাদী বইপত্র উদ্ধার করে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, তারা গোপন খবরের ভিত্তিতে জানতে পারেন জামায়াত নেতা-কর্মীরা ঢাকালেপাড়ার আব্দুস সবুরের বাড়িতে জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে। প্রতি শুক্রবার কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলের মহিলাদের আব্দুর সবুরের বাড়িতে এনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে সংগঠনের ইয়ানত হিসাবে নেওয়া হতো নগদ টাকা। দীর্ঘদিন এ বাড়িতে জামায়াতের মহিলাদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে নেতাকর্মীদের নিকট থেকে মাসিক ইয়ানতের টাকা সবুর আদায় করতো। আব্দুস সবুর কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে ও মতিউর রহমান সুন্দরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। গত কয়েক বছর ধরে এদের দায়িত্ব ছিল কালীগঞ্জ উপজেলা মহিলা কর্মীদের ধর্মীয় কথা বলে দলে ধরে রাখা ও বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষন দেওয়া। আব্দুস সবুর পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে তার বাড়িতে মহিলাদের প্রশিক্ষন দেওয়ার ব্যাপারে সংগঠনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি দায়িত্ব পালন করতেন।
আটককৃতরা হলো- ইতি খাতুন, মাহফুজা বেগম, খাতুন, মর্জিনা খাতুন, রুমা খাতুন, হিরা খাতুন, রেহেনা, নুরজাহান, হুসনে আরা বেগম, আফসানা খাতুন, সেলিনা বেগম, মুর্শিদা খাতুন, রাহিদা খাাতুন, তানিয়া খাতুন, নিলা বেগম, মিনা বেগম, ফিরোজা খাতুন, আসমা খাতুন, সালমা খাতুন, রেবেকা খাতুন, পারভীনা খাতুন, নাসিমা, নুরজাহান, লাখি বেগম, হাজেরা বেগম, সুফিয়া খাতুন, সাবিনা বেগম, সাজেদা, রহিমা খাতুন, শিরিনা, মাহমুদা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আরজিনা বেগম, পলি বেগম, হাজু বেগম, কনা, রেবেকা ও ময়ুরি বেগম। আটককৃত মহিলাদের মধ্যে অনেকে শুক্রবার প্রথম এসেছিল জামাতের বৈঠকে। অনেক মহিলাদের কাছে রয়েছে ছোট ছোট শিশু। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার আদালতের পাঠানো হবে বলে ওসি জানান।
ঝিনাইদহ সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী
নিহতের ঘটনায় বিএসএফের দুঃখ প্রকাশ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মেদেনীপুর সীমান্তের চ্যাংখালী নামক স্থানে বিজিবি-বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ৪০ মিনিটের এ পতাকা বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের কমান্ডার এসএম মনিরুজ্জামান। অন্যদিকে বিএসএফ’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৭৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট অনীল শর্মা।
বৈঠকে বিজিবি কমান্ডার এসএম মনিরুজ্জামান বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশী নাগরিক নিহতের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। একই সাথে তিনি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্টকে অনুরোধ করেন। এসময় বিএসএফ’র কমান্ড্যান্ট অনীল শর্মা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজিবিকে আশ্বস্থ করেন।
গত বুধবার রাত ৯টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিএসএফের গুলিতে জিয়ারুল আহমেদ রাজু (২৪) নামে এক বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত হন। কুসুমপুর সীমান্ত দিয়ে ওই ব্যবসায়ী ভারত থেকে গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসছিলেন। এ সময় ভারতের নোনাগঞ্জ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই রাজুর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা নিহত রাজুর লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
কৃষি বিভাগের দেওয়া ভর্তূকির বীজ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্থ ঝিনাইদহের হতদরিদ্র কৃষকরা
মাত্র ১৫ দিনেই ধান গাছে শীষ, ফলন না হওয়ার আশঙ্কা
দরিদ্র কৃষকদের ভর্তূকির মাধ্যমে দেওয়া কৃষি বিভাগের বীজ ব্যবহার করে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। নেরিকা জাতের ওই বীজ ব্যবহারে কৃষকদের ক্ষেতের ধান গাছে মাত্র ১৫ দিনেই শীষ এসে গেছে। এই শীষ থেকে ধান পাওয়া যাবে না, অল্প দিনেই চিটা হয়ে গাছ নষ্ট হয়ে যাবে। কৃষকদের আশঙ্কা আমন মৌসুমে দেশীয় জাত ব্যবহার করে তারা বিঘা প্রতি ২০ মন ধান পেতেন, আর এখন পাবেন মাত্র ২ মন।
কৃষকরা অভিযোগ করেছেন সরকার তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে বিনামূল্যে ধান বীজ দিয়েছিল। কিন্তু কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এমন জাত তাদের মাঝে সরবরাহ করে যা চাষ করে তারা স্বচ্ছলতার পরিবর্তে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। অনেক কৃষক বিনামূল্যে বীজ পেয়ে জমি বর্গা দিয়ে ধার-দেনা করে চাষ করেছেন। তারা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়ে গেলেন। এখন তাদের দেনা পরিশোধ করতে হিমশিম ক্ষেতে হবে।
কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে হতদরিদ্র কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরাতে সরকার বিনামূল্যে ধান বীজ সরবরাহ করেন। ঝিনাইদহ জেলায় ১৬৯০ জন কৃষককে মাঝে ১০ কেজি হারে ১৬ হাজার ৯ শত কেজি ধানের বীজ সরবরাহ করা হয়। কৃষি বিভাগ নেরিকা জাতের বীজ দেন কৃষকদের হাতে। একই ভাবে ২২৭ জন কৃষকের মাঝে ৫ কেজি হারে ১ হাজার ১৩৫ কেজি দেশীয় উপসী জাতের বীজ দেওয়া হয়। নেরিকা জাত চাষ করে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। অধিকাংশ কৃষকের ক্ষেতে ধান গাছে অসময়ে শীষ এসে গেছে। অল্পদিনেই এগুলো চিটা তৈরী হয়ে যাবে।
সরেজমিনে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের ফরিয়াদকাটি গ্রামে দেখা যায় কৃষকের ক্ষেতে ধান গাছে শীষ এসে গেছে। কৃষকরা জানান, এই গ্রামের ৫ জন কৃষক ভর্তূকীর বীজ পেয়েছিল। তাদের একজন আজগার আলী জানান, মাঠে চাষযোগ্য কোনো জমি নেই তার। লিজ নিয়ে জমি চাষ করেন। গরিব চাষি হওয়ায় তাকে ধান বীজ দেওয়া হয়েছিল। ১০ কেজি বীজ পেয়ে তিনি ৩৩ শকত জমি চাষ করেন। ১৫ হাজার টাকায় ওই জমি লিজ নিয়েছেন। চাষ করতে তার খরচ হয়েছে আরো ৫ হাজার টাকা। হিসাব অনুযায়ী আমন মৌসুমের এই ধান চাষ তার খরচ হয়েছে ১২/১৩ হাজার টাকা। ওই জমিতে ধান পাবেন ২ থেকে ৩ মন। তিনি জানান, এই ৩৩ শতক জমিতে তার ধান পাওয়ার কথা কমপক্ষে ২০ মন।
কৃষক আজগার আলী আরো জানান, বীজ পাওয়ার পর তিনি গত ১ আগষ্ট বীজতলায় বীজ ছেটান। এর ২২ দিন পর অর্থাৎ ২২ আগষ্ট চারা উঠিয়ে জমিতে রোপন করেন। আর রোপনের ১৫/১৬ দিন অর্থাৎ চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখের মধ্যে ধান গাছে শীষ এসে গেছে। ফলে এই শীষ থেকে চাল তৈরী হবে না। তিনি জানান, কৃষি বিভাগের লোকজন তাদের জানিয়েছেন এই নেরিকা জাতের জীবনকাল ৩ মাস। তারা সেই সময় হিসাব করে চাষ করছেন। তারপরও অসময়ে ধানের গাছে শীষ এসে গেছে। ওই এলাকার আরেক কৃষক আক্কাচ আলীও এক বিঘায় এই ধান চাষ করেন। তার জমিতেও একই অবস্থা বলে জানান। পাশ্বর্তী মঙ্গলপোতা গ্রামের ৫ কৃষক এই ধানের বীজ পেয়েছেন। তাদেরও একই অবস্থা বলে জানান কৃষকরা।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খালকুলা গ্রামেও বেশ কয়েকজন কৃষক এই বীজ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল মান্নান, রেজাউল ইসলাম, আক্কাচ আলী, হুমায়ন কবির এর এক বিঘা করে চাষ করেন। তাদের সকলের ধান গাছেই শীষ এসে গেছে বলে জানান। জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও একই অবস্থা বলে কৃষি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে।
কৃষি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন তারা কৃষকদের কোন পরামর্শ দিতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। কারন যারা ভর্তূকির বীজ পেয়েছেন তারা সবাই দরিদ্র কৃষক। এই ফলন নষ্ট হওয়ায় তারা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তাদের আর্থিক ভাবে লাভবানের পরিবর্তে আরো ক্ষতিগ্রস্থ হলেন।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক হযরত আলী বলেন, বিষয়টি তারা যেনেছেন। কয়েকটি ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তিনি দাবি করেন, জাতটি আমাদের অঞ্চলে নতুন। যে কারনে কৃষকরা ঠিকমতো চাষ করতে না পারায় এটা হতে পারে। তাছাড়া বীজের কোনো সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, বীজের কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না।




