তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : সোমবার সকাল থেকেই টানা কয়েক ঘন্টা বর্ষণের ফলে নগরীর অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কুমিল্লা মহানগরীর প্রধান সড়কগুলো পানির নিচে ডুবে আছে। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন হাজারো কর্মজীবী, স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ নগরবাসী। বর্ষণ এবং সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে নগরীতে যানবাহন চলাচলও অনেকটা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া নগরীর ভাঙ্গা চুড়া রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে আরও মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নগরীর ৯০ শতাংশ সড়কের ইট-সুরকি ওঠে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে ছোট-বড় গর্তে পানি জমে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে আছে। এতে স্বাভাবিক হাঁটা-চলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়- নগরীর প্রাণ কেন্দ্র কুমিল্লা টাউন হল মাঠ, জেলা প্রশাসকের বাসভবন সড়ক, পুলিশ সুপারের বাসভবন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এর সামনের সড়ক, ইপিজেড এলাকা, দক্ষিণ চর্থা বড় পুকুর পাড়, ছাতিপট্টি, মগবাড়ী চৌমুহুনী, হাউজিং এষ্ট্রেট, হযরতপাড়া, কাটাবিল, রেইসকোর্স, বাদুরতলা, ঝাউতলা, শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ষ্টেডিয়াম রোড এবং মার্কেট, ছোটরা কবরস্থান, কালিয়াজুরী মাজার রোড, ডিসি রোড, পুলিশ সুপারের বাসভবন, চিড়িয়াখানা রোড, আদালত সড়ক, ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত সড়ক, অতিন্দ্র মোহন সড়ক, বিসিক শিল্পনগরী, রাণীর বাজার, সংরাইশ, জগন্নাথপুর, ফায়ার সার্ভিস রোড, পাথুরিপাড়া, শুভপুর, নবগ্রাম, সুজানগর, ধর্মপুর, টমছমব্রীজ, শাকতলা, দক্ষিণ চর্থা মহিলা কলেজ রোড, নিমতলী, দক্ষিণ চর্থা ঢাকা বেকারী সড়ক, হোচ্ছামিয়া লুৎফুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয় সড়ক, থিরাপুকুরপাড়, ঠাকুরপাড়া, মুরাদপুর, বাগিচাগাঁও সহ নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা এবং সড়ক গুলোতে প্রায় হাটু সমান পানিতে তলিয়ে আছে। যানবাহন চলাচলসহ স্বাভাবিক চলাফেরা করতে মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়- মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রবল বর্ষণ অব্যাহত আছে। কয়েক ঘন্টা টানা বর্ষণের ফলে জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা।
নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটের একজন ইলেকট্রনিক্স বিক্রেতা জানান- টানা বর্ষণে রাস্তায় হাটু পানি হওয়ার কারণে রিক্সাও যাচ্ছে না। এমনকি যেখানে ২০টাকা ভাড়া সেখানে ৫০ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কুমিল্লা জিলা স্কুলে পড়–য়া নবম শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী জানান- জিলা স্কুল রোডে হাটু পানি হওয়ার কারণে স্কুলে যেতেও সমস্যা হচ্ছে। রিক্সাওয়ালাও যেতে চাচ্ছে না। এর ফলে যাত্রী সাধারণকে অতিরিক্ত ভাড়া গুন্তে হচ্ছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নগরীর ষ্টেডিয়াম এলাকার পুরো সড়কটি ও মার্কেটের সামনে পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে শতশত দোকানের ভিতরেও পানি প্রবেশ করায় ইলেক্ট্রনিক মালামাল মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ষ্টেডিয়াম এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান- সামান্য বৃষ্টিতে আমাদের হাটু পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে দোকানের ভিতরে প্রায় কয়েক লাখ টাকার ইলেক্ট্রনিক মালামালের পানি ঢুকার কারণে জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দোকানগুলোতে টিভি, ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশন, ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র রয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খবর নিয়ে জানা গেছে- নগরীর ডিসি ও চিড়িয়াখানা সড়ক, কালিয়াজুরী মাজার রোড, রেইসকোর্স, জিলা স্কুল সড়কসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকার প্রধান সড়ক ও উপ-সড়ক গুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।
এবিষয়ে স্থানীরা ক্ষোভের সাথে জানান- নগরবাসী দুর্ভোগে পড়লে কাউকে দেখা যায় না। ভোট নেওয়ার সময় কত আশা ভরসা, উন্নয়নের কত কিছুই বলেন। বাস্তবে কিছুই করেন না বলে তারা। এদিকে নগরীর ৯০ শতাংশ সড়কই ভাঙ্গা চুড়া, খানা-খন্দের সৃষ্টি হওয়া রাস্তাগুলোতে কাঁদাযুক্ত হয়ে চলাচলে মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি করছে। নগরীর রানীর বাজার-ধর্মপুর, রেলগেইট হতে শাসনগাছা বাস স্ট্যান্ড সড়ক, ফৌজদারী হতে ছোটরা হয়ে কালিয়াজুরী সড়ক, চর্থা চৌহনী-ইপিজেড (ঢাকা বেকারী) সড়কটির বেহাল অবস্থায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়া কাটাবিল সড়ক, হাউজিং এষ্ট্রেট সড়ক, হযরতপাড়া সড়ক, ঠাকুরপাড়া, আশ্রাফপুর, বাদশামিয়া বাজার, রেইসকোর্সসহ বিভিন্ন এলাকা ভাঙ্গাচুরা সড়কগুলোতে পানি জমে কাঁদাযুক্ত হয়ে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। এসব সড়ক দিয়ে দিনের বেলায় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ ধরনের অনেক সড়ক কুমিল্লা মহানগরীতে রয়েছে। এসব সড়কে ইট-সুরকি ওঠে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে ছোট-বড় গর্তে পানি জমে দীর্ঘদিন ধরে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়ে আছে। এতে স্বাভাবিক হাঁটাচলাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অনেক সময় গর্তের মধ্যে ট্রাক, অটোরিকশা-সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে। এসব রাস্তা গুলো শীঘ্রই মেরামত করা না হলে নগরবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
এবিষয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ নুরুল্লাহ জানান- এ সড়কটি মহানগর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। শীঘ্রই এর সংস্কার কাজ শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।




