শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের শরণখোলার মফিদিয়া মহিলা মাদ্রাসার সুপার মাজাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আবারো ছাত্রী ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এর আগের একাধিক ঘটনায় পার পেলেও এবার মাদ্রসার ম্যানেজিং কমিটি ওই সুপারকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মাতা বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। গত দেড় বছরে ওই সুপারের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রী ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে সাতটায় তিন ছাত্রী উপজেলার খোন্তাকাটার মফিদিয়িা মহিলা মাদ্রাসার প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে অফিস কক্ষে যায়। এসময় কু-মতলব আসে সুপারের মনে। তাদের মধ্যে দু’জনকে বই আনার নামে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ১০ম শ্রেনীর জনৈক ছাত্রীকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষের রুমের দোতালায় একটি বই আনতে বলা হয়। ছাত্রীটি উপরে উঠলে পেছনে পছেনে উঠে যায় ওই সুপার। একা পেয়ে ঝাপটে ধরে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানী ঘটায় মাদ্রাসা সুপার মাজাহারুল ইসলাম ওরফে ইলিয়াস (৪০)। এসময় তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে পড়লে ঘটনাটি ধরা পড়ে যায় এবং ছাত্রীটি ধর্ষনের হাত থেকে রক্ষা পায়। এ ঘটনায় ছাত্রীর মাতা মোসাঃ রেকসোনা বাদী হয়ে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) শরণখোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্ট খোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান খাঁন মতিয়ার রহমান ও মাদ্রসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন নান্টু জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সুপারকে চাকুরী থেকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ শাহাজাহান মিয়াকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে, খোন্তাকাটা ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামলীগের সাধারন সম্পাদক ফজলুল হক তালুকদার ও এলাকাবাসী জানান, সুপার মাজাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে বেশ কয়েকজন ছাত্রীর সাথে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। যা এলাকায় ওপেন-সিক্রেট বিষয়। এব্যাপারে সুপার মাজাহারুল ইসলাম ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরণখোলা থানার ওসি কাজী আঃ সালেক জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলা দায়ের হওয়ার খবর পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় মাদ্রাসা সুপার মাজাহারকে গ্রেফতার করা সম্ভব হায়নি।
শরণখোলায় বোনের কাঁচির আঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু
বাগেরহাটের শরণখোলায় বোনের কাঁচির আঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার রাজাপুর গ্রামে। এব্যাপারে গতকাল বুধবার শরনখোলা থানায় ৩০৪ ধারায় (অবহেলা জনিত কারনে মৃত্যু) একটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রাজাপুর গ্রামের মোঃ আলতাফ চৌধূরীর পুত্র তানভির (৮) ও কন্যা তন্নি (১৩) এর সাথে ঝগড়া হয়। এসময় তন্নি হাতের কাছে থাকা একটি কাঁচি ছুরে মারলে তানভিরের পেটে ঢুকে যায়। পরে তানবিরকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত ১০টায় তার মৃৃত্যু হয়। শরনখোলা থানার অফিসার ইন চার্জ কাজী আঃ সালেক জানান, এ ব্যাপারে তানবিরের পিতা বাদী হয়ে ৩০৪ ধারায় একটি মামলা করেছেন। লাশ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট পাঠানো হয়েছে। তানবির রাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর এবং তন্বি রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনীর ছাত্রী।




