শ্যামলবাংলা স্পোর্টস : গ্রানাডায় প্রথম ওয়ানডেতে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ডোয়াইন ব্রাভো। ব্যাটিংয়ে নেমে আনামুল হক বিজয়ের শতকে ২১৭ রানের ফাইটিং স্কোর করে বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের টপ অর্ডারকে গুড়িয়ে দিয়ে জয়ের সুবাসও পাচ্ছিল অতিথিরা। তবে শেষ পর্যন্ত পোলার্ড-রামদিন জুটির কাছেই হেরে গেল টাইগাররা।
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই নিজের ব্যক্তিগত তৃতীয় শতক পূর্ণ করেন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আনামুল হক বিজয়। ক্যারিবীয়দের জয়ের জন্য ২১৮ রান টার্গেট দিয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ব্যাটিংয়ে নেমে বেশ চাপেই পড়ে যায় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ৯ রানের মাথায় ভয়ংকর ওপেনার ক্রিস গেইলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান মাশরাফি। ব্যক্তিগত তিন রানে আল আমিনের তালুবন্দি হন গেইল। এরপর ড্যারেন ব্রাভোকে ফেরান আল আমিন হোসেন। আর তিন নম্বর উইকেটটি নেন রিয়াদ। এডওয়ার্ডসকে সাজঘরে পাঠান রিয়াদ। পরের ব্যাটসম্যান ডোয়াইন ব্রাভোকেও ফেরান আল আমিন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো ক্যারিবীয়রা ৫ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। মাত্র ৩৪ রানেই সাজঘরে ফেরে তাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। ম্যাচ যখন অনেকটা বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, ঠিক তখনই ব্যাট হাতে টাইগারদের জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ান পোলার্ড-রামদিন। এ জুটি অবিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে করে দেশের হয়ে রেকর্ড ১৪৫ রান। ব্যক্তিগত ৭৪ রান করে সোহাগ গাজীর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন রামদিন। আরেক প্রান্তে ব্যাট চালিয়ে গেছেন পোলার্ড। ৭০ বলে ৮৯ রান করে মাহামুদুল্লাহ রিয়াদের একটি অসাধারণ ক্যাচে সাজঘরের পথ ধরেন পোলার্ড। আল আমিনের চতুর্থ শিকার ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। শেষ দিকে হোল্ডার আর নারাইনের ছোট জুটি জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। টাইগারদের হয়ে ৫১ রানে চারটি উইকেট নেন আল আমিন।
এর আগে তামিম ইকবালের সঙ্গে এনামুলের ৪১ রানের জুটি বাংলাদেশকে সতর্ক সূচনা এনে দেয়। দশম ওভারে একবার জীবন পেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তামিম। হোল্ডারের বল পুল করতে গিয়ে পোলার্ডকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েস বিদায় নেন দুর্ভাগ্যজনক রান আউট হয়ে। দুই রানের জন্য দৌড় শুরু করে এনামুলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ায় সময় মতো পৌঁছাতে না পেরে ফিরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। নারিনের বলে স্লিপে একবার জীবন পেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি চার নম্বরে নামা শামসুর রহমান। ডোয়াইন ব্র্যাভোর বল তার ব্যাট ছুঁয়ে রামদিনের গ্লাভসে জমা পড়লে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অতিথিদের স্কোর তখন ৮০/৩। দুই অঙ্কে পৌঁছালেও নিজেদের ইনিংস বড় করতে পারেননি মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। গেইলের বল সুইপ করতে গিয়ে নারিনের ক্যাচে পরিণত হন মুশফিক। আর ডোয়াইন ব্র্যাভোর বল প্যাডে লেগে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন মাহমুদুল্লাহ। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের (৩৬-৪০) প্রথম ওভারটিই এনামুলের কাছ থেকে মেডেন নেন নারিন। পাওয়ার প্লের পরের চার ওভারে ১০ রানের বেশি নিতে পারেননি এনামুল ও নাসির হোসেন। ম্যাচের প্রথম অর্ধশত রানের জুটি উপহার দেয়ার পর বিদায় নেন নাসির। ৫৩ রানের জুটিতে তার অবদান ২৬ রান।এনামুলের জন্য ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে নিজের উইকেট উৎসর্গ করেন সোহাগ। এই ব্যাটসম্যানের রান আউটের পর সেই ওভারেই ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতকে পৌঁছান এনামুল। ৭৪ বলে অর্ধশতকে পৌঁছানো এনামুল তিন অঙ্কে পৌছান ১৩৩ বলে। শেষ বলে এলবিডব্লিউ হওয়া এনামুলের (১০৯) ১৩৮ বলের ইনিংসটি ১১টি চার ও ১টি ছক্কা সমৃদ্ধ। ৩২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা বোলার ডোয়াইন ব্র্যাভো।
তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ ২২ আগস্ট। ম্যান অব দি ম্যাচ হয়েছেন পোলার্ড।




