শ্যামলবাংলা স্পোর্টস : প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে স্বাগতিক ব্রাজিল। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের ৩-১ গোলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান নেইমারের। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই জাদুকরী ফুটবলে ভক্তদের মুগ্ধ করা রাখা এই স্ট্রাইকারের পা থেকে আসে দু’টি গোল।
বৃহস্পতিবার আরেনা সাও পাওলোতে ম্যাচের প্রথমার্ধে মন ভরানো ফুটবলই খেলেছে লুইস ফেলিপে স্কলারির ব্রাজিল। ড্র হওয়ার পর থেকেই নেইমারকে ঠেকানোর পরিকল্পনা এঁটেছিল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু কাজ হয়নি, বরং তার জাদুকরী ফুটবলেই সমতা ফেরায় ৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা। পঞ্চম মিনিটেই প্রথম সুযোগটি তৈরি করে ব্রাজিল। মার্সেলোর ফ্রিকিক থেকে সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়েছিলেন দাভিদ লুইস। কিন্তু ঠিক ভাবে হেড নিতে পারেননি তিনি। দুই মিনিট পর ইভিচা অলিচের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বেঁচে যায় ব্রাজিল। ১১তম মিনিটে দুর্ভাগ্যজনক এক গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। বাঁদিক থেকে আসা একটি ফ্লিক জালে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন অলিচ। তার পেছনে থাকা মার্সেলোর পা লেগে জুলিও সেজারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া।
এরপরই মূলত জমে উঠে খেলা। ২১তম মিনিটে নেইমারের ক্রস কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক স্তিপে প্লেতিকোসা। কিন্তু ঠিক মতো বিপদমুক্ত করতে পারেননি, বল পেয়ে যান অস্কার। তবে চেলসি তারকার জোরালো শট ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন প্লেতিকোসা। কিছুক্ষণ পরই অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় হাল্কের একটি শট। ২৭তম মিনিটে হলুদ কার্ড পান নেইমার। কার্ডটা যেন আরও তাতিয়ে দেয় বার্সেলোনা তারকাকে। দুই মিনিট পরেই প্রায় ২৩ গজ দূর থেকে গোল করে খেলায় সমতা ফেরান তিনি। বল নিয়ে কয়েক পা এগিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান বার্সেলোনা তারকা। বাঁ দিকে ঝাপিয়ে পড়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন প্লেতিকোসা কিন্তুকাজ হয়নি। বারে লেগে জালে জড়ালে উল্লাসে মেতে উঠে পুরো স্টেডিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধের ছন্দবিহীন খেলার মাঝে ৬৯তম মিনিটে রেফারি ইয়ুইচি নিশিমোরার ‘বিতর্কিত’ সিদ্ধান্তে সুযোগটি আসে ব্রাজিলের সামনে। ডি বক্সে লোর্ভেনের আলতো ধাক্কাতেই পড়ে যান ফ্রেড। ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডারকে হলুদ কার্ড আর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিতে দেরি করেননি রেফারি। সরাসরি পেনাল্টি শট না নিয়ে একটু নাটকীয়তা করেছিলেন নেইমার। কিন্তু বিভ্রান্ত হননি প্লেতিকোসা। ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়ে বলে হাতও লাগিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষাকরতে পারেননি, বল চলে যায় জালে। মিনিট দুয়েক পরে সমতা ফেরানোর দারুণ একটি সুযোগটি হাত ছাড়া হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়ার। কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন সিলভা। এরপর মরিয়া হয়ে উঠে নিকো কোভাচের শিষ্যরা। ব্রাজিলের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করার মতো সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু জুলিও সেজারকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি। শেষ ৫ মিনিটে দু’বার দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সেজার ও লুইস দারুণ দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়ার পরের মিনিটে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করা গোলটি আসে অস্কারের পা থেকে। দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বার ঘেঁষে অসাধারণ এক শটে জালে জড়ান এই মিডফিল্ডার।




