দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর : মেলান্দহে কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রীর অশ্লীল ছবি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিতরণের অভিযোগে ৬ যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পর্ণো ভিডিও সম্বলিত ৯টি কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে। সোমবার রাতে মেলান্দহ বাজার এলাকার বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও কম্পিউটার দোকান থেকে তাদের আটক করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম জানান, রোববার সন্ধ্যায় পর্ণো ভিডিও’র শিকার ওই কলেজ ছাত্রী ও তার ৩ ভাই ছুটে আসে তার কাছে। কাঁন্নায় ভেঙে পড়া বিধ্বস্ত মেয়েটি বলে যে, তার বাঁচার পথ নেই। ‘আমি কোথাও মুখ দেখাতে পারবো না, আত্মহত্যা করবো।’ এ সময় পুলিশ সুপার তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, তাকে ১ দিনের মধ্যেই বিপদ মুক্ত করা হবে। সাথে সাথেই তিনি সার্কেল এএসপি ইয়াছিন আলী, শিক্ষানবিশ এএসপি সরোয়ার আলম, ডিবি ও মেলান্দহ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ডেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সোমবার রাতভর এবং গতকাল মঙ্গলবার সারাদিন মেলান্দহ বাজারের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ৪টি দল অভিযান চালায়। পুলিশ চিশতী মার্কেট, সুইস মার্কেট, মুকুল সুপার মার্কেট এবং বড় মসজিদ রোডের রাইছা, দিপু, সীমান্ত ও শাহীন ইলেক্ট্রনিক্স ও কম্পিউটার দোকানে অভিযান চালিয়ে ওই পর্ণো ভিডিওসহ অসংখ্য পর্ণো ক্লিপ উদ্ধার করে। পর্ণো ভিডিও উৎপাদন ও বিপননের দায়ে পুলিশ পলাশ চন্দ্র রায় (২০), দিপু বসাক (২৪), আঃ হামিদ (২০), শাহীন (২০) ও লিখন (১৯)সহ ৬জনকে আটক করে।
কলেজ ছাত্রীর ওই পর্ণোগ্রাফি ভিডিও ক্লিপটি অর্থের বিনিময়ে মেলান্দহ বাজারের কম্পিউটার দোকানদার মফিজল মোবাইল থেকে মোবাইলে ছেড়ে দেয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরো জানান, আমরা একটি মেয়ের সম্ভ্রম ঢাকতে পেরেছি, জীবন বাঁচাতে পেরেছিÑ এটা অনেক আনন্দের বিষয়। এ সময় তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন- ‘যাদের কাছে এ ভিডিও ক্লিপ পাওয়া যাবেÑ তাদেরকেই এ মামলার আসামি করা হবে। অভিযানও অব্যাহত থাকবে।’ উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে রুজুকৃত মামলায় দন্ডিতদের ১০ বছর কারাদন্ডসহ সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।




