বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা ঃ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে সেভদ্য চিলড্রেন এর কারিগরি সহায়তায় আরডিআরএস বাংলাদেশ কর্তৃক পরিচালিত শিখন প্রকল্পের ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী অফিসের অধিনে ৯৫টি শিখন স্কুলের ২হাজার ৮শ’ ৫০জন ৩য় শ্রেণীর পরিক্ষার্থী মঙ্গলবার সমাপনি পরিক্ষা অংশ নেয়। গত শনিবার থেকে সমাপনি পরিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী অফিসের অধিনে ৯৫টি শিখন স্কুলের মোট ১৬টি পরিক্ষা কেন্দ্রের ২হাজার ৮শ’ ৫০জন ৩য় শ্রেণীর পরিক্ষার্থী সমাপনি পরিক্ষা অংশ নেয়। পরিক্ষা চলাকালিন কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন-মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহমান, উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মো ঃ মনিরুজ্জামান, কালমেঘ আর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল¬াহীল বাকী, বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আরডিআরএস বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী এরিয়া অফিসের মাঠ সমন্বকারী মোঃ মঞ্জুরুল তারিক, শিক্ষক প্রশিক্ষক বজলুর রশিদ ও তাহমিনা খাতুনসহ সকল শিখন সহায়কগণ পরিদর্শন করেন।
দুওসুও বালিয়াডাঙ্গী শাখা গ্রামীণ ব্যাংকের মাঠকর্মী সদস্যদের নামে ভূয়া ঋণ দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার গ্রামীণ ব্যাংক দুওসুও বালিয়াডাঙ্গী শাখা অফিসের মাঠ সংগঠক ফয়সাল আহম্মেদ ১৪/ম কাজীবস্তি ভূমি সমিতির সদস্যাদের নামে ভূয়া ঋণ দেখিয়ে প্রায় ২ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের ভুক্তভোগী সদস্যাদের সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ ব্যাংক দুওসুও বালিয়াডাঙ্গী শাখার অধীনে ১৪/ম কাজীবস্তি ভূমি সমিতির ৪ সদস্যাদের নামে ভূয়া সেতুঋণ দেখিয়ে অফিসের মাঠ সংগঠক ফয়সাল আহম্মেদ প্রায় ২ লক্ষ টাকা উত্তোলনের বিষয়টি গত ২০ মে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় অডিট কর্মকর্তার নিকট আত্মসাতের ঘটনাটি ধরা পরে। গ্রামীণ ব্যাংক দুওসুও বালিয়াডাঙ্গী শাখা অফিসের মাঠ সংগঠক ফয়সাল আহম্মেদ কয়েকমাস পূর্বে কাজীবস্তি ভূমি সমিতি ১৪/ম সদস্যা মরিয়ম বেগমের নামে ৭০ হাজার টাকা, মেরিনা বেগমের নামে ৪০ হাজার টাকা, আফতাফুন বেগমের নামে ৪৭ হাজার টাকা ও রহিমা বেগমের নামে ৩৭ হাজারসহ প্রায় ২ লক্ষ টাকা ভূয়া সেতু ঋণ দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনা ফাঁস হয়েছে। বিষয়টি সদস্যাদের মধ্যে জানাজানি হলে সমিতিতে এসে ব্যাপক ভীড় জমায়। পরে গ্রামীণ ব্যাংকের দুওসুও বালিয়াডাঙ্গী শাখার ম্যানেজার আব্দুস সালাম ও মাঠ সংগঠক ফায়সাল আহম্মেদ সদস্যাদের ভূয়া ঋণের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্র“তি দিয়ে সমিতিস্থল ত্যাগ করে। এব্যাপারে গ্রামীণ ব্যাংকের দুওসুও বালিয়াডাঙ্গী শাখার ম্যানেজার আব্দুস সালামের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে মাঠ সংগঠকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি টের পেয়ে মাঠ সংগঠক ফায়সাল আহম্মেদ গোপনে তিনি অপোষ মিমাংশার জন্য ওই ভুক্তভোগী সদস্যাদের বাড়ী বাড়ী ধন্যা দিচ্ছে।
বালিয়াডাঙ্গীতে পেট্রোল বিস্ফোরণে স্কুল ছাত্রসহ ২ জনের শরীর ঝলসে গেছে
বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র রাশেল (১২) ও তার চাচী ঝর্না বেগম (২৫) পেট্্েরাল বিস্ফোরণে শরীর ঝলসে গেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে: বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মাছখুড়িয়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী ঝর্না বেগম গত শনিবার সন্ধ্যায় কুপি নিভু নিভু ভাব হলে ওই সময় তিনি কেরোসিন তৈল মনে করে ভূল বশতঃ পেট্রোল ঢেলে দিলে এসময় কুপি বিস্ফোরণ হলে এতে তার ভাতিজা রাসেলের শরীর ঝলসে যায়। পড়ে এলাকাবাসী তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
বালিয়াডাঙ্গীতে আটককৃত তিন স্কুলছাত্রের জামিনে মুক্তি

বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কালমেঘ আর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যায়নরত নবম শ্রেণীর ছাত্র শহীদুজ্জামান (১৪) ও দশম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল¬াহ আল আরিফ (১৫) এবং তার বন্ধু নুর ইসলামকে (১৮) গত ১৬ মে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় স্থানীয় থানা পুলিশ ৫৪ ধারার আটক দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। আসামীদের পক্ষ থেকে আদালতে তাদের জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার শুনানীর ধার্য্য ছিল। ঠাকুরগাঁও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক আসামীদের জামিনের শুনানী শেষে তিন ছাত্রের অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য যে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কালমেঘ আর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার বেশ কিছু যুবক মিলে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় মাঠে ক্রিকেট খেলা শেষে মাঠের সংলগ্ন মসজিদে বারান্দায় হাত মুখ ধুইতে যায়।
এসময় কালমেঘ আর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক হযরত আলী মসজিদের বারান্দায় গিয়ে ক্রিকেট খেলোয়ারদের আটক করে তার মোবাইল ফোনে শিক্ষার্থীদের ছবি ভিডিও চিত্র ধারণ করে থানা পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিনা অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন তাদেরকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। তারা হলেন- বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সনগাঁও গ্রামের তৈয়বুর রহমানের ছেলে নবম শ্রেণীর ছাত্র শহীদুজ্জামান, লালাপুর গ্রামের তালেমুল ইসলামের ছেলে দশম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল¬াহ আল আরিফ ও রুপগঞ্জ গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে এইচএসসি পড়–য়া ছাত্র নুর ইসলাম এঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বালিয়াডাঙ্গী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উৎকোচ ছাড়া প্রসূতিদের সেবা পাওয়া যায় না
বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্সরা উৎকোচ ছাড়া গর্ভবর্তি মায়েরা সেবা পাচ্ছে না এমন অভিযোগ প্রতিনিয়তয় উঠেছে।
প্রসূতিদের সূত্রে জানাগেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আরাজি নিয়ামতপুর গ্রামের সাপাল চন্দ্রের গর্ভবর্তি স্ত্রী সমতা রাণী (৩২) সন্তান প্রসবের যন্ত্রনায় বাড়ীতে ছটফট করতে থাকলে পরিবারের লোকজন গত ২১ মে সন্ধ্যা ৭ টায় বালিয়াডঙ্গী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। যাহার রেজিঃ নং-২৬১৫/০৯ মহিলা বিভাগ বেড নং-০৫, হাসাপাতালের প্রসূতি বিভাগে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স লতিকা রাণীর তত্বাবধানে গর্ভবতি সমতা রানীর একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান জন্ম লাভ করে। প্রসূতির সন্তান জন্মের পর সিনিয়র স্টাফ নার্স লতিকা রাণী প্রসূতি সমতার নিকট ১০ হাজার টাকা দাবী করে। এতে প্রসূতি ও তার পরিবারের লোকজনের পক্ষে অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সিনিয়র স্টাফ নার্স লতিকা রানী তাদের সাথে অসদাচরণ করলে প্রসূতি পরে ৫ হাজার টাকা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বিদায় হয়। এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স লতিকা রানীর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি উৎকোচের বষয়টি অস্বীকার করলেও ভূক্তভোগী প্রসূতি ও তার লোকজনসহ উপস্থিত রোগীরা উৎ কোচ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। অত্র হাসাপাতালে ভর্তিরত প্রসূতি রোগীরা অভিযোগ করে বলেন এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত প্রসূতি লেবার রুমে ঘটছে। বর্তমানে সিনিয়র স্টাফ নার্সরা গর্ভবতি মায়ের স্বাভাবিক সন্তান জন্মের সহায়তা কাজের বিপুল অংকের উৎ কোচ আদায়ের রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে এ যেন দেখার কেউ নেই। এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল ইসলামের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে এলকাবাসী প্রসূতিদের উৎ কোচ ছাড়া সেবা থেকে বঞ্চিত বিষয়টি বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




