এম.আবদুল্লাহ আনসারী. পেকুয়া (কক্সবাজার) : পেকুয়ার উজানটিয়া বাঁধাখালে অতর্কিতভাবে একটি প্রভাবশালী সেন্ডিকেট লবণ পানি প্রবেশ করালে ওই খালের চতুর্পাশের কয়েকশ পরিবার তাদের গবাদি পশু সহ খেতখামার নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হযেছে। ভোক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে উজানটিয়া গোদারপাড় থেকে আমিরুজ্জামানের ঘাটা পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে প্রায় ৩০ একরের এ বাঁধা খালের তীরবর্তী কয়েকশ পরিবারের মিষ্টি পানির একমাত্র উৎস এখালটি। সরকারী তালিকাভুক্ত বদ্ধ জলমহল ও সবার জন্য উন্মুক্ত খালটিকে কেন্দ্র করে সুস্ক মৌসুমে ধান চাষ ও রকমারী সবজি চাষ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। গত ১০/২০দিন পূর্বে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সেন্ডিকেট খালটি জবর দখল করে মাছ চাষের জন্যে লবণাক্ত পানি ঢুকিয়ে দিলে খালের পার্শবর্তী গাছ গাছাড়ি সবজিক্ষেত মরে যাচ্ছে। ওই প্রভাবশালীরা বর্তমানে দুজন কেয়ারটেকার নিযুক্ত করে বাঁধাখালটি রক্ষণাবেক্ষণ শুরু করেছে। বাঁধাখালের মাছ ইতিমধ্যে মরে ভেসে ওঠেছে। পার্শবর্তী পুকুর গুলোতেও মাছ মরে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, ওই খালের পাড়ে দীর্ঘদিনের পরিচর্যার কারণে ওঠা সবুজ শ্যামল গাছ গুলো পুড়ে লাল হয়েগেছে। বাঁধা খালটি উন্মুক্ত থাকলে স্থানীয় লোকজন মাছ শিকার করে পরিবার পরিজন নিয়ে খেত পারত। অনেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারত। সম্প্রতি খালটি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেলে নিরাশ হয়ে পড়ে উপকার ভোগী হৃতদরিদ্ররা। পেকুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ওসমানগনি বলেন, জনস্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ঠ বাঁধাখালে লবণ পানি প্রবেশ করার কারণে প্রায় দুহাজারের অধিক মানুষ ধান চাষ ও সবজি চাষ করতে পারছেনা। তিনি জবরদখলকারীরা এতই প্রভাবশালী যে স্থানীয় কেউ তাদের নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করতে ভয় পাচ্ছে বিধায় এব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উজানটিয়ায় পাউবোর বেড়িবাঁধকেটে চিংড়িঘেরে পানি প্রবেশ করায় প্লাবন ঝুকির আতংক

পেকুয়ার উজানটিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ কেটে চিংড়ি ঘেরে পানি প্রবেশ করার কারণে পুরো উজানটিয়ায় প্লাবন ঝুকিতে আতংক বিরাজ করছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, দরবেশকাটার প্রভাবশালী ছাবের আহমদ ২০/২৫জন শ্রমিক নিয়োগ করে উজানটিয়া রূপালী বাজারের দক্ষিণে আবুল কালামের বাড়ীর দক্ষিণে ও ওসমানের বাড়ীর উত্তরে প্রায় ২০ ফুট ওয়াপদার বেড়িবাঁধ কেটে ফেলে। স্থানীয় মহিলা মেম্বারের স্বামী মামুন লোকজন নিয়ে বাঁধা দিতে গেলে ওই চিংড়ি ঘেরের কেয়ারটেকার আলী আকবর সরকারী কর্মকর্তার অনুমতি ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির অনুমতির কথা বলে তাদের বাঁধা তোয়াক্কা না করে মাটি কাটা অব্যাহত রাখে। স্থানীয় মামুন বলেন, এমনিতে বেড়িবাঁধ নিচু হয়ে যাওয়ায় পুর্ণিমার জোয়ার ও নিম্নচাপের সৃষ্টি হলে জোয়ারের পানি বেড়িবাঁধ চপষে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে সেখানে বেড়িবাঁধ কেটে অরক্ষিত করে দিলে পুরো উজানটিয়ায় প্লাবনের সৃষ্টি হবে এতে সন্দেহ নাই। তিনি বলেন, ওয়াপদার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এব্যাপারে অভিযোগ দিয়ে জানানো হয়েছে তারপরও কোন প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। স্থানীয় লোকজন বলেন, ওয়াপদার এস.ও রাব্বির সাথে আতাত করে ওই বেড়িবাধ কেটেছে। প্রভাবশালী ছাবের আহমদ সেন্ডিকেট বদরখালী ও মাতারবাড়ির চিহ্নিত অপরাধীদের জড়ো করে উজানটিয়ার দক্ষিণ পূর্ব কোণের ওই দুর্গম এলাকায় আস্তানা গড়েছে। তিনি ওখানে অবৈধভাবে অনেক জমি জমা জবর দখল করে রেখেছে। উত্তর দিকে ও দক্ষিণের পশ্চিম কোণের বেড়িবাঁধ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে পূর্বের মতো ডাকাতি সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালিত করার জন্যে আবারো বেড়িবাঁধটি কেটে দিয়ে রেখেছে। এব্যাপারে চিংড়িঘেরের মালিক ছাবেরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওখানে কোন বেড়িবাধই নেই সেখানে বেড়িবাধ কাটার সুযোগ কোথায়। বেড়িবাঁধটি নিচু হলেও সাগরের স্বাভাবিক জোয়ার প্রতিরোধ করায় সাধারণ মানুষের চিংড়ি ও চাষাবাদ রক্ষা সহ ঘরবাড়ি জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা পায় এখন বেড়িবাঁধের ঘোড়াটি কেটে দিলে সর্বসাধারণের ক্ষতির সম্মুখিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে সরকারকে উচু করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেয়ার পরামর্শ দেন। এব্যাপারে উজানটিয়ার চেয়ারম্যান এম.শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই স্থানে বেড়িবাধের নাজুক অবস্থা চিংড়িঘের মালিকরা বেড়িবাধ কেটে পাইপ বসিয়ে দিয়ে মাটি ভরাট করে দিয়েছে বলে শুনেছি। আর না দিয়ে থাকলে মাটি ভরাট করেদিতে বলা হবে।




