মেহের আমজাদ,মেহেরপুর : মেহেরপুরে অনাবৃষ্টি ও তীব্র ক্ষরার কারনে পাটে পোকার সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। তীব্র খরতাপে পাটের গাছ বড় হচ্ছে না। পোকায় নষ্ট করে দিচ্ছে পাটের ক্ষেত। সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন প্রতিকার মিলছে না। ফলে জেলার পাট চাষিরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি না হলে এবং পোকার হাত থেকে পাটকে রক্ষা করতে না পারলে চলতি মৌসুমে পাটের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন জেলার পাট চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে চলতি বছর মেহেরপুর জেলায় ২৩ হাজার ৩’শ ১৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাট চাষ হয়েছে এখন পর্যন্ত ২২ হাজার ৬’শ হেক্টর জমিতে। তীব্র খরতাপে দেখা মিলছে না বৃষ্টির, কমেনি তাপদাহ। ৩৮ ডিগ্রি থেকে সর্বোচ্চ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বিরাজ করছে। অনাবৃষ্টির কারনে পাট ক্ষেতে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। অতিরিক্ত সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও প্রতিকার মিলছে না। পোকায় নষ্ট করে দিচ্ছে পাটের ক্ষেত। কেটে দিচ্ছে পাতা ও ডগা। গত বছর জেলায় ২৩ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩’শ ৬৫ বেল।
মেহেরপুর উজুল পুর গ্রামের পাট চাষি আশাদুল ইসলাম জানান, পাটের বীজ বপনের সময় বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে অধিকাংশ বীজ বের হয় নি। অনেক চারা নষ্ট হওয়ায় বীজ বেশি লেগেছে।
মেহেরপুর উজুল পুর গ্রামের পাট চাষি ক্ষরায় অতিরিক্ত সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে পাট চাষের খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। তার পরও ফসল ঘরে তুলতে পারবে কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা।
ফাল্গুন মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না হওয়াই সেচ দিয়ে পাট চাষ করেছে।
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক চৈতন্য কুমার দাস জানান, ক্ষরার কারনে সেমিলোফার ও মাইটের আক্রমন হয়েছে। পাকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কীটনাশকের পাশাপাশি জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।




