এম.এস.আই শরীফ, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি : দরিদ্রতাকে হার মানিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে রাসেল আহমেদ। সে ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভূজা ইউসূফ আলী স্কুল এণ্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে সে কৃতিত্বের সাথে সাফল্য অর্জন করেছে। দারিদ্রতার কষাঘাতেও থেমে রাখতে পারেনি ১৬ বছর বয়সী রাসেলকে। বাবা-মায়ের তৃতীয় সন্তান রাসেল। এ ছাড়াও আরো ২ বোন সহ বাবা-মা। সব মিলে আমাদের সংসারের ৫ জনের অভাবের সংসারে কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে সংসার চলে। তার বাবা দিনমজুর আব্দুর রশিদ দিন আনে দিন খায় বর্তমানেও সে মজুরীর কাজে বাইরে অবস্থান করছে, আর মা জবেদা বেগম গৃহিনী। রাসেলের মা জোবেদা বেগম কথা প্রসঙ্গে “বেটারে গরীবের সংসারে রাসেলকে খুবই কষ্ট করে লেখাপড়া করেয়েছি। আর মনে হয় ওর লেখাপড়া করাইতে পারবো না। তুমরা বাবা আছো, হামার ছাইলাকে একটু দেখবা, আল্লাহ্ তুমাঘেরে ভাল করবে” বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন জোবেদা বেগম। রাসেলের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ প্রতিবেদককে বলে, স্যার আমরা গরীব মানুষ এমনিতেই আমাদের বাবা-মায়ের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় এর উপর আমার বাবা অতি কষ্টে লেখা-পড়ার অর্থ যোগান দিয়েছে, তাই আমার পড়ালেখার দামী ‘সোনার হরিণ’টি আমার ভাগ্যে জুটবে না। রাসেলকে বিভিন্ন কথা প্রসঙ্গে সাহস যোগালে সে আরো বলে আর্থিক ভাবে আমি অস্বচ্ছল হওয়াতে আমি নিরুপায়, বিধায় আমাকে আমার বাবা-মায়ের দোয়ার বরকতে এবং তাদের প্রচেষ্টায় এতদুর পর্যন্ত এসেছি। আর সেই সাথে আমার শিক্ষকমন্ডলীর হাত তো রয়েছেই। তবে আমার লেখাপড়ায় আমার মায়ের একান্তই হাত ছিলো বলে লেখাপড়ায় ভাল ফলাফল করতে পেরেছি। আমি ভবিষ্যতে পড়ালেখা করতে যদি পারি তাহলে একজন প্রকৃত ডাক্তার হয়ে দেশ ও জনগণের সেবার কাজ করতে চাই। সেই সাথে সাথে আমি সকলের দোয়া প্রার্থনা করছি।




