শ্যামলবাংলা বিনোদন : মাহি তখন স্কুলবালিকা; পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি ভীষণ ঝোঁক। তখন থেকেই ভালো লাগত ফুটবল। কিন্তু বাবার ‘বারণ’ আর মায়ের ‘নিষেধ’ তাকে মাঠে নামতে দেয়নি। ক্লাসরুমের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখতেন, সহপাঠীরা ফুটবল নিয়ে মাঠে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। মাঠে যখন লাল আর হলুদ দলের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা, তখন কে আগে গোল দেবে তাই নিয়ে ক্লাসরুমে বান্ধবীদের সঙ্গে চলত চ্যালেঞ্জ ছোড়াছুড়ি। কখনও ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের ম্যাচ দেখতে চলে যেতেন দলবেঁধে। একটু বড় হতেই আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি তাকে আকৃষ্ট করে। স্প্যানিশ লিগে বার্সেলোনার ম্যাচগুলো দেখতে শুরু করলেন। মেসির জাদুতে মুগ্ধ মাহি প্রেমেই পড়ে গেলেন। তখন থেকে মাহির কাছে ফুটবল মানেই মেসি, আর দল মানেই আর্জেন্টিনা।
মেয়ে মেসির পাগল আর এদিকে বাবা ব্রাজিলের সমর্থক। মেয়েকে নানাভাবে নিজের দলে টানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয় তাকে। মাহি বলেন, আব্বু বললেই কী হবে নাকি! আমি মনেপ্রাণে আর্জেন্টিনা। আমার নায়ক মেসি যে ওই দলে খেলে। ওর খেলা কী যে ভালো লাগে! দিনভর শুটিংয়ের হ্যাঁপা সামলে খেলা দেখবেন কীভাবে– এমন প্রশ্নের জবাবে মাহি বলেন, সব খেলা তো দেখব না। দেখব শুধু আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলো। আর বাসায় থাকলে ব্রাজিলের ম্যাচগুলো দেখব। আব্বুকে জ্বালাতে হবে তো! আব্বুর দল ব্রাজিল এবার সেকেন্ড রাউন্ডের পর আর যেতে পারবে না বলেই মনে হচ্ছে। এক নেইমার আর কটা গোল দেবে। আমার দলে তো মেসির পাশাপাশি আরও কজন তারকা ফুটবলার আছে। আমরা তো বিশ্বকাপ জয়ের আশা করতেই পারি। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দুই সমর্থক নিয়ে বিপাকে পড়বেন আফ্রিকান দেশগুলোর ভক্ত মাহির মা। ‘আম্মু যে কী বুঝে আফ্রিকান দেশগুলোকে পছন্দ করে। ওরা তো ফার্স্ট রাউন্ড পার হতে পারবে না। আম্মুও আর্জেন্টিনাকে দেখতে পারে না। মাহি জানান, এবারই প্রথম ঘটা করে বিশ্বকাপ খেলা দেখা হবে বাসায়। সে উপলক্ষে নানা আয়োজনের পরিকল্পনাও করছেন তিনি।




