ads

শনিবার , ১০ মে ২০১৪ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশে অহেতুক বিলম্ব : কোটি মানুষের ভোগান্তি

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
মে ১০, ২০১৪ ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশে অহেতুক বিলম্ব : কোটি মানুষের ভোগান্তি

হাবিবুর রহমান হারুন

Harunপাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশে অহেতুক বিলম্ব দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে উদ্বেগ উত্কন্ঠার মধ্যে রাখে। দেশের শিক্ষাবোর্ডসমুহ জে.এস.সি, এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত করে ফল প্রকাশের আগের দিনই সারা দেশের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে পাঠিয়ে দিয়ে গণমাধ্যমে পরদিন ফল প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে দেয়। বাকী থাকে শুধু কিছু আনুষ্ঠানিকতা। প্রায় ২৪ ঘন্টা উত্কন্ঠায় পার করার পর সংশ্লিষ্ট জনসাধারণ সেই ফল হাতে পান। অথচ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটু উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজনসহ বিশাল জনগোষ্ঠী এই উদ্বেগ, উত্কন্ঠা ও দূর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারে।
পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বিকেলে প্রকাশের গতানুগতিক এ ধারা চলে আসছে সেই প্রথম থেকেই। আগে সকাল বা দুপুরে ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পরপরই আমরা রেডিও টেলিভিশনে তার সারসংক্ষেপ পেয়ে যেতাম। শিক্ষার্থীরা ফলাফল পেত পরদিন পত্রিকার পাতায়। ফল প্রকাশের পরদিন সকালে রেল স্টেশনে হুমড়ি খেয়ে পড়তেন শিক্ষার্থী-অভিভাবক আর আত্মীয়-স্বজনরা। সেসময় ফলাফল পাওয়ার জন্য এই অপেক্ষাটা স্বাভাবিক ছিল। কেননা তখন বিকল্প কোন উপায় ছিলনা। এখনত দিন বদল হয়েছে, এখন দেশ-জনগন আর শুধুমাত্র পত্রিকার উপর নির্ভরশীল নেই। দেশের শিক্ষাবোর্ডগুলোও এগিয়েছে অনেকটাই। ইন্টারনেটে ফলাফল প্রকাশের সূচনাও হয়েছে প্রায় এক যুগ আগে। বিশেষত বর্তমান সরকারের ডিজিটালাইজেশনের আওতায় অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের অগ্রগতি হয়েছে।
আগামী সপ্তাহেই দেশের বৃহত্তর পাবলিক পরীক্ষা এস.এস.সি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ লক্ষ শিক্ষার্থী। এই সাড়ে ১৪ লক্ষ শিক্ষার্থীর ২৯ লক্ষ বাবা-মা, তাদের একটি করে ভাই বা বোন ধরলে পরীক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যই দাঁড়ায় অর্ধ কোটিরও অধিক। এর সাথে তাদের মামা-মামী, চাচা-চাচি, খালা-খালু ও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন মিলিয়ে আরও প্রায় সমসংখ্যক মানুষ এই ফলের জন্য অপেক্ষায় থাকবে। দেশের এই বিশাল জনগোষ্ঠি প্রায় ২৪টি ঘন্টা উদ্বেগ আর উত্কন্ঠা নিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় থাকবে। প্রতিবছরই আমাদের দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠিকে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে হয়। কর্তৃপক্ষ যদিও বেলা ২টায় পরীক্ষাকেন্দ্র, ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একযোগে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন। কিন্তু শিক্ষাবোর্ডসমূহ, জেলা বা উপজেলা প্রশাসন এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তাদের ঘনিষ্ঠজনরা প্রকাশ হওয়ার আগেই ফলাফল পেয়ে যাওয়ায় সকাল থেকেই শিক্ষার্থী-অভিভাবকগণ শহরের ইন্টারনেট সেবাদানকারী দোকানগুলোতে ছুটাছোটি শুরু করেন। একই সাথে সমান তালে চলতে থাকে মোবাইল ফোনের এস.এম.এসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহের চেষ্টা। এভাবে উদ্বেগ-উত্কন্ঠায় সময় পার করার পর শুরু হয় আরেক ভোগান্তি। ইন্টারনেট এবং মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক জ্যাম হয়ে যায় অতিরিক্ত ব্যবহারকারীর চাপে। এভাবে দৌড়-ঝাপ করে ফলাফল হাতে পেতে অনেক সময়ই বিকেল ৪/৫টা বেজে যায়। এভাবে সাধারণ মানুষ ডিজিটালাইজেশনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে ওই ব্যবস্থার প্রতিই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে।
ফেইসবুক, টুইটার আর স্মার্ট ফোনের এ যুগে মানুষকে এ ধরনের ভোগান্তি থেকে নিস্কৃতি দেওয়া যায় অতি সহজেই। যেহেতেু ফল প্রকাশের যাবতীয় প্রস্তুতি আগের দিনই সম্পন্ন হয়ে যায়, কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল শীটগুলোও পৌছে যায়, কাজেই নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ফলাফল গ্রহণ করার সাথে সাথেই মাউসে একটামাত্র ক্লিক করেই তা প্রকাশ করলে কোটি কোটি মানুষকে এই অহেতুক বিড়ম্বনা থেকে রেহাই দেয়া যায়। অর্থাৎ লক্ষ কোটি মানুষকে উদ্বেগ-উত্কন্ঠায় না রেখে সকাল ১০টায় ফলাফল প্রকাশ করে দিলে শহরের লোকরা সকালেই ফলাফল পেয়ে যাবে, তাদের ভীড় সকালেই শেষ হয়ে যাবে। আবার দূরবর্তী গ্রামের লোকরা শহরে এসে দুপুর বা বিকেলে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। এতে ইন্টারনেটের ট্রাফিক জ্যাম হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে এবং সহজেই সবাই ফলাফল পেয়ে যাবে।
অনেক বিষয় বা কাজ আছে যা করা হলে অনেক মানুষের সুবিধা হয় ঠিকই, কিন্তু কিছু মানুষকে বেশী পরিশ্রম করতে হয়। আবার কোন কোন সময় মুষ্টিমেয় কিছু লোক বিশেষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। সে ধরণের কাজ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য কল্যাণকর হলেও মুষ্টিমেয় লোকের অনাগ্রহের কারণে করা হয়না বা করা যায়না। কিন্তু বেলা ২টা বা ৩টার পরিবর্তে সাকাল ১০ টায় পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হলে কোন পক্ষেরই কোন ক্ষতি বা অসুবিধা থাকার কথা নয়। বরং সবাই উপকৃত হবে বলেই মনে হয়। আর সে কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে আগামী ১৮/১৯ মে প্রকাশিতব্য এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল বিকালের পরিবর্তে সকালে প্রকাশ করে নতুন যুগের সূচনা করতে পারেন।

Shamol Bangla Ads

লেখক : সাংবাদিক, শেরপুর।

Need Ads
error: কপি হবে না!