তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গ্রাহকের ৮০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে সমবায়ী প্রতিষ্ঠান আল-হামরা গ্রুপ। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলীকে আটক শেষে থানায় সোপর্দ করেছে। গতকাল বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলে প্রেরণ করা হয়। এছাড়াও গ্রাহকরা তাদের টাকা প্রাপ্তি, তিন প্রতারককে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মানববন্ধন ও প্রতিকি অনশন করেন।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার শ্রীপুর গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের ছেলে মফিজুর রহমান আল-হামরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ ‘আল-হামরা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ’ ও ‘নোভেল কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড’ এর গ্রাহক হন। প্রতিষ্ঠানে কর্তব্যরতরা ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর হতে বিভিন্ন তারিখে মাসিক লভ্যাংশে মফিজুর রহমানের ১০ লাখ টাকাসহ পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গ্রাহকের ৮০ কোটি টাকা গ্রহণ করেন। কর্তব্যরতদের মধ্যে চেয়ারম্যান বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ফালগুনকরার সফিউল আলম ভূঁইয়া নয়ন ও পরিচালক ঘোলপাশা ইউনিয়নের জুগিরখিল গ্রামের মাহাবুবুল হক মজুমদার অন্যতম। সম্প্রতি তারা গ্রাহকদের লভ্যাংশের টাকা না দিয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে উল্টো হয়রানী করতে থাকে। গত ১৬ এপ্রিল গ্রাহকরা জড়ো হয়ে টাকা চাইতে গেলে ওই তিনজন ১৫০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে টাকা ফিরিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করেন। ২৩ এপ্রিল গ্রাহক মফিজসহ অন্যরা আবার টাকা চাইতে গেলে উল্লেখিতরা গালমন্দ ও হুমকি ধমকি দেন। গত মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী কুমিল্লার আদালতে আসলে গ্রাহকরা তার উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে তাকে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়। এব্যাপারে গ্রাহক মফিজুর রহমান বাদি হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলীসহ ওই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা (নং-১৫, ধারা-৪০৬, ৪২০, ৫০৬) করেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সামছুদ্দিন মোঃ ইলিয়াছ জানান, ‘টাকা আত্মসাতের বিষয়ে মামলা হয়েছে। আটককৃত আসামী মোহাম্মদ আলীকে আদালতের মাধ্যমে জেলে প্রেরণ করা হয়’।




