স্টাফ রিপোর্টার। শেরপুরে বিদায়ী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সেলিম মিয়ার দুনীর্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে এক আইনজীবী গ্রেফতার হয়েছেন। ২৭ এপ্রিল রবিবার সকালে ওই ঘটনায় আদালত অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হলে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের পুর্ব ঘোষিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে যায়। সেই সাথে আইনজীবী সমিতি জরুরী সভায় গ্রেফতারকৃত আইনজীবীকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত সকল আদালতের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষনা দেয়। ওই ঘোষনা মোতাবেক ব্যবস্থা গৃহিত না হওয়ায় আইনজীবীরা আদালতের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। এতে শত শত বিচারপ্রার্থী জনগন আদালত অঙ্গনে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকে ফিরে যান।
জানা যায়, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সেলিম মিয়ার বিদায় উপলক্ষ্যে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদ ২৭ এপ্রিল সকাল ১০ টায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সমিতির সদস্যদের একাংশ ওই সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে তার সংবর্ধনা প্রতিহতের ঘোষনা দিয়ে কয়েক দিন ধরে তৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চাপা, ক্ষোভ ও উত্তেজনাও চলে আসছিল। এরই অংশ হিসেবে শনিবার মধ্যরাতে বার ভবনসহ আদালত অঙ্গনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের দুর্নীতির বিরুদ্ধে পোষ্টারিং করতে গিয়ে নৈশ প্রহরীদের সাথে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে আটক হন জেলা জাতীয়তাবাদী যুব আইনজীবী ফোরাম ও জেলা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নবনির্বাচিত সভাপতি এডভোকেট আলমগীর কিবরিয়া কামরুল। রবিবার সকালে আইনজীবীর আটকের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আদালত অঙ্গনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের একাংশ বার ভবন অঙ্গনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের দুর্নীতি এবং তার প্রতিবাদী আইনজীবী আলমগীর কিবরিয়া কামরুল কে আটকের প্রতিবাদে কালো পতাকা প্রদর্শন করেন। অন্য দিকে আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদ সভা কক্ষে সভাপতি এডভোকেট এ,কে,এম মোছাদ্দেক ফেরদৌসীর সভাপত্বিতে সাবেক সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ সিনিয়র আইনজীবীদের উপস্থিতিতে জরুরী সভায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষনা করে আটক আইনজীবীকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত সকল আদালতের কার্যক্রম থেকে আইনজীবীদের বিরত থাকার ঘোষনা দেওয়া হয়। এরপর ওই সিদ্ধান্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ রবিউল হাসানকে অবহিত করে তার মাধ্যমে প্রতিকার দাবি করা হয়। কিন্তু জেলা জজ ওই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে আইনজীবী নেতাদের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে পাঠালে তিনি নানা যুক্তি দেখিয়ে বেকে বসেন। এর পরপরই আদালতের নৈশ প্রহরী হেলাল উদ্দিন কে বাদী করে গ্রেফতারকৃত আলমগীর কিবরিয়া কামরুলসহ সাবেক সাধারন এডভোকেট এম,কে মোরাদুজ্জামান, এডভোকেট শাহ মোঃ শাহীন হাসান খান ও এডভোকেট আশরাফুল আলম লিচুর বিরুদ্ধে রাত্রি কালে দায়িত্বরত কর্মচারীদের কর্তব্য কাজে বাঁধা, মারপিট ও হুমকির অভিযোগে শেরপুর সদর থানায় একটি মামলা রুজু হয়। ওই মামলায় বিকালে গ্রেফতারকৃত আইনজীবী কে আদালতে সোপর্দ করা হলে সমিতির পূর্ব ঘোষিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আইনজীবীরা আদালত কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ায় এবং তার বিষয়ে জামিনের আবেদন না করায় তাকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সেলিম মিয়া স্বয়ং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট এ,কে,এম মোছাদ্দেক ফেরদৌসী জানান, আইনজীবীকে গ্রেফতারের ঘটনায় সমিতির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করে উল্টো তাকেসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ায় উদ্ভুত অবস্থার নিরসন না করা পর্যন্ত সকল আদালতের কার্যক্রম থেকে আইনজীবীরা বিরত থাকবেন।




