এ কিউ রাসেল, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে যৌতুকের কারণে স্বামীর বাড়ির লোকজনের হাতে শাহিনা নামের এক গৃহবধু খুন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে লাশ ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার নিহতের বাবার বাড়ি এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে জোর চেষ্টা চলছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে।

নিহতের ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম শুক্রবার স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী সরিষাবাড়ি উপজেলার কাওয়ামারা গ্রামের দিনমজুর জয়নাল আবেদীনে মেয়ে শাহিনার (২৪) সাথে উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের আবু হানিফের হোটেল শ্রমিক ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে ৪বছর আগে ২৫হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ২বছরের মাথায় জান্নাত নামের একটি কন্যা হয় তাদের। বিয়ের পর হতেই শ্বশুর বাড়ির লোকজন শাহিনাকে নানা অজুহাতে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। শাহিনা শ্বশুর বাড়ির নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য বাবার বাড়ি হতে সাধ্য পরিমাণ টাকা তুলে দিতো শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে। স¤প্রতি মোটা অঙ্কের যৌতুকের জন্য শাহিনাকে চাপ দিয়ে আসছিল শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এতে শাহিনা অপারগতা স্বীকার করায় পরিকল্পিত ভাবে বুধবার রাত ৮টার দিকে যৌতুকের জন্য শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। আর হত্যাকে আতœহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে শোবার ঘরের ধর্ণার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ফাঁস টাঙ্গিয়ে গাঁ ঢাকা দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
খবর পেয়ে শাহিনার বাবা জয়নাল আবেদিন গোপালপুর থানায় বিষয়টি অবগত করলে গোপালপুর থানার এসআই সুমন চন্দ্র রায় ও এসআই অমিত হাসানের নেতৃত্বে গোপালপুর থানা পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে লাশ ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার নিহতের বাবার বাড়ি এলাকায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা ও অন্যদিকে প্রবাহিত করার জোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগে জানা যায়।
গোপালপুর থানার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুমন চন্দ্র রায় জানান, ঘটনায় বৃহস্পতিবার গোপালপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-০২। আর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের বাবার নিকট বুঝে দেয়া হয়েছে। তবে এটি হত্যা না কি আতœহত্যা তা আপাদত বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে এর রহস্য জানা যাবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরজমিনে পাথালিয়া গ্রামে গেলে জানা যায় স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বাড়িতে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চলছে নানা পরিকল্পনা। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে গাঁ ঢাকা দেয় শাহিনার স্বামী, শ্বশুর-শাশুরি গংরা। তবে ঘটনার হোতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার, সুষ্ঠ তদন্তু দৃষ্টান্ত মূলক শান্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসি ও শাহিনার বাবার বাড়ির লোকজন।




