আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছে তিন শতাধিক নারী ও তার পরিবার। গুলিশাখালী,আঙ্গুলকাটা, হরিদ্রাবাড়িয়া, গোছখালী, ঢালাচারা গ্রামে রয়েছে অসংখ্য ও জলাশয়। এসব এলাকায় হাঁস পালনে সমস্যা হচ্ছে না। তবে উঁচু এলাকায় যেখানে পানি কম থাকে সেখানে হাঁস পালনে সমস্যা হয়।
প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জানান, হাঁসের যাতে কোনো রোগ বালাই না দেখা দেয় সেজন্য গ্রামে হাঁস মুরগির টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর এ গ্রামগুলোতে তিন শ নারী এ কাজ করছেন। এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের আঙ্গুলকাটা গ্রামসহ পাঁচ টি গ্রামে এনএসএসর চলমান রি-কল প্রকল্পের আওতায় অক্সফার্মের অর্থায়নে গ্রামীন নারীদের আর্থিকভাবে লাভবান করা ও নারীর অধিকার বাস্তবায়নের জন্য ( সিবিও ) গণসংগঠনের মাধ্যমে হাঁস উৎপাদনকারী দল গঠিত হয় ২০১২ সালের জুলাই মাসে।সর্বমোট ১৮ টি দল গঠন করা হয়। এর মধ্যে তিন টিতে ২৫জন করে বাকী ১৫ টিতে ১৫ জন হাঁস পালন কারী দল গঠন করা হয়। হাস পালনকারীদের মধ্যে সকলেই নারী। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য গণসংগঠনের সদস্যরা হাঁস পালনকে নির্বাচন করে কারন এটা তাদের এলাকায় উপযোগী ও লাভজনক ।
এ প্রসঙ্গে এনএসএসএর রি-কল প্রকল্পের ফিল্ডফেসিলিটেটর মনিরা সুলতানা সখি ও রাধাঁ রানী জানান দলের সবাই হাসপালনের প্রশিক্ষণ পেয়েছে রি-কল প্রকল্পের মাধ্যমে । দলের কেউ কেউ আবার ব্যবসা পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণও পেয়েছে ।প্রকল্প থেকে প্রত্যেকে ১০টি করে খাকী ক্যাম্পবেল জাতের হাস পেয়েছে ।
এখন তাদের প্রত্যেকের গড়ে ২০-২৫টি হাস রয়েছে ।দলগতভাবে হাস পালন করে তারা এখন খুব খুশী ।প্রত্যেক মাসে তারা দলের সভা করে ,তাদের নিজেদের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আালোচনা করেন,মতবিনিময় করেন ।নিজেদের সদস্যদের মধ্য থেকে টীকাদানকারী ও ডিম বিক্রেতা তৈরি করেছেন ।
সময়মত উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করে দলের সবাই হাসের টীকা প্রদান করেন এবং একসাথে ডিম বিক্রি করেন । প্রতিমাসে একজন সদস্য ১৫০০-২০০০ টাকার ডিম বিক্রি করেন ।ডিম বিক্রির অর্থ তারা ছেলেমেয়ের লেকাপড়া,চিকিৎসা,পারিবারিক বাজার ,ঘর মেরামত ইত্যাদি কাজে ব্যয় করেন ।
এছাড়া পরিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও সম্ভব হচ্ছে । বর্তমানে দলের সবাই হাস পালনকে একটা ব্যবসায় পরিণত করার জন্য সঞ্চয় করছেন । তাদের প্রত্যেকের ৪০-৫০টি হাস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে ।
কেননা হাস পালনের যেকোন সমস্যা সমাধানের জন্য তাদের স্থানীয় সেবাদানকারী ও প্রাণিসম্পদ অফিসের সাথে কার্যকর যোগাযোগ সৃস্টি হয়েছে ,তাদের নিজেদেরও মনোবল আছে । হাস পালনকারীদলের সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য পরিবারও ব্যবসা হিসেবে হাস পালনকে বেছে নিচ্ছেন । সমম্প্রতি সরেজমীনে দেখা যায় এ দলেরই একজন সদস্য রুনু বেগম (৪০) স্বামী আলতাফ হোসেন দুই ছেলে- বড় ছেলে মিজান বি এ পড়ালেখা করে ছোট ছেলে মেহেদী ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র । রুনু বেগমের স্বামী আলতাফ হোসেনের চাষ করার মত কোন জমি জমা নেই ছেলেদের নিয়ে কোন বেলা খেয়ে নাখেয়ে দিনাতিপাত করত। রিকল প্রকল্প থেকে হাস পাওয়ার পর হাস পালন করে হাসের ডিম বিক্রি করে ছেলেদের বই খাতা কলমসহ সংসারের খরচ যোগাচ্ছে রুনু বেগম । তার এখন কষ্ট হচ্ছেনা ছেলে মেয়েদের নিয়ে এবং উপোস ও থাকতে হয়না । তিনি ডিম বিক্রি করে এবছর প্রায় ৮/৯ হাজার টাকা আয় করেছেন এবং ১০/১৫ টি হাস বিক্রি করেছেন । বর্তমানে তার ৩০ টি হাঁস রয়েছে বে-সরকারী সংস্থা এনএসএস এর নির্বাহি পরিচালক এ্যাডঃ শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন গ্রামীন নারীদের আর্থিকভাবে লাভবান ও নারীদের অধিকার এবং তাদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে নিয়ে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ও আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে হাঁস পালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সবজি চাষসহবিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে।




