যশোর প্রতিনিধি : দাবি করা ঘুষের টাকা না দেওয়ায় মাহবুবুর রহমান নামে এক পাসপোর্ট প্রত্যাশীকে বেদম মারপিট করেছে পুলিশ। যশোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ৬ এপ্রিল রবিবার দুপুরে ওই ঘটনার পর অভিযুক্ত ৪ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে।

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার আগরা গ্রামের মাহবুবুর রহমান জানান, নির্ধারিত ৩ হাজার ৫ টাকা ব্যাংকে জমাদানের পর ফরম পূরণ করে তা পাসপোর্ট অফিসে জমা দেওয়ার এক মাসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি এ পাসপোর্ট করতে এসে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ করেছেন। রবিবার তার পাসপোর্টটি দিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা পাননি।
তিনি অভিযোগ করেন, যশোর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত আনসারের প্লাটুন কমান্ডার হারুন অর রশিদ ৩ এপ্রিল পাসপোর্টটি পাইয়ে দেবেন বলে তার কাছ থেকে ১ হাজার ৩শ টাকা ঘুষ নেন। এর আগে পুলিশ ইনভেস্টিগেশনে তিনি দেন ২ হাজার টাকা। কিন্তু ৩ এপ্রিল তাকে পাসপোর্ট পাইয়ে দেননি আনসার প্লাটুন কমান্ডার হারুন। আবার নতুন করে এক হাজার টাকা দাবি করেন পুলিশের কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম। এ দফায় তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন।
এ সব বিষয় তিনি সাংবাদিকদের অবহিত করলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক জাকির হাসানের কাছে। তিনি ঘটনা তদন্তে এর সত্যতা পান এবং জেলা আনসার অ্যাডজুটেন্টকে অনুরোধ করেন ওই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহারের জন্য। একই সঙ্গে তিনি মাহবুবুর রহমানের পাসপোর্ট যাতে নির্বিঘেœ পাওয়া যায় তারও আশ্বাস দেন।
বিষয়টির মীমাংসা হলে তিনি বাড়ি যাওয়ার জন্য বাইরে এলে সেখানে পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল, নায়েক আশরাফুল, কনস্টেবল আখিরুল এবং কনস্টেবল রাকিবুল তাকে ব্যারাকের পাশে নিয়ে যান এবং মারধর করতে থাকেন। তার চিৎকারে পাসপোর্ট অফিসের লোকজন ছুটে এলেও পুলিশের হাত থেকে তিনি নিষ্কৃতি পাননি। মারপিট করতে করতে তার পরনের কাপড়ও ছিড়ে ফেলেন পুলিশ সদস্যরা।
এ অবস্থায় পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক পুলিশে খবর দিলে সদর সার্কেলের এএসপি রেশমা শারমিন, সার্কেলের এএসপি মিলু মিয়া বিশ্বাসসহ পুলিশ কর্মকর্তারা সেখানে ছুটে যান। তারা ঘটনাটি শুনে ৪ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করেন।
এএসপি রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, ৪ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। এরপর অফিসিয়াল রিপোর্ট হলে তাদের সাসপেন্ড করা হতে পারে।




