বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার বেতাগী থানার এসআই রিয়াজুল ইসলামের ছোট ভাইয়ের শ্বশুর বেতাগীর কেওড়াবুনিয়া গ্রামের আ’লীগ নেতা আঃ লতিফ খান। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি মাহফিলকে কেন্দ্র করে আঃ লতিফ খানের ছেলেদের সাথে বাক বিতন্ডা হয় একই গ্রামের কিশোর সুমনের (১৮)। বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে দু-দফায় হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেতাগী থানায় অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয় সুমন ও তার পরিবার। তবে বড় মেয়ের ভাসুর বেতাগী থানার এসআই রিয়াজুল ইসলামের সহযোগিতায় বেতাগী থানায় প্রতিপক্ষ সুমনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন আঃ লতিফ খান।

আঃ লতিফ খানের দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে সুমনকে তার বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তার করে থানায় এনে থানা ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে পাশবিক নির্যাতন চালায় এসআই রিয়াজুল ঈমাম। সারাদিনে বেশ কয়েক দফায় নির্যাতনের পর অসুস্থ হয়ে পড়ে সুমন। এরপর বিকেল ৫টার দিকে বেতাগী থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয় সুমনকে। দেয়া হয় ব্যাথানাশক ইনজেকশন। এরপর পূণরায় সুমনকে হা-পা বেঁধে নির্যাতন চালায় এসআই রিয়াজুল ইসলাম। গুরুতর আহত অবস্থায় গত শুক্রবার দুপুরে বরগুনা জেল হাজতে পাঠানো হয় সুমনকে। সুমনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করে কারাকর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কিশোর সুমনের বড়ভাই মোঃ জাহাঙ্গির আলম বাদল। তিনি আরও জানান, সুমনকে গ্রেপ্তারের আগে তাদের বাড়িতে গিয়ে এসআই রিয়াজুল ঈমাম তার নিজের হাতে লেখা নিজের নাম এবং মোবাইল নম্বরের একটি কাগজ দিয়ে একলাখ টাকা নিয়ে বেতাগী থানায় এসে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। অন্যথায় সুমনসহ তার পরিবারের সকলের বড় রকমের ক্ষতি হবে বলে হুমকী দেন। এব্যাপারে বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন নির্যাতিতের বড় ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বাদল।
এ বিষয়ে বেতাগী থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ব্রাদার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে আহতবস্থায় সুমনকে নিয়ে বেতাগী থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন বেতাগী থানার কনষ্টবল আঃ লতিফ এবং ফারুক। সেসময় তারা সুমনের শরীরের নিন্মাংশে লাঠির আঘাত এবং হাঁটুর নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা সুমনকে ব্যাথা নাশক ইনজেকশনসহ অন্যান্য ওষুধ দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুমনের বিরুদ্ধে স্থানীয় আ’লীগ নেতা আঃ লতিফ খান বাদী হয়ে তার বাড়ির ধানভাঙ্গা মেশিনের তেল ও ফিতা চুরির অভিযোগে বাদী হয়ে গত ২৫ মার্চ একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং জিআর ৪০/১৪)। ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন বাদী আঃ লতিফ খানের বড় মেয়ের ভাসুর বেতাগী থানার এসআই রিয়াজুল ইসলাম।
এ বিষয়ে বেতাগী থানার এসআই মোঃ রিয়াজুল ইসলাম জানান, সুমন একটি খারাপ ছেলে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অনেক অভিযোগ রয়েছে। সুমনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মামলার বাদী আ’লীগ নেতা আঃ লতিফ খানের সঙ্গে তার আত্মিয়তার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সুমনকে শারীরিকভাবে কোন নির্যাতন করা হয়নি।
ব্যক্তিগত কারনে ছুটিতে থাকার কারনে এ বিষয়ে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তবে সুমনের পরিবার অভিযোগ করেন, নির্যাতন কালে তিনি উপস্থিত ছিলেন। বেতাগী থানার সেকেন্ড অফিসার মোঃ হারুণ অর রশীদ জানান, সুমনকে সকালের দিকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়েছে তখন তিনি পরীক্ষার ডিউটিতে বাইরে ছিলেন তাই তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।




