শ্যামলবাংলা ডেস্ক : পুলিশি বাধা ও লাঠিপেটায় শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে সমাবেশ করতে পারেনি গণজাগরণ মঞ্চ ও বিরোধীরা। পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে গণজাগরণ মঞ্চের ৭ কর্মীসহ ৮ জনকে আটক করে। পুলিশের লাঠিপেটায় মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। পুলিশের লাঠিপেটায় জাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লাকী আক্তার, মাহমুদুল হক মুন্সী, বাঁধনসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, দুই পক্ষ সমাবেশ করার চেষ্টা চালালেও কেউ সমাবেশের পূর্বানুমতি নেয়নি। তাই পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়েছে। আটক করেছে কয়েকজনকে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে শাহবাগে রাখা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের চেয়ারে বসা নিয়ে দু’পক্ষের দুই দফা মারামারিতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হন। ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা হামলা চালিয়েছে অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৪টায় শাহবাগে সমাবেশের ডাক দেয় গণজাগরণ মঞ্চ। জাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে তার প্রতিবাদে একই সময় শাহবাগে পাল্টা সমাবেশের ডাক দেয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় সংসদ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় সংসদের নেতাকর্মীরা শাহবাগে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। ওইসময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর ৪টার দিকে শাহবাগে আসেন মাহমুদুল হক মুন্সীসহ গণজাগরণ মঞ্চের বেশ কিছু নেতাকর্মী। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে গণজাগরণ মঞ্চের আরও অনেক কর্মী শাহবাগে আসেন। তখন পুলিশ তাদের সরে যেতে বলে। ওই সময় জাদুঘরের সামনে তাদের জটলা ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করলে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ইমরান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করলে সেখানে রায়ট কার তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর জাদুঘরের পূর্ব-উত্তর কোণ থেকে মিছিল শুরু করেন জাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। মিছিলে পুলিশ কয়েক দফা বাধা দিলে তারা বাধা ডিঙানোর চেষ্টা করেন। পরে পূবালী ব্যাংকের সামনে এলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় লাকি আক্তার ও মাহমুদুল হক মুন্সী আহত হন।
এদিকে সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকবৃন্দ’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এফএম শাহীন ডা. ইমরান এইচ সরকারকে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মঞ্চকে ব্যবহার করে ইমরান এইচ সরকার দেশি ও প্রবাসী বাঙালিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহের মাধ্যমে আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তিনি ইমরানের ব্যাংক ব্যালান্স ও সম্পদের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ এবং দুদককে তদন্তের আহ্বান জানান।




