আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : সান্তাহার -পার্বতীপুর রেল লাইনে চোরাচালানী ইজারাকে কেন্দ্র করে আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে নীলফামারী থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আন্তঃনগর তিতুমির ট্রেনে হামলা চালিয়েছে জাতীয় পার্টি সমর্থিত নেতাকর্মিরা । গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮ টা থেকে দফায় দফায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারিদের মারপিটে ট্রেনের পরিচালক আব্দুল মালেক ও টিকেট কালেক্টর আরাফাত হোসেন গুরুত্বর আহত হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে থম থমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

যাত্রীরা ও ট্রেন পরিচালক আব্দুল মালেক জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮ টায় সান্তাহার আন্তঃনগর তিতুমির ট্রেনটি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছাড়ার বাশি দেওয়া মাত্র দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত শতাধিক ব্যাক্তি ট্রেনে হামলা করে। এসময় তারা ট্রেনের ভিতরে প্রবেশ করে যাত্রীদের মালামাল লুট সহ ট্রেনের হুস পাইপ খুলে দেয়। এ সময় বাধা দিলে হামলাকারিরা গার্ডের উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার হাতের দুটি আঙ্গুল শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে জখমের সৃষ্টি হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে গেলে ট্রেনের টিকেট কালেক্টর আরাফাত হোসেনও হামলার শিকার হন।
ঘটনার এক পর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামী, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী সান্তাহার জংশন ষ্টেশন এলাকায় লাঠি-সোডা নিয়ে উপস্থিত হয়ে হামলাকারিদের ধাওয়া করে স্টেশন এলাকার দখল নেয়। এ সময় ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে চরম আতংক সৃষ্টি হয় এবং প্রাণ ভয়ে যাত্রীরা ট্রেনের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়।
এ ব্যাপারে সান্তাহার জিআরপি থানার ওসি শরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি ষ্টেশন এলাকায় ছিলেন না। তবে, ঘটনা জানার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে আদমদীঘি থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি নাজির হোসেন মিলন সাংবাদিকদের মোবাইলে জানান, এ ঘটনার সাথে জাতীয় পার্টির কেউ জড়িত নয়। তিনি বলেন, আমরা জিআরপি থানার মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার সময় কারা হামলা চালিয়েছে তা আমার জানা নেই।
অপর একটি সুত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে রেলের চোরাচালানী রুটের নিয়ন্ত্রনে নেওয়া জন্য পুলিশের সাথে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে রশি টানাটানি চলছিল। রাত ১০ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাজশাহীগামী আন্তঃ নগর তিতুমির ট্রেন সান্তাহার স্টেশনে আটকে রয়েছে। ষ্টেশানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




