স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে এক বৃদ্ধ কৃষককে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে দুর্বৃত্তদের বাড়ীঘর গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। ২ এপ্রিল বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জানা যায়, সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের জনৈক নুর মোহাম্মদ, আব্দুর রশিদ ও ফকরুলদের নানা অসামাজিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল এলাকাবাসী। তাদের ওইসব অপকর্মে এলাকাবাসীকে প্রতিবাদী করে তোলেন স্থানীয় বৃদ্ধ কৃষক হাজি ইসমাইল। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কাছে লিখিতভাবেও একাধিকবার অভিযোগ করে অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধে। এতে হাজি ইসমাইলের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই দুর্বৃত্ত চক্র। ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হাজি ইসমাইলকে তার নিজস্ব মেশিন ঘরে একা পেয়ে একই গ্রামের দুর্বৃত্ত চত্রের হোতা নূর মোহাম্মদ এবং তার সহযোগী আব্দুল রশিদ ও ফকরুল গংরা ওই মেশিনঘরে হানা দিয়ে তাকে মারপিটে গুরুতর আহত করে। ওই ঘটনায় নুর মোহাম্মদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হলেও এখনও গ্রেফতার হয়নি কোন দুর্বৃত্ত। এরই জের ধরে বুধবার দুপুরে আহত হাজি ইসমাইলের জ্ঞাতিগোষ্ঠির লোকজনসহ প্রায় ২ শতাধিক বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই দুর্বৃত্তদের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। ওইসময় বাড়ির লোকজন আত্মরক্ষায় বাড়ি-ঘর ফেলে অন্যত্র চলে গেলে তারা ৩ টি বাড়ির ৮টি টিনের ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। ক্ষতিগ্রস্থরা নিজেদের বিএনপি সমর্থক এবং হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ সমর্থক বলে দাবি করলেও এলাকাবাসী জানিয়েছে, ঘটনাটি কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের হিসেবে নয়। তারা জানায়, ক্ষতিগ্রস্থরা প্রকৃতপক্ষে দুষ্ট প্রকৃতির লোক এবং গ্রামবাসীদের বেশীর ভাগ মানুষ তাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছে। এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে নানা অপকর্ম ও একাধিক মামলা থাকার কারণে অনেকটা একঘরে জীবনযাপন করে আসছে তারা।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহফুজার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




