ইমরান হোসাইন, তানোর : রাজশাহীর তানোরে পিডিবি’র ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এখানে গত দু’সপ্তা ধরে কোন প্রাকৃতিক সমস্যার সৃষ্টি না হলেও কারণে অকারণে পিডিবি এলাকাধীন বিদ্যুৎ ২৪ ঘন্টার বিপরীতে তিন ঘন্টা মিললেও লো-ভল্টেজে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে গত বুধবার রাত থেকে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। একারণে রোপিত বোরো ক্ষেত নিয়ে কৃষকরা ভোগান্তি পোয়াচ্ছেন।
অপরদিকে, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা পড়েছেন মহাবিপদে। এখানে বিদ্যুৎ ভোগান্তির কারণে স্বাভাবিক নিয়মে কোন কাজ করতে পারছেন গ্রাহকরা। ফলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পিডিবি এলাকাধীন গ্রাকদের। এভাবে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প ও মেশিন যন্ত্রপাতিতে সুষ্ঠ ভাবে কোন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণে অকারণে বিদ্যুতের ঘনঘন যাওয়া আসার সমস্যায় শিক্ষার্থীরা চরম দেকায়দায় পড়ে পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন তারা।
এদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ আবাসিক-অনাবাসিক এলাকার লোকজনের মাঝে বিদ্যুৎ সমস্যার কারনে স্বাভাবিক কাজ কর্মব্যহত হচ্ছে। ফটোস্ট্যাট, কম্পিউটার সেন্টারগুলো বিদ্যুৎ না থাকার কারণে লোকজন তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ করতে পারছেন না। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের ফলে রাইসমিল, সমিল, ডাউল মিল, কোল্ড ষ্টোরেজ, ক্ষুদ্রশিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কারণে অকারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে ঘন্টার পর ঘন্টা। সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ বার বিদ্যুৎ সরবরাহ আসা-যাওয়া করায় বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প একেবারেই বন্ধ হয়ে পড়েছে। যার ফলে কৃষকের বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ চলে গেলেই দেড় থেকে ২ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় জনগনকে দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
এনিয়ে তানোর পৌর এলাকার চাঁদপুর গভীর নলক‚প চালক মাসুম পারভেজ জানান, কৃষকের রোপিত বোরো ক্ষেত উঠা পর্যন্ত পিডিবি এলাকাধীন ২৪ ঘন্টার বিদ্যুৎ ২ ঘন্টা লোডশেডিং থাকার নিয়ম থাকলেও দিনে প্রায় ১৬ ঘন্টা ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। এরমধ্যে সরবরাহ করা ভয়াবহ লো-ভল্টেজ। একারণে গভীর অগভীর নলকূপ অপারেটররা সুষ্ঠ ভাবে বোরো ক্ষেতে সেচ পরিচালনা করতে পারছেন না। যার ফলে তার সেচ পাম্প এলাকার প্রায় অর্ধেক বোরো ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।
এ নিয়ে নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা জানান, চৈত্রের গরমে ঘনঘন বিদ্যুত আসা-যাওয়ার কারণে ঠিকমত লেখাপড়া করতে পারছেন না তারা। বিদ্যুতের এই বেহাল অবস্থার উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতে পরিক্ষার পড়া তৈরি করতে সমস্যা পোয়াতে হবে এঅঞ্চলের পরিক্ষার্থীদের। একারণে আগামী ৩ এপ্রিল এইচএসসি পরিক্ষার রেজাল্ট নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন পরীক্ষার্থীর ।
এবিষয়ে তানোর আব্দুল করিম সরকার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান মিয়া বলেন, বর্তমান পেক্ষাপটে বিদ্যুতের বেহাল অবস্থা নিয়ে পরিক্ষার্থীদেরকে প্রতি বছর বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। একারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া করতে পারছে না । তিনি পরিক্ষা চলাকালিন সময়ে বিদ্যুৎ সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
এনিয়ে আমাশো গ্রামের সেচ পাম্পের মালিক আব্দুল মান্নান জানান, পিডিবি এরিয়ার মধ্যে তার প্রায় চারটি সেচ পাম্প (অগভীর নলকূপ) রয়েছে। গত প্রায় তিন সপ্তা ধরে পিডিবি’র লো-ভল্টেজ সরবরাহে বিদ্যুৎ চালিত তার দুটি সেচ পাম্পসহ পিডিবি এলাকাধীন প্রায় ১৫০টি গভীর অগভীর নলকূপ একে বারেই অচল হয়ে পড়েছে। একারণে সেচ পাম্প এরিয়ার হাজার হাজার বিঘা কৃষকের বোরো ক্ষেত ফেঁটে চৌচির হয়ে গেছে। একারণে বাধ্য হয়ে গতকাল রোববার কৃষকদেরকে সঙ্গে নিয়ে তানোর পিডিবি অফিসে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা জানান।
এনিয়ে তানোর থানার মোড়ের স্টুডিও ব্যবসায়ী রাজিব, মোবাইল ও ফ্যাক্সী ব্যবসায়ী অসিম কুমার সরকার, ফটোষ্ট্যাট ব্যবসায়ী মহাসিন আলী, রুস্তম আলীসহ আরো অনেকে জানান, বিশেষ করে গত বুধবার থেকে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের বৃদ্ধি পেয়েছে। একারণে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাতœক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ চালিত গভীর অগভীর নলকূপ (পাম্প) বন্ধ থাকলেও বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের বিষয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এবিষয়ে তানোর পিডিবি’র আবাসিক প্রকৌশলী ইখতেখার আহম্মেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, তানোরে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে তিন মেগাওয়ার্ড। কিন্তু সরবরাহ থাকে আড়াই মেগাওয়ার্ড। বর্তমানে সমস্যা কাটিয়ে প্রায় তিন মেগাওয়ার্ড বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকছে। এছাড়াও বিদ্যুতের মেগাওয়ার্ড বাড়ানোর কাজ চলছে। আগামী পহেলা এপ্রিল হতে বিদ্যুৎ সমস্যা থাকবে না আশাবাদ ব্যক্ত করেন। #




