জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম বলেছেন-জাতীসংঘের রিপোর্টে এশিয়া মহাদেশের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে নারী-শিশু নির্যাতন, সহিংসতার মাত্রা অন্যতম। যা উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের মধ্যে জামালপুর জেলা এ তালিকায় শীর্ষে। এক সমীক্ষায় দেখাগেছে সারা জেলায় ২০১০,১১,১২ সালে নারী-শিশু নির্যাতন মামলা ছিল ৫শ’২৫টি। ২০১৩ সালে মামলা হয়েছে সাড়ে ৩শ’।

২০মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীসংঘের আর্থিক সহায়তায় প্রটেকশন এন্ড এনফোর্সমেন্ট অব ওমেন রাইটস প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পুলিশ আয়োজিত জামালপুর পুলিশ সুপার মো: নজরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার শুভ উদ্বোধনকালে বক্তব্যে এ কথা বলেন।
নারী নির্যাতনের কারণগুলো চিহ্নিত করে তিনি বলেন-জুয়ার টাকা যোগাড়ে স্ত্রীর গয়না বিক্রি অথবা যৌতুকের জন্য স্ত্রীর উপর চাপ সৃষ্টি করা। এরপর থেকে জুয়া নির্মূলে অভিযানে নামি। দেখি কি ফলাফল আসে। জেলার বিভিন্ন স্পটে ২০/৩০টি জোয়ার বোর্ড চলতো। শীর্ষ জুয়াড়ীরা কোন দিন ভাবেনি তাদেরকে জেলে যেতে হবে । তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। জামালপুর এখন জুয়ামুক্ত । এতে নারী নির্যাতনের পাশা পাশি ৩৩% অপরাধও কমেছে।
মূলত: নারী নির্যাতন, বাল্যবিয়ে রোধে পুলিশ ও প্রতিবেশী যা পারেনা; পিতা-মাতা তা পারেন। এ জেলায় নারী-শিশু নির্যাতন ও বাল্য বিয়ের ঘটনা আমাকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। পাঠ্যপুস্তকে বাল্যবিয়ে রোধে বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করা জরুরী।
বাল্যবিয়ের খবরটি পুলিশকে জানানোর আহবান করে তিনি আরো বলেন-পুলিশ কথা না শুনলে এসপি অথবা এএসপিকে সরাসরি মোবাইল করবেন। শুধু পুলিশ নয়; সম্মিলিত প্রয়াসে বাল্যবিয়ের মত অনেক অপরাধ বন্ধ করতে পারি। অনেক ক্ষেত্রে নারী নির্যাতন মামলায় স্বামীসহ বাবা, মা অন্যরা আসামী হন। এ ক্ষেত্রে স্বামী নাচাইলে স্ত্রীকে অন্যরা নির্যাতন চালাইতে পারেন না। সেই জন্য কিছু কিছু মামলায় স্বামীকে প্রধান আসামী রেখে বাকিদের অব্যাহতি দেয়া হয়।
নারী নির্যাতনসহ সকল অপরাধ দমনে চৌকিদারের ক্ষমতা বৃদ্দির সাথে সচেতন মহলের নেটওয়ার্কিং বাড়ানো উচিত। নারীরা পুরুষদের কাছে যেতে নাদিলে ধর্ষনের মত নানা অপরাধ ঘটবেনা। নির্যাতনও হবে না। বর্তমানে মেয়েরা অন্যের তুলনায় নিকটাত্মীয়দের কাছে অনিরাপদ।
এ কথা সত্য উদ্ভাবনীর ক্ষেত্রে পুরুষরা এগিয়ে থাকলেও পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশী সৎ, নিষ্ঠাবান, দায়িত্বশীল। মনে রাখতে হবে নারীরাও মানুষ। প্রতিভাবান। এমনকি কোন কাজেই তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করার কারণ নেই। নারীদের স্বাবলম্বি হতে হবে। করতেও হবে।
নিজেকে বদলাতে হলে মানুষের মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ বিশেষ করে ইসলাম ধর্মের মূল্যবোধকে কাজে লাগাতে হবে। কেননা একজন ধার্মিকই জানেন কিভাবে নারীর প্রতি মর্যাদা দেখাতে হয়। নারীর মর্যাদা রক্ষা করতে হয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের দেশের ন্যায় অশ্লীলতা অন্যত্র নেই। জাতীসংঘের ওয়েব সাইটে কোন অশ্লীলতার ছোয়া নেই। পক্ষান্তরে আমাদের সমাজে প্রায় প্রতিটি কম্পিউটার দোকানে অশ্লীলতায় ভরা। এ অশ্লীলতার পর্নোগ্রাফী মোবাইলের মেমোরিতে স্বল্প টাকায় প্রকাশ্যে বেচা-কেনা হচ্ছে। শিশুদের উপর এর প্রভাবও পড়ছে। মানুষের কাছে শিশুরা যা দেখে, শুনে শিশুদের মাঝে তাই প্রলুব্দ করে। সকল পর্নোগ্রাফীর বিরুদ্বে সচেতন, প্রতিবাদি ও সোচ্চার হতে হবে।
নারীদের বিপথগামী থেকে রক্ষায় আরো করণীয় বিষয় হচ্ছে-স্বামী বিয়ের পরই বিদেশে বেশী দিন অবস্থান করে। এতে নারীকে নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিতে হয়। এটিও একটি অমানবিক। সমাজকে ভাল রাখতে হলে ইনফরমেশন ওয়ার্কিংএর মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আইন জানা-মানা বাধ্যতামূলক। অথচ এমএ পাশধারীরাও আইন জানেনা।
অফিসার ইনচার্জ ওসি বিলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-সাবেক মুক্তিযোদ্বা সংসদের জেলা কমান্ডার সরকার আ: সালাম বকুল, সাবক উপজেলা কমান্ডার আলহাজ আ: মান্নান, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ একেএম হাবিবুর রহমান চাঁন, উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক আ:রাজ্জাক সুজা, চেয়ারম্যান মেম্বার সমিতির সভাপতি আলহাজ কিসমত পাশা, জাহানার লতিফ মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল এস এম আনছার আলী, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক মো: শাহ্ জামাল, আ’লীগের যুগ্ম আহবায়ক আবুল মনসুর খাল দুলাল, কলাবাধা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ খালেকুজ্জামান জুবেরী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হায়দার আলী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন আক্তার, জেলা যুবমহিলা লীগের সভাপতি শামীমারা লিটা, উপজেলা যুবমহিলা লীগের সভানেত্রী মালেহা আক্তার মালা, জালাল মেম্বার, কামরুল ইসলাম খান প্রমুখ।




