শ্যামলবাংলা স্পোর্টস : পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ-উল হকের মতে, শহিদ আফ্রিদির ২৫ বলে ৫৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংসের পরও ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েনি বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে মিসবাহ স্পষ্টই বলেন, ‘৪৮তম ওভারে (বোলার ছিলেন আবদুর রাজ্জাক) ফাওয়াদ আলমের দুটি ছয়ই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। এর আগে উভয় দলের সমান সম্ভাবনা ছিল।’ আফ্রিদি আউট হওয়ার পর শেষ তিন ওভারে ৩১ রান প্রয়োজন ছিল পাকিস্তানের। কিন্তু রাজ্জাকের করা ৪৮তম ওভারে দুটি ছয়ে ১৮ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় পাকিস্তান। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক ওই ওভারকে টার্নিং পয়েন্ট মানতে নারাজ। তার মতে, আফ্রিদির রুদ্রমূর্তির কাছে তারা হেরে গেছেন। তিনি বলেন, ‘আফ্রিদি যখন এভাবে মারতে থাকে, তখন আসলে করার কিছু থাকে না। আমাদের সেরা বোলার সাকিবকে এক ওভারে তিনটি ছক্কা মেরে দিয়েছে সে!’

হয়তো একজন নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে দায়ী না করার জন্যই মুশফিকের এ কৌশল। তবে গতকাল একটি বিষয় ছিল লক্ষণীয়। আফগানিস্তান কিংবা শ্রীলংকান বিপক্ষে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজেই যেন অনুশোচনায় পুড়তেন মুশফিক। গতকাল তিনি ছিলেন কিছুটা আক্রমণাত্মক। তার কৌশল এবং অধিনায়কত্বের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই রূঢ় হয়ে উঠলেন তিনি। একটি প্রশ্নের জবাবে নির্বাচকদের জিজ্ঞাসা করার পরামর্শও দেন। তবে মুশফিক না মানলেও আফ্রিদিঝড়ের পরও তো যথেষ্ট সুযোগ ছিল। ৩ ওভারে ৩১ রান তো মুখের কথা নয়। আর তখন আফ্রিদি নামক দানবও নেই। মুশফিক বরং রাজ্জাককে আড়াল করার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকলেন। কিন্তু তিনি চেষ্টা করলেই কি তা সম্ভব? গতকাল বাংলাদেশের সবচেয়ে খরুচে বোলারটির নাম রাজ্জাক। নয় ওভারে ৭২ রান দিয়েছেন তিনি। ৪৮ নম্বর ওভারে বোলিং করার সময় তার যে শরীরী ভাষা ছিল, তাতেই প্রশ্নটা ওঠে। শেষ সময়ে তিনি হাফভলি ডেলিভারি দিয়েছেন। ফাওয়াদ আলমের মতো খোলসে ঢুকে থাকা ব্যাটসম্যানও অবলীলায় ওইসব ডেলিভারিকে সীমানার ওপারে পাঠিয়েছেন। অথচ রাজ্জাককে দলে নেওয়ার প্রধান কারণ তার অভিজ্ঞতা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের পর বিসিবি রাজ্জাকের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন পর্যন্ত তুলেছিল। এরপরও ইনফর্ম আরাফাত সানিকে বাদ দিয়ে রাজ্জাককে নেওয়া হয়েছে। গতকাল প্রমাণ হয়ে গেছে যে, ফর্ম না থাকলে শুধু অভিজ্ঞতা দিয়ে বেশিদূর যাওয়া যায় না। মুশফিক কিন্তু ভালোমতো দাঁড়িয়েছেন রাজ্জাকের পাশে। ওই ওভারের প্রসঙ্গ টানতেই তিনি বলেন, ‘একজনের জন্য পুরো দল হেরেছে, এটা আমি কখনোই ভাবি না। দুর্ভাগ্যবশত ওই ওভারে (৪৮) দুটি বাজে বল হয়ে গেছে।’ কিন্তু তিনিই একটু আগে বলেছেন যে, এক আফ্রিদির কাছেই তারা হেরে গেছেন। আর আরাফাত সানিকে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ম্যাচে সানিভাই (আরাফাত) ভালো করলেও এমন একটি বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতার জন্যই আমরা রাজভাইকে (রাজ্জাক) নিয়েছিলাম। আর সাকিব ফিরে আসায় ভরসাও পেয়েছিলাম। তবে পারফরম্যান্স সবারই ওঠা-নামা করে। অতীতে তিনি (রাজ্জাক) যা করেছেন, সেটা বিবেচনায় এনে তার মতো সিনিয়র ক্রিকেটারকে এতটুকু শ্রদ্ধা দেখানো উচিত।’
মুশফিকের বোলিং পরিবর্তন নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে। একজন অলরাউন্ডার হিসেবেই নেওয়া হয়েছে জিয়াকে। আফগানদের বিপক্ষে দুই পেসারের একজন ছিলেন তিনি। অথচ গতকাল তাকে এক ওভারও বোলিং করালেন না মুশফিক। কারণ হিসেবে মুশফিক বলেন, ‘উইকেটে স্পিন ধরছিল। মুমিনুল, নাসির পর্যন্ত ভালো বোলিং করেছে। তাই আমি স্পিনারদের দিয়ে বোলিং করিয়েছি।’ তবে মুশফিকের বোলিং পরিবর্তন দেখে স্পষ্টই মনে হয়েছে, ফিল্ডিংয়ে নামার আগে যে ছক তিনি নিয়ে এসেছিলেন, সেখান থেকে একটুও নড়েননি। হয়তো সে কারণেই নিজেদের সেরা সংগ্রহটাকে রক্ষা করতে পারল না বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩২৬ (এনামুল ১০০, ইমরুল ৫৯, মুমিনুল ৫১, মুশফিক ৫১*, সাকিব ৪৪*; আজমল ২/৬১, তালহা ১/৬৮)
পাকিস্তান: (শেহজাদ ১০৩, হাফিজ ৫২, মিসবাহ ৪, মাকসুদ ২, ফাওয়াদ, রেহমান ৮, আফ্রিদি ৫৯, আকমল ১৪*, মুমিনুল ২/৩৭, মাহমুদুল্লাহ ১/৪৭, সাকিব ১/৫৩, রাজ্জাক ১/৭২ )
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: শহীদ আফ্রিদি




