মো. ফরিদুজ্জামান, (শ্রীবরদী) শেরপুর : ৩য় দফায় ঘোষিত ১৫ মার্চ শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে দুই জোটের সমর্থন প্রত্যাশীরা প্রাথমিক ধাপ শেষ করে অপেক্ষা করছেন ১৫ মার্চ দিনটির জন্যে। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফ হোসেন খোকা আনারস প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। অপরদিকে ১৯ দলীয় জোটের ৭ জন প্রার্থী দলের সমর্থন প্রত্যাশীদের মধ্যে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম দুলালকে সমর্থন দেওয়ায় জোটে তৈরী হয়েছে একাধিক গ্র“পিং। এর ফলে জোটের ৪ নেতা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেও জোটের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের নুরুজ্জামান বাদল ঘোড়া প্রতীক ও ডা..মোঃ সুরুজ্জামান মোটর সাইকেল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। এদিক থেকে আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী আশরাফ হোসেন খোকা এগিয়ে থাকলেও আ’লীগ সমর্থিত ভোটাররা বয়সগত ও শারীরিক অসুস্থ্যতাজনিত প্রশ্নে এ প্রার্থীকে ফিট মনে করছেন না। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তৈরী হয়েছে নানা দ্বিধা-দ্ব›দ্ব। কাকে ভোট দেবেন? কে উপজেলার যোগ্য নায়ক- এমন নানা প্রশ্ন যখন সাধারণ জনমনে, তখন যোগ্যতার দোহাই দিয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে একেএম সারোয়ার আলম খোকন এমবিএ শেষ করে দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন ও একমাত্র পৌরসভার মধ্যে খড়িয়াকাজীরচর, কুড়িকাহনীয়া, গোশাইপুর, গড়জরিপা ৪টি ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র কুরুয়া থেকে দু’জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›দ্বীতা করলেও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ফর্সা (হেলিকপ্টার) বিগত ৫ বছরে জনগণের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তার নির্বাচনী ভিত প্রায় শূণ্যের কোঠায় পৌছে গেছে। ফলে যোগ্যতা ও আঞ্চলিকতার টানে একেএম সারোয়ার আলম খোকন দুই জোটের হেভিওয়েট প্রার্থীকে পিছনে ফেলে জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী। অন্যদিকে ১৯ দলীয় জোটের সমর্থন থেকে বাদ পড়া দুই প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল ও ডা..মোঃ সুরুজ্জামান স্ব-স্ব ইউনিয়নে জোটের নেতা-কর্মীদের নিয়ে তাদের পক্ষে জনমত তৈরীর লক্ষ্যে মিটিং, মিছিল, গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্যে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে দিচ্ছেন নানামূখী উন্নয়নের প্রতিশ্র“তি। ফলে ১৯ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থীর ইমেজ নষ্টের পথে এগুচ্ছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর গণজোয়ার ক্রমে ক্রমেই ভাটায় পরিণত হলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। এদিকে আ’লীগের সমর্থন থেকে বাদ পড়া উপজেলার সাবেক খড়িয়াকাজীরচর ইউপি চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুলাহর সমর্থকরা তার বাদ পড়াটাকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। বাদ পড়া এ প্রার্থী মহাজোট সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে জোরালো অংশগ্রহণ না থাকলে আ’লীগের বৃহৎ একটি ভোটের অংশ অন্যদিকে মোড় নিতে পারে। এর প্রভাবে এ প্রার্থী জয়ের ব্যাপারে অনেকটা পিছিয়ে পড়বেন। ফলে এর সুফলটা পাবেন এডিএম শহিদুলাহর পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন কুড়িকাহনীয়ার একেএম সরোয়ার আলম খোকন। উপজেলার স্বতন্ত্র আরও দুই প্রার্থী খন্দকার ফারুক (ব্যাটারি) ও অপর প্রার্থী আকরামুজ্জামান (টেলিফোন) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করলেও এলাকায় তাদের পরিচিতি কম থাকায় ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যহীন। ফলে এ দুই প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে পার্শ্ববর্তী ১৯ দলীয় জোটের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের পক্ষে রায় আসলে তার জয়ের দ্বার অনেকটা উন্মুক্ত হবে বলে বিভিন্ন মহলের ধারণা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা দুইজোটের সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত সকল অভিমান ভুলে গিয়ে প্রধান দুই জোটের পক্ষেই ভোট দিবেন। কারণ হিসেবে জানতে চাইলে তারা বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাপক ভোটের জোয়ার থাকা সত্বেও শেষ মুহুর্তে দুই জোটের পক্ষেই রায় এসেছে। তবে বিভিন্ন মহলের ধারণা জাতীয় নির্বাচনে ভোটাররা জোটের পক্ষে রায় দিলেও স্থানীয় নির্বাচনে আঞ্চলিকতা ও ব্যক্তি পরিচয়ে ভোটাররা ভোট দেবেন। এদিক থেকে ব্যক্তি পরিচয়ে এগিয়ে রয়েছেন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আশরাফ হোসেন খোকা। তার দীর্ঘদিনের রাজনীতি, মানবসেবা, সাবেক সফল ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে শেরপুর জেলাজুড়ে সর্বমহলে তার ব্যাপক পরিচিতি থাকায় জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী দলের একটি বৃহৎ অংশ।
এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৯ দলীয় জোটের পক্ষে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুলাহ আল মামুন দুলাল চশমা, আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল হামিদ সোহাগ (তালা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহামেদ নিলু টিয়াপাখী ও মোফাজ্জল হক মাইক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করছেন। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুলাহ আল মামুন দুলালের আচরণে সর্বমহলে ব্যাপক সন্তুষ্টি থাকায় উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ১৯ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মোছা. লিপি বেগম (ফুটবল) ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত শাহানাতুল আরেফিন সুমি (কলস) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বদ্বীতা করছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৯ দল সমর্থিত প্রার্থী লিপি বেগমের প্রচার-প্রচারণা বেশ সাড়া জাগিয়েছে।




