হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : চাকুরি জাতীয় করণ ঘোষনার এক বছর পরও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ৫২ রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ৬ মাস ধরে বেতন-ভাতা বিহীন মানবেত জীবন যাপন করছেন। তাই ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে জরুরি প্রতিকার দাবি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়,গত বছরের ৯ জানুয়ারী ঢাকায় এক শিক্ষক সমাবেশে প্রধান মন্ত্রী সারা দেশের ২২হাজার ৯২৫টিরেজিস্ট্রার্ড বেসরকারী প্রাইমারী স্কুল ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ লাখ ১৪ হাজার ৬২৫জন শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকুরি একযুগে সরকারী করণের ঘোষণা দেন। কিন্তু ঘোষণার এক বছর পেরিয়ে গেলেও অদ্যবধি শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোন সরকারী সুযোগ-সুবিধা পাননি। ঈদুল আযহার আগে আগষ্ট-২০১৩ পর্যন্ত বেতন-ভাতা পেলেও গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রয়ারী-১৪ইং পর্যন্ত ৬ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এমতাবস্থায় বেতন-ভাতা না পেয়ে বেশির ভাগ শিক্ষকরা চড়া সুদে অগ্রিম চেক বিক্রি করে কষ্টে-পৃষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলায় ৫২টি রেজিস্ট্রার্ড বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে সরকারী) রয়েছে। এ সব বিদ্যালয়ে ২০৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত আছেন। সরকারী ঘোষণার আগে তারা তৎকালিন নীতিমালা অনুযায়ী নিয়মিত বেতন ভাতাদি পেয়েছিলেন।প্রধান মন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন কল্পে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি উপজেলা যাচাই-বাচাই কমিটি গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ওই কমিটির লোকজন সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিটি বিদ্যালয়ের নামের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে প্রেরণ করেন। কিন্তু সরকারী করণের প্রজ্ঞাপণ জারি হলেও অফিসিয়াল কাজকর্ম সম্পন্ন না হওয়ার কারনে সারা দেশের ন্যায় হোসেনপুর উপজেলার ২০৮ জন শিক্ষক ৬ মাস ধরে বেতন-ভাতাদি পাচ্ছেনা। ফলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান,গত ৬ মাস ধরে বেতন-ভাতাদি না পেয়ে তারা বেতনের চেক,স্বর্ণালংকার ও জমি বন্ধক দিয়ে নিদারুন কষ্টে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
উপজেলা রেজিঃ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আলাল উদ্দিন জানান, সরকারী করণের গেজেট প্রকাশ হলেও স্থানীয় হিসাব রক্ষণ অফিসে কোন কাগজপত্র না আসায় শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তিনি দ্রæত বেতন-ভাতাদি পরিশোধের জন্য যথাযথ কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এ কে এম বাছেদ জানান, সরকারী করণের নীতিমালা চুড়ান্ত পর্যায়ে। দ্রæত সময়ের মধ্যে তারা বকেয়াসহ বেতন-ভাতাদি পাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




