ads

বুধবার , ২২ জানুয়ারি ২০১৪ | ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদক দ্রব্য : ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
জানুয়ারি ২২, ২০১৪ ৪:০৫ অপরাহ্ণ

drugকুষ্টিয়া প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে আসছে ফেনসিডিল সহ সর্বনাশা মাদকদ্রব্য। ভারতীয় মাফিয়া চক্র শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে পৌছে দিচ্ছে আর দেশীয় চোরাচালানীরা নিত্য নতুন কৌশলে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে। উভয় দেশের চোরাচালানীদের কাছে মাদক ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় নানা প্রতিক‚লতার মধ্যেও ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে তারা।

Shamol Bangla Ads

একদিকে তাদের ভয়াল ব্যবসা অন্যদিকে দেশের নেশাগ্রস্থ যুব সমাজ ক্রমান্বয়ে ধাবিত হচ্ছে ধ্বংসের দিকে। ওপারে প্রশাসনিক দুর্বলতা, দীর্ঘ সীমান্ত’র অসংখ্য পয়েন্ট আর অভ্যন্তরে আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রশাসনের নিস্ক্রীয়তায় মাদকের আগ্রাসন বেড়েই চলেছে। কমেনি এতটুকু।খোঁজ খবর ও ব্যাপক তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে ফেনসিডিল সহ মাদকদ্রব্যের এখন চাহিদা এতবেশী যে, শুধুমাত্র এদেশে পাচারের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের বিভিন্নস্থানে গড়ে উঠেছে নকল ফেনসিডিলের কারখানা। মাদকাসক্তদের কাছে ফেনসিডিলের অপর নাম ডাইল, ফান্টু, মধু বা ছয় ইঞ্চি জুস হিসেবে। দেশের অভ্যন্তরে শহরাঞ্চল ছাড়াও তৃণমূল পর্যায়ে গড়ে উঠেছে ডাইল পট্টি। স্থানভেদে নেশাখোরদের কাছে এখন ফেনসিডিল, ডাবুর ও হেরোইন সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মাদকদ্রব্যের দরদাম উঠা নামা করে আবার দু’পাড়ের প্রশাসনিক তৎপরতার উপর সঙ্গতি রেখে। চারিদিকে এখন শুধু ফেনসিডিল আর হেরোইনের ছড়াছড়ি। অবস্থাদৃষ্টে এর বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক নয়, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরী হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এলাকা প্রায় ৬শ কিলোমিটার। সুন্দরবন এলাকার রায়মঙ্গল নদীর কাছে কৈখালী থেকে কুষ্টিয়ার হার্ডিং ব্রীজ পয়েন্ট এই দীর্ঘ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে চোরাচালান ঘাট। উভয় সীমান্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল শিথিল হলেই বানের পানির মত মাফিয়া চক্র ঢুকিয়ে দেয় মাদকদ্রব্য। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভাবী শিশু, কিশোর ও মহিলাদের কাজে লাগানো হচ্ছে মাদকদ্রব্য পারাপারে। সূত্র জানায়, ওপারে সীমান্তরীদের সাথে মাফিয়া চক্রের বিশেষ করে মাদকদ্রব্য পাচারে ইতিবাচক সম্পর্ক বিদ্যমান। নেশাদ্রব্য পাচারেও নাকি তাদের টহল ও মনোভাব শিথিল রয়েছে। কিন্তু এপারে সীমান্ত রক্ষীদের ভূমিকা কঠোর হলেও দীর্ঘ সীমান্ত জটিলতা ও দেশের অভ্যন্তরে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনের নামে ক্যাশিয়ারদের পরো সহযোগিতায় নেশাজাত দ্রব্যর বিকিকিনি বেড়েই চলেছে। আর এই নেশার টাকার যোগান দিতে যুব সমাজ জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ৯০ এর দশক থেকে মূলত ভারত থেকে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে মাদকদ্রব্য আসা শুরু হয়। ভারতের বোম্বে থেকে রোনপোলেঙ্ক কোম্পানী কফ সিরাপ হিসাবে ফেনসিডিল বাজারজাত করে বেশ আগে থেকেই। কিন্তু কর্তৃপক্ষ জানতে পারে বা ব্যাপকভাবে প্রচার হয় যে, ফেনসিডিলে নেশা হয়। এরপর তারা এ্যালকোহল’র মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। চাহিদা এবার তুঙ্গে চলে যায়। এক পর্যায়ে তা নিষিদ্ধ হয়। কিন্তু উৎপাদন বন্ধ হয়নি এক দিনের জন্য হলেও। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের নেশাখোরদের কাছে ফেনসিডিলের চাহিদা বাড়তে থাকলে পাচার ও বেড়ে যায় বহুগুনে। সেই থেকে ফেনসিডিল আসছে তো আসছেই। এমন কোন দিন নেই যে, মাদকদ্রব্য অভ্যন্তরে ঢুকছে না। কুষ্টিয়ার, দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর, মহিষকুন্ডি, কাজীপুর, ঠোঁটারপাড়া, মোহাম্মদ, আবেদের ঘাট, ভেড়ামারার রাইটা ঘাট, চুয়াডাঙ্গার জীবন নগর রাজাপুর, দর্শনা, মেহেরপুরের গাংনী, মজিবনগর, ঝিনাইদহের যাদপুর, সামান্তা, যশোরের সাদীপুর, বড় আঁচড়া, শিখারপুর, মাসিলা, সাতক্ষীরার ভাদিয়ালী, বড়ালী, চারাবাড়ী, গাড়াখালী, হিজলদী, চান্দুড়িয়া, দক্ষিণ-পশ্চিাঞ্চলের বিভিন্ন ঘাট এলাকা দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে আসে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। ঘাট এলাকা থেকে ফেন্সি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছাতে ব্যবহার করা হয় বাস ট্রাক, ট্রেন, মাইক্রো, প্রাইভেট, মোটর সাইকেল ও সর্বপরি পথচারী বেশে লোকদের বাজার ব্যাগে। বর্তমানে ফেন্সিডিল পাচারে দেশের অভ্যন্তরে ব্যবসায়ীরা নিত্য নতুন সব কৌশল অবলম্বন করছে। প্রায়ই ধরাও পড়ছে তারা। কিন্তু এক দিনের জন্য হলেও বন্ধ হয়নি ব্যবসা। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, মেহেরপুর, জীবননগর, দর্শনা, বেনাপোল, মহেশপুর, চৌগাছা, সামান্তা, রাজগঞ্জ, কেশবপুর, তালা, পাটকেলঘাটা, কলারোয়া, যুগিবাড়ী, বোয়ালিয়া, পাঁচপোতা, বেলেডোঙ্গা, সোনাবাড়িয়া, বুচতলা, রয়েরডাঙ্গা, রামভদ্রপুর, গয়ড়া, কাজিরহাট, ঠাকুরবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য ফেনসিডিলের চোরা গুদাম বা আড়ৎ রয়েছে। বিভিন্ন সময় বিডিআর পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর হাতে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল ও চোরাচালানীসহ ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ আটক হলেও তা বন্ধ করা যায়নি। শুধুমাত্র মাঝে মধ্যে স্পট পরিবর্তন হয়। বাংলাদেশে ফেনসিডিলের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের রোনপুলেঙ্ক ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের জলঙ্গী, বনগাঁ, রানাঘাট, কৃষ্ণনগর, বানপুর, বহরমপুর ও বারাসাতসহ বিভিন্নস্থানে নকল ফেনসিডিলের কারখানা রয়েছে। যেখানে থেকে প্রতিদিন নাকি চাহিদানুযায়ী ২/৩ লাখ লিটার ফেন্সিডিল উৎপাদন হয়। যা কিনা বোতল জাতের পাশাপাশি ড্রামে ভর্তি হয়ে এপারে আসে। এবং নিরাপদ স্পটে রেখে তা বোতলজাত হয়। সূত্র জানায়, ভারতীয় দামের তুলনায় বাংলাদেশে ১ বোতল ফেন্সির দাম ৪ গুণ। বর্তমানে বাংলাদেশে এক বোতল ফেন্সির দাম রাখা হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা পর্যন্ত, স্থানভেদে এর দাম আরও বেশী। বর্তমানে ভেড়ামারা রাইটা, জুনিয়াদহ, কুচিয়ামোড়া, ক্ষেমিড়দিয়ার, বাহিরচর সোনার মোড়, বার মাইল মোড়, মসলেমপুর, এলাকা ফেনসিডিল স্পট নামে পরিচিত । ভেড়ামারা থানার ওসি যোগদানের পর ব্যবসা’র মাত্রা কিচ্চ’ু দিন কমলেয় পরে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকের কুফল সম্বন্ধে মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মোঃ সাজেদুর রহমান সাজু জানান, অতিরিক্ত ফেনসিডিল সেবনে কর্মশক্তি ও উদ্যম হারিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে তিলে তিলে জীবনের আলো নিভে যায়। তাদের মতে আসল ফেন্সির চেয়ে নকল ফেন্সিডিল আরো বেশি ক্ষতিকারক। জানা গেছে, ফেন্সিডিলে রয়েছে কোডিন, ফসফেট, গোম্যাথাজিন, হাইড্রোকোরাইড ও অক্সিজেন হাইড্রোকোরাইড। শরীরের ভেতর এই কোডিন ফসফেট বেশি বেশি প্ররিমান প্রবেশ করলেই নেশা হয়। নিয়মিত ফেন্সি সেবনে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়, হরমনের বিকৃতিতে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। যৌন ক্ষমতা লোপ, চর্মরোগ সহ মানসিক বিকারগ্রস্থ পয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্র থেকে শুরু করে ভ্যান চালক ব্যবসায়ীসহ কর্মজীবি বিভিন্ন শ্রেণী পেশা ও বয়সের মানুষরা ক্রমাগত ফেন্সিডিল ও হেরোইনে আসক্ত হয়ে ধাবিত হচ্ছে ধ্বংসের দিকে। এ ব্যাপারে এই মুহুর্তে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন জোরদার, নাহলে ধ্বংসের দিকে দ্রুত ধাবিত হবে এদেশের যুব সমাজ।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!