শ্যামলবাংলা ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নয়, অস্ত্রের জোরে ক্ষমতায় এসেছে। তবে অস্ত্রের জোরে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। তিনি ২০ জানুয়ারী সোমবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির গণসমাবেশ ওই কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, আজকের এই সমাবেশ প্রমাণ করে জনগণ কাদের সঙ্গে আছে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। এজন্য আমি জনগণকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হলো গায়ের জোরে ভোট করা যায় না।

এসময় একটি পত্রিকা দেখিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ভোট কেন্দ্রে জনগণকে দেখা যায়নি।” এরপর তিনি আরেকটি পত্রিকায় ছাপা হওয়া নির্বাচন কর্মকর্তার ভোট দেওয়ার ছবি দেখান। বর্তমান সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন দাবি করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সারাদেশে খুন-গুম-নির্যাতন চালাচ্ছে।
খালেদা জিয়া বলেন, গাইবান্ধায় যৌথবাহিনীর অভিযানের নামে কীভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা সবাই জানে।
তিনি বলেন, গত ৫ বছরে তারা এদেশের সম্পদ লুট করেছে। শেয়ারবাজার-ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনগণের টাকা তারা লুট করেছে। তাই এই দুর্নীতিবাজ সরকারে না নামাতে পারলে জনগণের কল্যাণ হবে না।
এ সরকার সব কর্মসূচিতেই বাধা দেয়- এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ২৯ ডিসেম্বরের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে জাতীয় পতাকা নিয়ে মানুষ ঢাকায় আসবে। সেই কর্মসূচির দুদিন আগে আমাকে বন্দি করে রাখা হয়। সরকার সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। সরকার যদি জনগণের সরকার হতো তা হলে তারা বাধা দিত না। আমরা হলে বাধা দিতাম না।
সমাবেশে খালেদা জিয়া দৈনিক ইনকিলাব বন্ধের কারণ জানতে চেয়ে বলেন, তারা কি অপরাধ করেছিল। তারা যে খবর ছেপেছে তা অনলাইনে এসেছে, ফেইসবুকে এসেছে। তারপর তারা তা ছেপেছে। আপনারা একটার পর একটা সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করছেন। এসব বন্ধ করেন। তা না হলে ফল শুভ হবে না। আপনারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবে না। এসবের জবাব দিতে হবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য দ্রুত আলোচনা দরকার- একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। আপনি বলেছেন সংবিধান থেকে এক চুলও নড়বেন না। কিন্তু অনেক নড়েছেন। সংবিধান কাট-ছাঁট করেছেন।
সোমবার দুপুর ২টায় এ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ শুরুর পর এতে ১৮ দলের কয়েকজন নেতাকে দেখা গেলেও জামায়াতে ইসলামী বা ১৮ দলীয় জোটভুক্ত অন্য কোন ইসলামী দলের নেতাদের সমাবেশস্থলে দেখা যায়নি।




