মুহসীন মাতুব্বর, আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলী ও তালতলীতে ক্রমাগত বাড়ছে ধূমপায়ীসহ তামাকসেবীর সংখ্যা। দিনকে দিন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাড়ছে এই সংখ্যা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে নারী-পুরুষদের মধ্যে ধূমপানসহ বিভিন্ন ধরনের তামাক ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফলে ঝুঁকি বাড়ছে মানুষের ক্যান্সার, হৃদরোগ, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসজনিত নানা রোগ-ব্যাধির। তাছাড়া ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন অনেক নারী-পুরুষ ও শিশু। অথচ ধূমপানও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন রয়েছে তা যেন শুধু কাগজে-পত্রেই। বলতে গেলে কার্যকর নেই আমতলীসহ কোথাও। ধূমপান অথবা বিভিন্ন তামাক ব্যবহার যে, অপরাধ তাও যেন জানেই না গ্রামাঞ্চলের পাহাড়ি লোকজন। আমতলী ও তালতলী উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের সংখ্যা আনুমানিক ৩ লাখ। সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও এ ব্যাপারে কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না বললেই চলে আমতলী ও তালতলীতে । ফলে কি পরিমাণ লোক ধূমপায়ীসহ তামাকসেবী তার সঠিক কোন পরিসংখ্যানও পাওয়া যায়নি।
বিশেষ করে য²ারোগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তামাকজনিত কারণে আক্রান্ত রোগীর সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও তামাক সেবনের জন্য বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে দ্রুত। বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক, হাঁপানি ও ফুসফুসে য²ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। নাম প্রকাশ না করার শর্ত বেঁধে দিয়ে একজন ডাক্তার জানান, ধূমপান, তামাক সেবন ও গুল ব্যবহার করার কারণে অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। এছাড়া বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও য²ায় আক্রান্তের সংখ্যা।
তিনি আরো জানান, য²ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তো যদি না ব্র্যাক বিনামূল্যে যক্ষ¥া রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো। ধূমপানে অভ্যস্থ মানুষের এক বিরাট অংশই যক্ষ¥া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় ব্র্যাক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে আমতলী ওতালতলী উপজেলায় য²া ভয়াবহ আকার ধারণ করতো বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। কৃষক, দিনমজুর শ্রেণীর মানুষ অবিরাম বিড়ি পান করে চলেছেন। ট্যাক্স কম হওয়ায় গরীবের উপকারের পরিবর্তে তারা মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমতলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইসমত আরা জানান, গ্রামের হাজার হাজার লোক বিড়ি পান করার জন্য হৃদরোগে ভুগছে।
তাছাড়া মুসলমান মহিলাদের মধ্যে জর্দা, তামাকপাতা ও গুল ব্যবহারের প্রবণতা অনেক বেশি। ফলে তারা সরাসরি তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ ইকরামুল কবির জানান, অনেক মহিলা দাঁতের ব্যথা থেকে সাময়িক উপশম লাভের জন্য গুল ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে মুখের, শ্বাসনালীর ও মাড়ির ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা প্রকট। তিনি এ ধরনের যত রোগী দেখছেন, তাদের বেশিরভাগই গুল, জর্দা বা তামাক পাতা ব্যবহারে অভ্যস্ত বলে জানান।




