জিএইচ হান্নান, শেরপুর : নেত্রকোণায় টিপুশাহ পাগলের ওরছ শেষে শেরপুরে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের লাশ ১৭ জানুয়ারী শুক্রবার সকালে শেরপুরের লছমনপুর ইউনিয়নের লছমনপুর, কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া ও টাংগারিয়া পাড়া গ্রামে নিয়ে আসার পর ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ৫টি তরতাজা প্রাণ ঝড়ে যাওয়া এবং তাদের লাশ শেরপুরে নিয়ে আসার পর শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। নিহতরা হচ্ছে, শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের বিলাল হোসেন (৩৫), মজনু মিয়া (৩০), নিজাম উদ্দিন (৩৫) টাঙ্গারিয়াপাড়া গ্রামের মন্টু মিয়া (৭০) ও লছমনপুর ইউনিয়নের রহিম উদ্দিন (৪৫)।

শেষবারের মতো নিহতদের লাশের মুখ দেখার জন্যে শোকার্ত স্বজন ও এলাকাবাসীরা ভির জমায়। নিহতের পরিবারের স্বজনদের কান্নার রোল আর্তনাত আর আহাজারীতে লছমনপুর, কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া ও টাংগারিয়া পাড়া এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে স্বজন হারানোর বেদনায়। নিহতদের লাশের পৃথক পৃথক জানাজা শেষে শুক্রবার সকালে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হয় । জানাজায় বিপুল সংখ্যক শোকার্ত মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং নিহত পরিবাবের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে তাদের সান্তনা প্রদান করেন।
টিপুশাহ পাগলের ভক্ত ও দুর্ঘটনা কবলিত বাসের যাত্রী কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের বসিন্দা সমেজ উদ্দিন জানান,একটি বাসের ভেতরে এবং ছাদে করে প্রায় শতাধিক মানুষ শেরপুরের লছমনপুর এলাকা থেকে গত মঙ্গলবার সকালে টিপুশাহ পাগলের ওরছে যোগ দেয়ার জন্যে নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা লেটেরকান্দা পাগলবাড়িতে যায়। সেখানে দুইদিন অবস্থানের পর ওই শতাধিক মানুষ বাসের ভেতরে ও ছাদে বসে বৃহস্পতিবার শেরপুর আসার পথে ময়মনসিংহের বেলতলী তারাকান্দা এলাকায় অপর একটি বাসের ধাক্কায় বাসটি নিয়স্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে ৫ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয় এবং ৩৫ জন আহত হন। হতাহতরা সবাই শেরপুরের লছমনপুর এলাকার বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কয়েকজন এলাকায় ফিরে এলেও আর সবাই শেরপুর জেলা সদর ও মযমনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে হতাহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।




