নজরুল ইসলাম তালা, সাতক্ষীরা : যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর নামে বিএনপি’র নেতৃত্বে জামায়াত শিবিরও তাদের সহাযোগী দলগুলো সাতক্ষীরাসহ দেশব্যাপি সহিংসতা অব্যহত রেখেছে। জামায়াত নেতারা ইসলাম ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী চাঁদে গেছে অপপ্রচার দিয়ে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে জামায়াত শিবিরের সাধারন কর্মী ও সমর্থকদের রাস্তায় নামিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে মদত যুগিয়েছে। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাÐ ঘটিয়ে পুলিশ ও বিজিবির গুলির মুখে ঠেলে দিয়েছে কর্মী সমর্থকদের। আর দলীয় নেতারা রয়ে গেছে নিরাপদ জায়গায়। ১ জানুয়ারী বুধবার সকাল ১১ টায় সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের সরসকাটি বালিকা বিদ্যালয় চত্বরে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর রাতে জামায়াত বিএনপি’র সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মেহেদী আলী জজ এর ভাই ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম নজরুল ইসলাম, মহাজোট প্রার্থী অ্যাড. মুস্তাফা লুৎফুল্লাহ, জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাষ্টার আব্দুল আজিজ, সাবেক চেয়ারম্যান তপন কুমার সাহা, শফিকুল ইসলাম মালী, জয়নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক জামায়াত শিবিরের হামলায় জখম অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল মোতালেব, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. আলী হোসেন, কাজী আব্দুল ওহাব, উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক আব্দুর রউফ, মাষ্টার আব্দুল আহাদ, আহাদ কাজী, কেড়াগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মারুফ হোসেন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সম্প্রতি কলারোয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা সলিমপুরের মাহাবুদুর রহমান বাবু, দেয়াড়ার রবিউল ইসলাম, ক্ষেত্রপাড়ার মেহেদী হোসেন জজ ও গোপীনাথপুরের আজিজুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে জামায়াত শিবির। তারা সরসকাটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আটককৃত জামায়াত নেতা আলতাফ হোসেনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার পরপরই আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মোতালেবকে কুপিয়ে জখম করেছে। তারা দৈনিক সংবাদের কলারোয়া প্রতিনিধি আব্দুর রহমানকে কুপিয়ে জখম করেছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সরসকাটি সোনার বাংলা ক্লাবসহ আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের ঘরবাড়ি। এলাকার সাধারন মানুষ ও মহাজোটের নেতা কর্মীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছে তারা। লুটপাট করা হচ্ছে পালিয়ে বেড়ানো নেতা কর্মী ও সাংবাদিকদের চিংড়ি ঘেরের মালামাল ও বাড়ির জিনিসপত্র। আত্মরক্ষার নামে তারা মানিকনগর, ওফাপুর, গাজনা ও সরসকাটি, যুগিবাড়ি ওগোপীনাথপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক কেটে, গাছ কেটে অবরোধ তৈরি করছে। তারা প্রশাসনকে জিম্মি করে দেশের গণতন্ত্রকে ধুলিসাৎ করে সাতক্ষীরাকে পাকিস্তান বানাতে চায়। এটা মেনে নেওয়া হবে না। সাধারন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত বিএনপি’র এ অপচেষ্টা প্রতিরোধ করা হবে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনার দায়িত্বে ছিলেন জামায়াত শিবিরের হাতে নির্যাতিত সাংবাদিক আব্দুর রহমান।
জনসভা শেষে মহাজোট প্রার্থী অ্যাড. মুস্তাফা লুৎফুল্লাহ সরসকাটি বাজারের ব্যবসায়ি ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনা ও রাশেদ খান মেননের হাতকে শক্তিশালী করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়ন করতে আরো একবার সূযোগ দেওয়ার আহবান জানান। এরপর তিনি বামনখালি বাজারে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় অংশ নেন। বিকেল চারটায় তালা বাজারে এক নির্বাচনী জনসভা করেন। সেখানে সভাপতিত্বে করেন তালা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কৃুমার। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু, অ্যাড. মুস্তাফা লুৎফুল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক সরদার মশিয়ার রহমান। বক্তারা সকলকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিহত করার আহবান জানান।
রাত ৭টায় তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের দেওয়ানীপাড়া বাজারে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপত্তিব করেন তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মীর জাকির হোসেন, খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলু, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক সরদার মশিয়ার রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন সোনা, ছাত্র মৈত্রী, যুব মৈত্রীসহ মহাজোটের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠণের নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় মীর জাকির হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা যথেষ্ট যাঁচাই বাছাই করে দক্ষতা অনুযায়ি ১৪ দলের নেতা হিসেবে অ্যাড. মুস্তাফা লুৎফুল্লাহ’র হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছেন। এ নৌকা ভাসিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। মূল ¯্রােত থেকে যারা বেরিয়ে যেয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চায় তাদের সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। বিরোধী প্রার্থীর যে কোন ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে আগামি ৫ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যেয়ে সকাল সকাল নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি আহবান জানান। এ নির্বাচন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই উল্লেখ করে তিনি বলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে সাতক্ষীরাকে পাকিস্তান বানানোর যে কোন প্রচেষ্টা রুখে দিতে হবে।
জনসভা শেষে অ্যাড. মুস্তাফা লুৎফুল্লাহ স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে শেখ হাসিনার রুপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করার সূযোগ দেওয়ার আহবান জানান।




