রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : রৌমারী সীমান্তের চর নতুন বন্দর স্থ’ল বন্দরের জয় বাংলা সড়কটি দীর্ঘ ৪২ বছরেও উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। ফলে বন্দরের আমদানি রপ্তানি পন্য সামগ্রী পরিবহনে ভোগান্তি হচ্ছে। অপরদিকে সংস্কারের অভাবে জয় বাংলা সড়কটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

বৃটিশ আমলে অবস্থিত চর নতুন বন্দর স্থল বন্দর। এর বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মানকারচর এলাকা। আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নং ১০৬৪ এর নিকট দিয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময়
স্থল বন্দরটির অবস্থা খুবই নাজুক। ভারত থেকে কয়লা, পাথরসহ অন্যান্য সামগ্রী আমদানির জন্য সব বন্দরের চেয়ে এটি সুবিধাজনক পয়েন্ট। পন্য সামগ্রী আদান প্রদানে উভয় দেশের জন্য পরিবহন খরচ কম এবং সময় ব্যয় হবে কম। ফলে আমদানি ও রপ্তানিকারকরা এই বন্দরকে বেশি পছন্দ করেন। তাছড়া এখানে রয়েছে চেকপোস্ট, করিডোর ও কাস্টম অফিস।
বিপুল সম্ভাবনাময় রৌমারী সীমান্তে চর নতুন বন্দর শুল্ক স্থল বন্দরটি পূর্নাঙ্গ স্থল বন্দরে রূপান্তর করে এর অবকাঠামোগত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করলে এটিই বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য ঘাটি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এ বন্দর থেকে বছরে সরকার প্রায় একশ’ কোটিরও বেশি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারে। সেই সাথে মঙ্গা কবলিত, অবহেলিত, নদী ভাঙ্গা রৌমারীর বেকার দিনমজুরদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি পশ্চাদপদ এই এলাকার অর্থনৈতিক দিক থেকেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।
এদিকে চরম অবহেলার শিকার চর নতুন বন্দরের স্থল বন্দরটিকে পূর্ণাঙ্গ বন্দরের দাবি করছে রৌমারীর আপামর জনসাধারণ। এদাবি বাস্তবায়নের জন্য এলাকাবাসি ‘রৌমারী উন্নয়ন প্রক্রিয়া সেল’ এর ব্যানারে আন্দোলন করছে দীর্ঘদিন ধরে। এ দাবিতে বিভিন্ন সময়ে নানা কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে। রৌমারী বাসির দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে ‘বৃহত্তর রংপুর কল্যাণ সমিতি’র পক্ষে সুপারিশ করা হয়েছে। রৌমারী উন্নয়ন প্রক্রিয়া সেল সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোমদেল হক বলেন, নদী ভাঙ্গা রৌমারী রাজীবপুর উপজেলা থেকে মঙ্গা দূর করতে হলে বন্দরটিকে পূর্নাঙ্গ রূপ দিতে হবে। এতে এলাকায় ব্যবসার প্রসার ঘটবে। আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে উভয় দেশ লাভবান হবে।

সম্ভবনাময় এ স্থল বন্দরের প্রধান সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্দর থেকে উপজেলা সদর থেকে বৃটিশ আমলের তুড়া রোড়ের অবস্থা ভাল নয়।মাত্র ৯ কিমি সড়কে ৫ স্থানে ভাঙ্গা ও নদী রয়েছে। এসব স্থানে সেতু নির্মাণ করলে চর নতুন বন্দর থেকে সরসারি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে। ভারত বাংলাদেশের বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ন এ বন্দরে পন্যসামগ্রী আদান প্রদানের ক্ষেত্রে ওয়েট ব্রিজ, গ্রাউন্ডস্কেল বসাতে হবে। সেই সাথে ব্যাংকি সুধিবা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে এ রুটে বাংলাদেশের গামেন্ট সামগ্রী, কুটির শিল্প, বাঁশ, সাবান, সিমেন্ট, পাট, আলু রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান, বাংলাদেশী আমদানি রপ্তানিকারক আমিনুল ইসলাম বাবলু।
উভয় দেশের জন্য সুবিধাজনক পয়েন্ট বলে বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশের ভারতীয় হাই কমিশনার টিকে চক্রবর্তী সরেজমিনে রৌমারীর চর নতুন বন্দওে অবস্থিত স্থল বন্দরটি পরিদর্শন করেছেন। সে সময় তিনি বন্দর থেকে উপজেলা সদর পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে যে কটি ট্রানজিট পয়েন্ট রয়েছে তাতে যোগাযোগের জন্য এ বন্দর উত্তম। বিশেষ করে কয়লা পাথর রপ্তানির ক্ষেত্রে উভয় দেশের জন্য হবে লাভজনক।
কাস্টম অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০৯-১০ অর্থ বছরের ফেব্রয়ারী পর্যন্ত চর নতুন বন্দর স্থল বন্দর থেকে প্রায় এক কোটি, করিডোর থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন খাত থেকে দেড় লাখ টাকার ভ্যাট আদায় করা হয়েছে। কাস্টম অফিসের কর্মকর্তারা জানান, স্থল বন্দরটি পূর্নাঙ্গ রূপ পেলে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে বিপুল হারে। তারা বলেন, আমরাও চেষ্টা করছি সম্ভাবনাময় বন্দরটির উন্নয়ন করার জন্য।
স্থানীয় সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বলেন, রৌমারীর চর নতুন বন্দর স্থল বন্দরটি পূর্নাঙ্গ স্থল বন্দরের রুপান্তরে তারও দাবি। বন্দরটি পূর্নাঙ্গ লাভ করলে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।




