মোঃ আমির হোসেন আমু,কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা দেবিদ্বারে বস্তাবন্দি গলিত লাশ উদ্ধার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের পীর মহেশপুর গ্রামে হারুন-অর-রশিদের জমিতে একদল কিশোর ঘাস কাটতে গিয়ে মাটি খুড়ে কুকুর একটি লাশ বের করে আনার চেষ্টা করতে দেখে সূর চীৎকার শুরু করে, এঘটনায় উপস্থিত স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ মাটি খুরে একটি একটি বস্তা বন্দি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৭/৮দিন আগে অজ্ঞাতনামা ঘাতকরা তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে ও ছুরিকাঘাতে পেট কেটে হত্যা পূর্বক বস্তাবন্দি করে গর্তে মাটি চাঁপা দিয়ে যায়। নিহতের কোমরে পলিথিনে মোড়ানো একটি প্যাকেটে তার পরিচয় পত্র ও তাকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন হত্যা করতে পারে মর্মে একটি টাইপ করা চিরকুট পাওয়া যায়। পরিচয় পত্রের সূত্র ধরে জানা যায় তার নাম মোঃ শহীদ মিয়া(৩০), সে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর পৌর এলাকার নাগবাড়ি গ্রামের মোঃ নওশের আলীর পুত্র। নিহত মোঃ শহীদ মিয়া পেশায় রিক্সা চালক ছিল।
মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, ১৯৯৭সালে বি-পাড়া বাগরা গ্রামের মৃতঃ সুরুজ মিয়ার কণ্যা সেলিনা বেগমের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তার একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহন করে। এসময় তার শ্বশুর বাড়ির সফিক মিয়া, সুরিয়া বেগম, মনোয়ারা বেগম, আবু তাহের, বাবুল কালাম, রুকু, হাবিব, মোখলেছ, বাচ্চুমিয়া তাকে নারী ও শিশু প্রচার এবং মাদক চোরা চালানীর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেয়, এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়, তার স্ত্রী পুত্রকে গুম করে তাকে বের করে দেয় এবং তাকে হত্যার হুমকী দেয়। কোন কারনে তার মৃত্যু হলে ওই ১০ ব্যাক্তি দায়ী বলেও আবেদন পত্রে উল্লেখ করা হয়। নিহত রিক্সা চালক কুমিল্লা শহীদ মিয়া কুমিল্লা শহরে রিক্সা চালাত, তার স্ত্রী সেলিনা বেগম কুমিল্লা ইপিজেডে চাকরী করে, সেলিনার এক ভাই বর্ডার এলাকার ভারতে বসবাস করে, বিষয়টি স্থানীয় বাগরা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলামকে জানিয়ে রাখার বিষয়টিও উল্লেখ ছিল।
দেবিদ্বার থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারেক মোহাম্মদ হান্নান বলেন, নিহতের স্বজনদের খবর দেয়া হয়েছে অবরোধের কারনে আসতে বিলম্ব হচ্ছে। আসলে তাদের বক্তব্য এবং তার সাথে পাওয়া চিরকুটের অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখার পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




