ads

সোমবার , ২৫ নভেম্বর ২০১৩ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

আমতলীর সোনাকাটায় নিসর্গ মন ছুঁয়ে যায় ভ্রমণপিপাসুদের

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
নভেম্বর ২৫, ২০১৩ ১:৫৮ অপরাহ্ণ

AMTALI-SONAKATA .SONAKATAমো. মহসিন আমতলী (বরগুনা) : মাথার ওপরে আকাশ দিগন্ত ছুঁয়েছে। বেলাভূমিতে দাঁড়ালে সামনে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি। পেছনে বিশাল আয়তনের ম্যানগ্রোভ বন। সাগরের লোনা জলের ঢেউ সাদা ফেনা তুলে ভয় জাগানিয়া শব্দে আছড়ে পড়ছে তীরে। পাখির কিচির মিচির শব্দ মনে করিয়ে দেয়, নাগরিক যান্ত্রিকতা ফেলে এসেছি অনেক দূরে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগরকন্যা আমতলীর ‘সোনাকাটা’।
বরগুনার আমতলী উপজেলার একেবারে দক্ষিণ প্রান্তের ওই জায়গাটি কেবলমাত্র অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা জন্য এতদিন ভ্রমণবিলাসী মানুষের অগোচরেই রয়ে গেছে। সোনাকাটার সৌন্দর্যকে আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য করার জন্য সোনাকাটার উন্নয়নকল্পে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্রায় আড়াই কোটি টাকায় সোনাকাটার গভীর বনে সড়ক যোগাযোগসহ নানা অবকাঠামো তৈরি করেছে। জেলার আমতলী উপজেলা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরের ফকিরহাট বাজার। এটি একটি মৎস্য বন্দর। বাজারের পাশেই বিশাল জঙ্গল। ছোট্ট একটি খাল মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে জঙ্গলময় দ্বীপ সোনাকাটাকে। সবুজে ঘেরা এই বিশাল ভূ-খন্ডটি স্থানীয়দের কাছে ‘ফাতরার বন’ হিসেবে পরিচিত।
তবে বন বিভাগের কাগজপত্রে এটি ‘টেংরাগিরি’ সংরক্ষিত বনাঞ্চল। কেওড়া, বাইন, গড়ান, সুন্দরী নানা জাতের গাছের ওই বনের পরিধি ৯ হাজার ৯শ ৭৫ দশমিক ৭ হেক্টর। টেংরাগিরি বনের পূর্ব পাশে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, পশ্চিমে সুন্দরবন আর হরিণবাড়িয়া বন, উত্তরে বিশাল রাখাইন পল্লী আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। সোনাকাটার সাগর সৈকতে দাঁড়ালে চোখে পড়বে, বড় বড় ঢেউয়ের মাথায় ট্রলার নিয়ে মাছ শিকারের জন্য জেলেরা ছুটছেন সাগরের গভীরে। একদিকে চিরায়ত সবুজের সমাহার, অন্যদিকে বিশাল সমুদ্রের নীল জলরাশি ভ্রমণপিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকে বারবার।
সকালের সূর্যরশ্মি ঢেউয়ের ফেনার সঙ্গে মিশে সাগরে ঝকমকে সোনালি আভা ছড়ায়। তীরবর্তী চরাঞ্চল থেকে পাখির দল সোনালি রোদে ঝাঁক বেঁধে উড়ে বেড়ায় আকাশে। নিচে সাগরে তীরের কাছাকাছি ছোট ছোট নৌকা নিয়ে জাল ফেলেন স্থানীয় জেলেরা। তবে সূর্যাস্তের সময় সোনাকাটার দৃশ্য পুরোটাই পাল্টে যায়। অস্তগামী সূর্য সাগরের নীল জলরাশির সঙ্গে মিশে সাগরকে আরও নীল করে তোলে। অন্ধকারে সাগরের পানিতে যে কোনো আলোড়ন, আলো বিচ্ছুরণ করে। কুয়াকাটার বাইরে দেশের একমাত্র সোনাকাটা থেকেই সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দুটো দৃশ্যই উপভোগ করা যায়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, একসঙ্গে অনেকগুলো স্পটে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ কেবল এই সোনাকাটা এলেই মেলে। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই বনে রয়েছে নানা জাতের গাছপালা। বন বিভাগও প্রচুর গাছ লাগিয়েছে বনের মধ্যে। এই বনে দেখা মিলবে বিভিন্ন পশু-পাখির। বনমোরগ, মটদনটাক, বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং বানর, শূকর, কাঠবিড়ালী, মেছোবাঘ, লাল কাঁকড়া আর সাপের অবাধ বিচরণ রয়েছে এই বনে ও সৈকতে। সোনাকাটার গভীর বনের ভেতর দিয়ে অনেকগুলো ছোট ছোট খাল এঁকেবেঁকে গিয়ে মিশেছে সাগরের সঙ্গে। নৌকা বা ট্রলার নিয়ে এই খালে ভ্রমণ আর চরের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার মজাই ভিন্ন। সোনাকাটার বনের মধ্যে ছোট-বড় ১২টি প্রাকৃতিক কিল্লা (উঁচু ভূমি) আর ৭টি মিঠা পানির পুকুর রয়েছে।
সোনাকাটার আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্পট হলো আশারচর। মৎস্যজীবীদের কাছে আশারচর অতি পরিচিত একটি নাম। নামের সঙ্গে মিল রয়েছে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রারও। এক বুক আশা নিয়ে এখানে যেমন অসংখ্য খেটে খাওয়া মৎস্যজীবীদের বসবাস, তেমনি শীতের মৌসুম এলেই দূর-দূরান্তের পর্যটকরা এসে প্রতিদিন ভিড় জমায় এখানের প্রকৃতিকে উপভোগ করার জন্য। দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, গভীর অরণ্য, আর বিশাল শুঁটকি পল্লী চোখে পড়ার মতো। সমুদ্রের কলতান আর ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এখানকার পরিবেশ। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে অনেক মানুষ এসে ঘর বাঁধে শুঁটকি উৎপাদনের জন্য। সমুদ্রের তীরে বালুর ওপরে মাচা তৈরি করে সারিবদ্ধভাবে ছোট ছোট ঘর তুলে বছরে ৭/৮ মাস মৌসুমি বসতি গড়েন এখানে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এখানের মানুষের শুঁটকি উৎপাদনের ব্যস্ততা। অসংখ্য কুপিবাতির আলোয় রাতের আশারচরকে রূপকথার কোনো ছবি বলে মনে হয়। সত্যিই মনোমুগ্ধকর, আকর্ষণীয়।
আশারচরের কাছাকাছি রয়েছে তালতলীর বিশাল রাখাইন পল্লী। বঙ্গোপসাগরের তীরে আদিবাসী ওই রাখাইন পল্লীতে সারা বছর তাঁতের লুঙ্গি, শার্ট, শাল, ব্যাগ বোনা হয়। তাঁতগুলোর খটখট শব্দে রাখাইন পল্লীমুখর থাকে। তাঁতশিল্প ছাড়াও রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ মন্দির আর সেখানে রক্ষিত বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান মূর্তি দেখতে সারা বছরই কিছু না কিছু পর্যটকদের আগমন ঘটে।
আমতলীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী তোফায়েল হোসেন জানান, উপজেলা পরিষদের বাস্তবায়নে সোনাকোটা স্থানটিকে আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে ২ কোটি ৩১ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ইকোপার্ক তৈরি করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য আগেই নির্মাণ করা হয়েছে একটি ডাকবাংলো। বনের ভেতরে পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য দুটি সেতু (সকিনা ও সুদরিয়া খালে), দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক, পুকুরে শান বাধানো ঘাট, সাগরপাড়ে জেটি, ৩টি টয়লেট, বনের মধ্যে বিশ্রামাগার, হরিণ, শূকর, ছোট মাংসাশী প্রাণী আর বাঘের বেষ্টনী এবং কুমির প্রজনন কেন্দ্রসহ বনজ প্রাণীর আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা হয়েছে।

Need Ads
error: কপি হবে না!