ads

বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর ২০১৩ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

অস্তিত্ব সঙ্কটে জামালপুরের মৃৎশিল্প : দেলোয়ার হোসেন

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
নভেম্বর ২১, ২০১৩ ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

jamalpur 20-11-13প্রাচীনকাল থেকে ৯০-এর দশক পর্যন্ত মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের তৈরি নিত্যব্যবহার্য মাটির তৈজসপত্র মানুষের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভুমিকা রাখলেও মাত্র অল্প সময়ের ব্যবধানে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। আধুনিক সভ্যতার এ যুগে উন্নত প্রযুক্তির নানাবিধ সৌখিন দৃষ্টিনন্দন তৈজসপত্রের ব্যাপক বিস্তার ও সহজলভ্যতার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে জামালপুর শহরের পালপাড়ায় কমপক্ষে ২শ বছর আগে গড়ে উঠে মৃৎশিল্প পল­ী। প্রাচীন যুগে পালবংশীয় মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের তৈরি মাটির বাসন-কোসন সমাজের সর্বস্তরেই সমাদৃত ছিল। তখনকার দিনে মানুষের নিত্য সঙ্গী ছিল মাটির তৈরি হাড়ি-পাতিল, ঢাকুন, পুসুন, ঝাজর, কইড়া, সরা, সুরাহি, ঘটি-বাটি, কাদা, কলস ও চাড়ীসহ বিচিত্র তৈজসপত্র। এছাড়াও হুক্কা, কলকি, দিপালি, মলকে, কোলা, পুতুল, জালের কাঠি, ফুলদানী ও ফুলের টবসহ শিশুদের খেলার সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তাও তখন মৃৎশিল্পীদের সম্মানিত করেছে। ওই সময় মৃৎশিল্পীদের ঘরে ছিল না কোন পূঁজি সঙ্কট। এছাড়াও কাঁচামালের সহজ লভ্যতা, তৈরি মালামাল সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকায় এ শিল্পে শ্রম দিয়ে তখন সুখেই দিনাতিপাত করেছেন মৃৎশিল্পীরা।
স¤প্রতি কাঁচামাল ও পূঁজি সঙ্কটে এবং প্লাষ্টিক, মেলামাইন ও কাঁচের তৈরি নানা সামগ্রীর ভিরে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে জামালপুরের মৃৎশিল্প। আর অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়ায় এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল জামালপুর শহরের পাল পাড়ার দেড়শ পরিবারের ৫ শতাধিক মানুষ বেকার হয়ে পড়ায় বিপন্ন হতে বসেছে তাদের জীবনমান। জামালপুর পৌর শহরের পালপাড়ার বাসিন্দা বাদল চন্দ্র পাল জানান, আজ থেকে দুই যুগ আগেও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে জামালপুর শহরের রানীগঞ্জ বাজারের বির্ত্তীন  এলাকা জুড়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি মৃৎশিল্পের হাটবসত। ওই সময় প্রতিদিন বৃহত্তর ময়মনসিংহের শ শ মানুষ এই বাজার থেকে মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের তৈরি মাটির বিচিত্র তৈজসপত্র ও খেলার সামগ্রীসহ হরেক রকমের নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী পাইকারী ও খুচরা মুল্যে ক্রয় করে নিয়ে যেত। তখন মৃৎশিল্পীদের দিন ভাল কাটলেও এখন সঙ্কটে পড়েছেন তারা। কারণ স¤প্রতি মৃৎশিল্পের চাহিদা পূরণ করছে স্বল্পমূল্যের প্লাষ্টিক, মেলামাইন ও কাঁচের তৈরি নানা সামগ্রী। এতে মৃৎশিল্পের কদর অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে প্রাচীন যুগের ঐতিহ্য বহনকারী জামালপুরের মৃৎশিল্প উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধিসহ সংরক্ষণ ও বাজারজাত করণের জায়গার সঙ্কট, কাঁচা মালের দু¯প্রাপ্যতা এবং সরকারী কোন প্রকার পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় পুঁজি সংকটে দিশেহারা হয়ে এ পেশার সক্ষম শিল্পীদের অনেকই এখন তাদের বাপ দাদার পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়। তবে বেকায়দায় পড়েছেন জন্ম থেকে এ পেশার নিয়োজিত দেবনাথ পাল , মিলন রাণী পাল ও সত্য নারায়ন পালসহ অর্ধশতাধিক প্রবীণ মৃৎশিল্পীরা। তারা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য তাদের বাপ দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে চান। তাই বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া ওইসব মৃৎশিল্পীরা প্রাচীন যুগের ঐতিহ্য বহনকারী জামালপুরের মৃৎশিল্প বিলুপ্তির কবল থেকে রক্ষার্থে বর্তমান সরকারে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের জরুরী পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেছেন।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!