তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : চলে গেলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রূপকার কুমিল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম। ২০ নভেম্বর বুধবার রাত বাংলাদেশ সময় ১০টার দিকে কানাডার ভ্যাংকুভারের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহে……রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬০বছর। তার ভগ্নিপতি কুমিল্লার ব্যবসায়ী সালামত উল্লাহ খান তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে।
গত শতাব্দীতে বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স¡াধীনতা লাভ এবং ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১শে ফেব্র“য়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স¡ীকৃতি প্রদান। ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে’ পরিণত করার প্রথম ভাবনা আসে কানাডার ভ্যাংকুভারে অবস্থানকারী প্রবাসী বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালামের মাথায়। ২০০০সালের ৪ জানুয়ারি ইউনেস্কোর মহাপরিচালক কাইচিরো মাটসুরা এক চিঠিতে ইউনেস্কোর সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি তখন থেকে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালনের আহবান জানান। ইউনেস্কো একুশে ফেব্র“য়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধু মাতৃভাষার জন্য আমাদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকেই স¡ীকৃতি দেয়নি, অমর একুশের শহীদদের আত্মদান থেকে উৎসারিত স¡াধীনতা আন্দোলন ও স¡াধীনতা অর্জনকেও মর্যাদা দিয়েছে। জাতি হিসেবে আমাদের পৃথিবীর বুকে মহিমানি¡ত করেছে। বিশে¡র ১৯০টি দেশে এখন প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপিত হচ্ছে। ওইসব দেশের মানুষ জানছে ঢাকার বুকে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে কী ঘটেছিল, কী কারণে রফিক, সালামরা প্রাণ দিয়েছিল। একুশকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রূপদানে ভূমিকা রাখা একজন রফিকুল ইসলাম কুমিল্লার ছেলে। ১৯৫৩ সালের ১১ এপ্রিল কুমিল্লা শহরের উজীর দিঘীর পাড়ে তিনি জš§ গ্রহণ করেন। পিতা আবদুল গণি। মাতা করিমুন্নেসা। ১০ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ৮ম। কুমিল্ল¬া উজীর দিঘীর পাড় হরে কৃষ্ণ স্কুলে তার শিক্ষা জীবন শুরু। ১৯৫৮ সালে কুমিল্ল¬া হাই স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন। এইচ.এস.সি ও ডিগ্রি পাশ করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে। ১৯৭১ সালে তিনি এ কলেজের ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করেন। একাত্তরে ২নং সেক্টরে মুজিব বাহিনীর হয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেন। একাত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সম্মুখ যুদ্ধে তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম সাফু শহীদ হন। তিনি দেশে ৭ বছর প্রশিকায় চাকুরির পর ১৯৯৫ সালে কানাডায় পাড়ি জমান। সেখানে ২ ছেলে স্ত্রী নিয়ে তিনি কানাডায় বসবাস করছিলেন।




