গ্রাহকদের অজানতে উত্তোলন করা হচ্ছে গচ্ছিত সঞ্চয়
ইমরান হোসাইন, তানোর : রাজশাহীর তানোরে গ্রামীণ ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আবারো অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাংকটির ম্যানেজার কারণে অকারণে গ্রাহকদের অজানতে সদস্যদের গচ্ছিত সঞ্চয় উত্তোলন করে চলেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে অনৈতিক সুবিধা দাবি করে আসছেন তিনি। এসব নিয়ে ব্যাংকটির গ্রাহক (সদস্য) জান্নাতুনসহ বেশ কয়েকজন বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যাংকটির উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা করেছেন।
অভিযোগ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, তানোর গ্রামীণ ব্যাংক শাখার গোলাপাড়া ৫৯/ম নম্বর কেন্দ্রের জান্নাতুন নামের এক সদস্যের পাশ বই হতে ১ হাজার টাকা গচ্ছিত সঞ্চয় উত্তোলন দেখানো হয়েছে। জান্নাতুন কোন দিনই তার গচ্ছিত সঞ্চয় উত্তোলন না করলেও তার পাশ বই হতে সঞ্চয় উত্তোলন দেখানো হয়। শুধু জান্নাতুনের ক্ষেত্রে নয় ব্যাংকটির তৎকালিন সময়ের মাঠকর্মী আমিনুল ইসলামের স্বাক্ষর ব্যবহার করে বর্তমান ম্যানেজার দিপক চৌধুরী একই ধরণের অনিয়ম করে কেন্দ্রটির সদস্য মোরশেদা বেগম, জোসনা বেগম, মুস্তারী বেগম ছাড়া বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের অধিকাংশ সদস্যদের এক থেকে দেড় হাজার টাকা উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে, উত্তোলনকৃত এসব সদস্যদের পাশবই ফ্লুট দিয়ে মিশিয়ে সেখানে সঞ্চয় কম দেখানো হয়েছে। এসব অনিয়ম নিয়ে সদস্যরা ব্যাংকটির বর্তমান ম্যানেজার ও মাঠকর্মীর ব্যাপারে মৌখিক ভাবে গত দুমাস অভিযোগ করেও কোন কিছুর তোয়াক্কা করছেন না ম্যানেজার দিপক চৌধুরী। তিনি উল্টো সদস্যদের হুমকি-ধামকি দিয়ে অনৈতিক সুবিধা দাবি করছেন। এতে সদস্যরা রাজি না হলে তাদেরকে সমিতি থেকে বাদ দেয়ার পাঁয়তারা করছেন ম্যানেজার। ফলে নিরুপাই হয়ে ভুক্তভোগি সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যাংকটির উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এছাড়া ব্যাংকটির বর্তমান ম্যানেজার যোগদানের পর থেকে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রায় সময় দূর্ব্যবহার করে থাকেন। ম্যানেজারের এমন ব্যবহারে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে মূখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তারা প্রয়োজনের তাগিদেও ব্যাংকে যাচ্ছেন না। এমনই অভিযোগ উঠেছে অহরহ। এনিয়ে গোলাপাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অশুতোষ ও তানোর পালাপাড়া গ্রামের মৃন্ময় পালসহ তানোর কিশোর লাইব্রেরীর প্রোপাইটার মুকবুল হোসেন ছাড়াও একাধিক গ্রাহকরা জানান, বর্তমান ম্যানেজার যোগদানের পর থেকে গ্রাহকদের সঙ্গে কারণে অকারণে দূর্ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা দাবি করে চলেছেন। তার দাবি পূরণ না হলে তিনি গ্রাহকদের নানা ভাবে হয়রানি করছেন। এতে করে ব্যাংকটির কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার হাজারো সাধারণ গ্রাহক। এঅবস্থায় ব্যাংকটির প্রায় গ্রাহক ওই দূর্নীতিবাজ ম্যানেজারকে দ্রুত অপসারণ করার জন্য ব্যাংকটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তার জুরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এনিয়ে ব্যাংকটির ম্যানেজার দিপক চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি যোগদানের পর ব্যাংকে এমন অনিয়ম ধরা পড়েছে। তিনিই মাঠকর্মীদের অনিয়ম নিয়ে সর্ব প্রথম কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তবে, গ্রাহকদের এসব সমস্যা এক সপ্তা’র মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।




