
শামসুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) : কেশবপুর উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের দু’টি বিদ্যালয় গত ১০ বছর ধরে প্রতি বর্ষার মৌসুমে কমপক্ষে ৫ মাস যাবৎ পানি বন্দি হয়ে থাকে। এ সময় আশপাশে কোন উঁচু জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে পানির মধ্যে চলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এলাকাটি প্লাবিত হওয়ায় অধিকাংশ রাস্তাঘাট ধসে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে হয়। কর্তৃপক্ষ মাঠ ভরাট ও বিদ্যালয়ের মেঝে উঁচু করার জন্য প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে আবেদন করেও ফল পায়নি।
জানাগেছে, কেশবপুর শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী মহাদেবপুর গ্রামে ১৯৭৩ সালে মহাদেবপুর রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৯৮৫ সালে মহাদেবপুর আরবিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। সে সময় আশপাশে অন্য কোন বিদ্যালয় স্থাপিত না হওয়ায় বিদ্যালয় দু’টিতে ৭ শতাধিক ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করত। ১৯৯০ সালের পর কপোতাক্ষ নদ ভরাট হয়ে গেলে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে গ্রামটি প্লাবিত হতে থাকে। তাছাড়া ওই গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ বগার খাল দখল করে মাছ চাষ করায় গত ১০ বছর ধরে বিদ্যালয় দু’টি প্লাবিত হয়ে আসছে। বছরের কমপক্ষে ৫ মাস বিদ্যালয় দু’টি শ্রেণি কক্ষে পানি থাকে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শ্রেণি কক্ষের পানির মধ্যে চলে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ওই বিদ্যালয় দু’টি থেকে সন্তানদের অন্যত্র নিয়ে ভর্তি করছেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।

৪র্থ শ্রেণির ছাত্র আল আমিন, আলিরাজ, ৯ম শ্রেণির ছাত্রী খাদিজা খাতুন ও চুমকি দাস জানায়, গত ৩ মাস ধরে পানির মধ্যে শিক্ষকরা তাদের পাঠদান করাচ্ছে। পানির মধ্যে বেশি সময় থেকে তাদের দু’পায়ে ঘা হয়ে গেছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত পাঠদান করতে গিয়ে মাঝে মধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষক আঃ হান্নান বলেন, বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ প্লাবিত হওয়ায় কক্ষ সংকটের কারনে ৫ম ও শিশু শ্রেণির পাঠদান চলছে গ্রামের জাকির হোসেনের বাড়িতে। এখনও ৩ মাস পানি বন্দি হয়ে থাকবে বিদ্যালয়টি।
সরেজমিন বিদ্যালয় দু’টি পরিদর্শন কালে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মহাদেবপুর-সেনপুর সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রাবাহিত হচ্ছে। শ্রেণি কক্ষের ভেতর হাঁটু পানিতে বেঞ্চ দিয়ে মাচা তৈরী করে ছাত্র-ছাত্রীরা বসে আছে। পানিতে দাঁড়িয়ে শিক্ষকরা পাঠদান করাচ্ছে। সীমাহীন দুর্ভোগের পরও বিদ্যালয় দু’টি থেকে শিক্ষার্থীরা সুনামের সাথে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছে।
মহাদেবপুর আরবিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দাস সুভাষ চন্দ্র বলেন পানির কারনে মূল ভবনের অফিসসহ ৫টি কক্ষ ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সামনে বার্ষিক পরীক্ষা তাই বাধ্য হয়ে পানির মধ্যে দাড়িয়ে একই কক্ষের ভেতর দু’টি শ্রেণীর পাঠদান করাতে হচ্ছে। পানির কারনে বিদ্যালয়েল চেয়ার বেঞ্চ আসবাবপত্র নষ্টসহ ভবনটি ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে পড়েছে। পানিবদ্ধতার কারনে মেধাবী ছাত্রদের ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। স্যাঁত স্যাঁতে পরিবেশসহ পয়নিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এমতবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার আবেদন করেও কোন ফল পায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম বলেন, শুধু মহাদেব পুরের দু’টি বিদ্যালয় নয়, এ উপজেলায় ৬টি বিদ্যালয় পানিতে প্লাবিত হয়ে বলতে গেলে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে। বিষয়টি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে টিন সেট ঘর নির্মাণ করে ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অচিরেই কাজ শুরু হবে।





