শ্যামলবাংলা ডেস্ক : নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ফের ৬০ ঘন্টার হরতালের ডাক দিয়েছে ১৮ দলীয় জোট। ৪ নভেম্বর সোমবার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে ওই হরতাল চলবে বুধবার ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত। ২ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এসময় তিনি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সংলাপের বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছায় ঘাটতির অভিযোগ তুলে বলেন, সরকার সংলাপ ও সমঝোতা চায় না। প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে টেলিফোনে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে নাটক করেছেন।
তিনি বলেন, ২৯ অক্টোবরের পর নতুন তারিখ ঠিক করে সংলাপের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর জন্য বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানালেও তা তিনি (প্রধানমন্ত্রী) রক্ষা করেননি। এ থেকে বোঝা যায়, সরকার সংলাপ চায় না। তিনি বিরোধী দলের ‘জনদাবিতে’ সরকার কান না দেয়ায় ‘বাধ্য’ হয়ে এবারের হরতাল ডাকা হয়েছে বলে দাবি করে বলেন, দেশের ৯০ ভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। কিন্তু সরকার একতরফাভাবে একদলীয় নির্বাচনের পথে অগ্রসর হচ্ছে। এজন্য বাধ্য হয়েই আমরা হরতাল আহ্বান করছি। এবার সরকারকে বলে দিতে চাই, আমাদের শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার আপনাদের ওপর বর্তাবে।
বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে ফখরুল বলেন, গত ৬০ ঘণ্টার হরতালে বিরোধী দলের ২০ নেতা-কর্মীকে হত্যা, ৬ হাজারের অধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিরোধী দলের লক্ষাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তিনি অবিলম্বে জমিয়তে উলামা ইসলামের মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সহ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ইসলামী ঐক্যজোটে নেতা সাখাওয়াত হোসেনসহ আটক নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সব রকমের যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ও হাজিদের যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে। আগামী ৪ ও ৬ নভেম্বর ২১ লাখ শিক্ষার্থীর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা রয়েছে। আর ওই পরীক্ষা হরতালের আওতামুক্ত থাকবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কী কী আওতামুক্ত থাকবে, তা তো আগেই জানানো হয়েছে।
মির্জা ফখরুল সকালে ১৮ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর মহাসচিবদের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি ও শামীমুর রহমান শামীম। সকালে বৈঠকে ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর রেদোয়ান উল্লাহ শাহেদী, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির আলমগীর মজুমদার, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামিক পার্টির আবদুর রশীদ প্রধান, কল্যাণ পার্টির আবদুল মালেক চৌধুরী, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, লেবার পার্টির হামদুল্লাহ আল মেহেদি, জমিয়তে উলামা ইসলামের শাহিনুর পাশা চৌধুরী, ন্যাপ ভাসানীর হাসনাত খান ভাসানী, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন প্রমুখ।
উল্লেখ্য, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ২৭, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর টানা ৩ দিন ৬০ ঘন্টার হরতাল পালিত হয়। আর ওই হরতালে সহিংসতায় প্রাণ হারান অন্তত: ১৮ জন।




