এ্ম.এ ছালাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ) : মাটির তৈরি তৈজসপত্র বিদেশে রপ্তানী হওয়ায় মৃৎশিল্পের সুদিন ফিরে আসায় আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে নওগাঁর মহাদেবপুরের কুমারপাড়াগুলো। কাজের চাপে রাতদিন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কুমার শিল্পীরা। এখানকার কুমারপাড়ায় তৈরী মাটির সৌখিন সামগ্রী এখন দেশের বাইরেও যাচ্ছে। সৌখিন ওইসব সামগ্রীর কদর দেশে-বিদেশে বৃদ্ধি পাওয়ায় সুদিন ফিরে এসেছে ওই শিল্পের সাথে জড়িত শতশত দরিদ্র পরিবারে। মাটির তৈরী সৌখিন সামগ্রীর মধ্যে বিচিত্র ডিজাইনের খেলনা সামগ্রী, ফুলের টব, ফুলদানী, পশু-পাখি, মাছ, ব্যাংক, ও ঘটিবাটিসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিদেশে রফতানীর জন্য পাইকাররা এখান থেকে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। দামও পাচ্ছেন বেশী। আর এ কারণেই এখানকার কুমারপাড়াগুলো কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে। নানা দুর্দশার মধ্যে এখানকার কুমারপাড়াগুলো ঝিমিয়ে পড়েছিল। সে সময় তাদের দিন যেত খেয়ে না খেয়ে।
উপজেলার সুলতানপুর, খঞ্জনপুর, শিবগঞ্জ, দোহালী, দাউল প্রভৃতি কুমারপাড়া ঘুরে দেখা যায়, মাটির সৌখিন সামগ্রী তৈরীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এ সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা। সুলতানপুর কুমারপাড়ার বাসিন্দা ধীরেন্দনাথ পাল জানান, তার দাদা গোপিনাথ পাহান ও পিতা নয়ন পাহান কুমার পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। দাদা ও পিতার পথ ধরেই তিনি এ পেশাকে বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, সিলভার ও প্লাষ্টিক সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহারে মাটির তৈরী হাড়ি-পাতিলের চাহিদা কমে যাওয়ায় এ পেশার সাথে জড়িত শত শত পরিবার অনেকটা বেকায়দায় পড়েছিল। কিন্তুু বর্তমানে মাটির তৈরী সৌখিন সামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুদিন ফিরে এসেছে দরিদ্র পরিবারগুলোতে। আগে খেয়ে না খেয়ে কাটলেও এখন আর সেই দুর্দিন নেই। ওইসব সামগ্রী ঢাকা ও চট্রগ্রামের ব্যবসায়ীরা তাদের কাছ থেকে পাইকারী কিনে নিয়ে গিয়ে দেশের বাইরে রফতানী করেন বলে ধীরন্দ্রনাথ জানান। পড়ালেখার ফাঁকে তাদের ছেলে-মেয়েরাও মাটির সৌখিন সামগ্রী তৈরীতে ব্যস্ত থাকে। সুলতানপুর পালপাড়ার বাসিন্দা শ্রীমতি অর্চণা রাণী জানান, একজন নারী শ্রমিক মাটির সামগ্রী তৈরী করে প্রতিদিন গড়ে ২শ টাকা আয় করে থাকেন। এ পেশার সাথে জড়িত পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এখন ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখাতেও মনযোগী হয়ে উঠেছেন।




