স্টাফ রিপোর্টার : প্রথম ধাপে অনুষ্ঠেয় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খন্দকার শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি প্রার্থী আইয়ুব আলী। ওই হুমকির মুখে নিজেসহ শংকিত হয়ে পড়েছেন তার সমর্থকসহ নিরীহ ভোটাররাÑ এমন দাবিও বিএনপি প্রার্থীর।
অভিযোগে প্রকাশ, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী খন্দকার শফিকুল ইসলাম শফিকের পক্ষে তার কর্মীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রায় প্রতিদিনই ২০/৩০ টি মোটরসাইকেল দিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে মরিচপুরান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে বিএনপি প্রার্থী বিদায়ী চেয়ারম্যান আইয়ুব আলীর এলাকায় বিশেষ মহড়া দিচ্ছে। তারা আইয়ুব আলীর কর্মী-সমর্থকসহ এলাকার নিরীহ ভোটারদেরকেও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তার নিজ এলাকা ৭নং ওয়ার্ডে বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার, হ্যান্ডবিল বিতরণসহ কোন প্রচারণা কাজে অংশ নিতে সুযোগ দিচ্ছে না। আমেনকি ওই ওয়ার্ডে আবু রায়হান নামে এক কর্মী পোস্টার লাগাতে গেলে পোস্টার কেড়ে নিয়ে তার বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুরসহ ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ওই অবস্থায় সে এখন এলাকাছাড়া। তারা বিরোধীপক্ষের নেতা-কর্মী সমর্থক ও ভোটারদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পূর্বেই গ্রেফতার করাবেন বলেও হুমকি ছড়াচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন পথসভা থেকে প্রকাশ্যে ভোটের দিন সিল মারার সুযোগ করে দিয়ে ২০ ভাগ ভোট পেলেও শফিকুল ইসলাম শফিককে চেয়ারম্যান বানাবেন বলে তার পক্ষে কোন কোন দলীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতা হুমকি ছড়াচ্ছেন। এছাড়া নির্বাচনের কেন্দ্রগুলোতে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের জন্য তার নিকটতম আত্মীয়-স্বজন ও ইউনিয়নের মধ্যে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার পায়তাঁরা করছেন। প্রার্থী স্বয়ং প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছেন ইউনিয়নের ১০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ফকিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর কোন্নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ কোন্নগর এবতেদায়ী মাদ্রাসা, ভোগাইয়েরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মরিচপুরাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ভোটকেন্দ্র জবরদখল করে এমনকি খুনখারাবি করে হলেও চেয়ারম্যান হবেন।
প্রতিপক্ষের ওইসব অভিযোগের বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ভোট লুট ও সহিংসতা এড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ ও সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্বাচন কমিশন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর দায়িত্বশীলদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।




